মেইন ম্যেনু

তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি, ৫৪০০ সেনা তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ৫৪০০ সেনা প্রত্যাহার করে নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তালিবান জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে কাজ করা একজন শীর্ষ সমঝোতাকারী।

আফগান নেতাদের এই চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর পর প্রথমবারের মতো একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান জালমে খালিলজাদ নামের ওই সমঝোতাকারী।

তবে খালিলজাদ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলেই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে খালিলজাদ যখন টিভিতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন, তখন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল বোমা হামলার প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।

এ হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। আহত হন এক ডজনের বেশি মানুষ। এদিকে হামলার সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশি সেনাদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

বিদেশি নাগরিকরা বসবাস করেন, এমন একটি ভবনে এ বোমা হামলা চালানো হয়। বোমা ব্যবহারের পাশাপাশি বন্দুকধারীরাও হামলায় জড়িত ছিল বলে জানায় তালেবানরা।

এদিকে এ হামলার ফলে একটি আশঙ্কাজনক বিষয় সামনে চলে এসেছে। আর তা হলো—তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তি হলেও আফগানিস্তানে নিত্যদিনের সংঘর্ষ বন্ধ হবে না।

২০০১ সালে মার্কিন সেনারা আফগানিস্তানে অভিযান চালানোর সময় দেশটির যতটুকু অঞ্চল জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানে তারচেয়ে বেশি এলাকা তাদের দখলে রয়েছে। আফগানিস্তান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠকে বসতে চায় না এসব জঙ্গিরা। কারণ তারা মনে করে আফগান সরকার আসলে র্মাকিন প্রশাসনের খেলার পুতুল ছাড়া কিছু নয়।

পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতারে নয় দফা শান্তি আলোচনার পর একটি চুক্তিতে আসতে নীতিগতভাবে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানরা। ওই খসড়া চুক্তির বিষয়ে স্থানীয় টিভি চ্যানেল টোলো নিউজে সাক্ষাৎকার দেন খলিলজাদ।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিবর্তে আফগানিস্তানকে কেউ যেন আর কোনোদিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য জঙ্গি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করবে তালেবানরা।

খালিলজি বলেন, ‘যেভাবে চুক্তি হয়েছে, সে অনুযায়ী সব ঠিকঠাক থাকলে ১৩৫ দিনের মধ্যে পাঁচটি ঘাঁটির মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান থেকে চলে যাবে।’ বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

খালিলজি যে চুক্তির কথা টিভি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন তা সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন তালেবানের এক মুখপাত্র।

তবে কাবুলে কর্মরত বিবিসির সংবাদদাতা লাইস ডোচেট জানান, একসঙ্গে সব মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে না। এরসঙ্গে কিছু শর্ত জড়িয়ে আছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়া।

এদিকে গতকাল সোমবার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যকার চুক্তির বিষয়ে জেনেবুঝে তারপর মতামত দেবেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি।

তবে মার্কিন-তালেবান চুক্তির জন্য কী ধরনের ও কতটা মূল চুকাতে হবে তা আফগানিস্তানের অনেকেই আশঙ্কা করছেন। ব্যক্তি স্বাধীনতা বিশেষ করে নারীদের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের শাসন থাকাকালে কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন এবং নারীদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগ রয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই