ঢাকা ও নওগাঁয় উপনির্বাচনে নৌকার দুই প্রার্থী জয়ী

ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল জয়ী হয়েছেন।

ইভিএমের এ ভোটে ঢাকায় ১০.৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬.৪৯ শতাংশ।

ঢাকা-৫ এ কার কত ভোট

ঢাকা-৫ উপনির্বাচনের ফলাফল রাত পৌনে ১০টায় দনিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষণা করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দিন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন তিনি।

রিটার্নিং অফিসার জানান, ইভিএমের এ ভোটে ৪৫ হাজার ৬৪২ ভোট পেয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সালাহ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন দুই হাজার ৯২৬ ভোট।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর ৪১৩, আম প্রতীকে এনপিপির আরিফুর রহমান সুমন মাস্টার ১১১ এবং ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের আনছার রহমান শিকদার ৪৯ ভোট পেয়েছেন।

মোট ভোটারের ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে; চার লাখ ৭১ হাজার ৭১ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪৯ হাজার ১৪১ জন।

সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে এ আসন শূন্য হয়।

নওগাঁ-৬ এ কার কত ভোট

এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনকে (হেলাল) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান।

তিনি জানান, নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন (হেলাল) পেয়েছেন ১,০৫,৫২১ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে শেখ মো. রেজাউল ইসলাম পেয়েছেন ৪,৬০৫ ভোট।

আর এনপিপি প্রার্থী আম প্রতীকে খন্দকার ইন্তেখাব আলম ১,৮১৬ ভোট পেয়েছেন।

ভোটের হার ৩৬.৪৯%।

ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে এ আসন শূন্য হয়।

নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির অর্ধদিবস হরতাল ঘোষণা

নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) আনোয়ার হোসেন হেলাল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট। এই প্রথম নওগাঁ-৬ আসনে ইভিএমের মাধ্যমে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে টানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

৩৬.৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

অপরদিকে, ফলাফল ঘোষণার পর নওগাঁ জেলা বিএনপি ভোট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তারা নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দেয়।

এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি নাজমুল হক সনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, সাবেক যুগ্ন-সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টুকু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি হলেও দুপুরের পর ছিল কম। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল ইসলাম।
সকাল থেকে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি থাকলেও দুপুরের পর কম। দুপুর ১২টায় আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই।

কিছুক্ষণ পরপর একজন-দুইজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩৭৮জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮০টি। যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
ওই কেন্দ্রের বাইরে আব্দুর কাদের নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন তিনি বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হক জানান, সকালে বিএনপির এজেন্টরা তালিকা দিয়ে ভোট কক্ষে বসেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই চলে যান। তাদেরকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।
বিকেল ৩টায় আত্রাই উপজেলার আহসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছেন ৬৫৮টি। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৫৬জন। এই হিসেবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে ১৯ শতাংশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় আত্রাই উপজেলার সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দুই-তিন দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আওয়ামী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।

তিনি আরও বলেন, ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। ৯টার সময় ভোট শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং কোনো দল করে না এমন অনেক সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, ভোটের সুষ্ঠ পরিবেশের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্র এবং ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনছার বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ভোট প্রত্যাখ্যান ঢাকা-৫ এর বিএনপি প্রার্থীর

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ভোটগ্রহণ শেষের দিকে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, “আজকে ভোট হয়নি। প্রায় সব কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকেছে তাদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে।

“প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আমরা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বার বার অবহিত করেছি, তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। আপনাদের মাধ্যমে আমরা এ অনিয়মে জর্জরিত অবৈধ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।”

নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার মুখে পড়ার ঘটনাবলী তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমি এই নির্বাচনের প্রথম দিন থেকে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। এমনকি আমি মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছি সেখানেও আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমার তো জন্মগত অধিকার এ এলাকার কোনো মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া এবং তাদের কাছে ভোট চাওয়া, দোয়া চাওয়া। সেটাও আমাকে করতে দেওয়া হয়নি।

“আমরা যখন গণসংযোগে গিয়েছি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে এবং তখনই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে।”

ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দুই মহিলা এজেন্ট বোনকে অপদস্ত করে বের করে দেওয়া হয়েছে। আর কে মিশন চৌধুরী স্কু্লে আমাদের আরেক নারী এজেন্টের উপর হামলা করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার গায়ে হাতও দেওয়া হয়েছে।”

‘খণ্ড নির্বাচনে’ উপস্থিতি কম

নির্বাচন কমিশনের সব প্রস্তুতির পরও উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারীর পাশাপাশি ‘খণ্ড নির্বাচন’ নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম হওয়ার কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

শনিবার তুলনামূলক কম উপস্থিতির মধ্যে ইভিএমের মাধ্যমে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিইসি বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। দুই উপনির্বাচনে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। কোথাও কোন অসুবিধার সৃষ্টি হয়নি।

“করোনার জন্য আমরা সার্বিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে ভোট হয়। এই খণ্ড নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কম থাকে। দুই বছর/আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন সেই জন্য হয়ত প্রার্থী বা ভোটারদের মধ্য তেমন আগ্রহ নেই। পাশাপাশি করোনার একটি বিষয় তো রয়েছে। এজন্য মানুষ আতঙ্কিত- এ রকম একটা অবস্থা তো আছেই। এর মধ্যেও নির্বাচনের ট্রেন্ড ভালো।”

শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা নাগাদ একটানা ভোট চলে দুই উপনির্বাচনে।

গেল ২১ মার্চ ঢাকা-১০ আসনের উপ নির্বাচনে মাত্র ৫% ভোট পড়েছিল। তবে মহামারীর মধ্যে ঢাকার বাইরে ব্যালট পেপারে উপনির্বাচনে ৫৫% থেকে ৬৫% ভোট পড়েছে।



মন্তব্য চালু নেই