শিরোনাম:

তিন শীর্ষ ব্যবসায়ীর হুশিয়ারিঃ বড় কেনাকাটা বন্ধ করুন

বিশ্বের শীর্ষ ধনী, ই-কমার্সের পথিকৃত আমাজন ডটকমের উদ্ভাবক ও প্রতিষ্ঠাতা, জেফ বেজোস আমেরিকার জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে পরামর্শ দিলেন, সামনেই আসছে অর্থনৈতিক মন্দা। অতএব বড় ধরনের খরচ আপাতত স্থগিত রাখুন। তিনি আশংকা করছেন শুধু আমেরিকা নয়, বড় ধরনের মন্দা আসছে বিশ্বব্যাপি।

নিউজ চ্যানেল সিএনএনকে দেয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জেফ বেজোস বলেন, নতুন গাড়ি, বড় পর্দার টেলিভিশন, বাহারি এ্যাপলায়েন্সেস ইত্যাদি কেনার পরিকল্পনা থাকলে, কিছুদিন অপেক্ষা করুন। সেই সাথে তিনি সফল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও আপাতত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

নিউইয়র্ক টাইমস গত সপ্তাহেই প্রতিবেদন ছেপেছিল, আসন্ন মন্দা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে আমাজন ১০,০০০ কর্মী ছাঁটাইএর পরিকল্পনা করেছে। এর আগে আমাজন তাদের নিয়োগ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। উল্লেখ্য আমেরিকায় ওয়ালমার্টের পরেই আমাজন দ্বিতীয় বৃহত্তম মানুষের চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান।

গত মাসে আমাজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বছরের শেষ তিন মাস অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর তাদের সেল অনেক কমবে। অথচ খ্রিস্টমাস মৌসুমে সেল বহুলাংশে বেড়ে যাওয়ার কথা। আমাজন জানায়, তাদের স্টক মূল্য ৪০ শতাংশেরও বেশি পড়ে গেছে।

জেফ বেজোস সিএনএনকে আরো বলেন, আমেরিকার জনগণ যদি কেনাকাটা কমিয়ে কিছু অর্থ সাশ্রয় করতে পারে, তাহলে মন্দাকালে তারা কিছুটা রেহাই পেতে পারে।

সিএনএন বলছে, তাদের সম্প্রতিকালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী এখন মন্দার কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নেই। মানুষের বেতন বেড়েছে, যদিও মুদ্রাস্ফীতিও বেড়েছে। কিন্তু বাড়ি ভাড়া, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় তারা অনেকটা কাহিল। যারা স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের জন্য ২০২২ আশাব্যঞ্জক বছর নয়। আগামী বছরের পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। বিশেষ করে যারা অবসরে আছেন তাদের জন্য আরো খারাপ।
অন্যান্য বিজনেস লিডারও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। টেসলা এবং টুইটারের সিইও এলোন মাস্ক, জেপি মর্গ্যান চেজের সিইও জেসি ডিমনও গত মাসে জানিয়েছিলেন, আমেরিকায় মন্দা আঘাত হানবে আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে।

এর আগে ফেডারেল রিজার্ভ আসন্ন মন্দা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই ইন্টারেস্ট রেট কয়েক দফা বাড়িয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই রেট বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ফেডারেল রিজার্ভ আশা করছে ২০২৩’এর শেষ নাগাদ আবার ইন্টারেস্ট রেট কমানো হবে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান আমেরিকার বিজনেস ট্রেন্ড পর্যবেক্ষণ করে সেই ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বলছে আমরা ২০২২ সালে কোনো অর্থনৈতিক মন্দায় ছিলাম না। তবে আগামী বছর কি হবে বোঝা মুশকিল। উল্লেখ্য গত মাসে আমেরিকায় চাকরির বাজারে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙ্গা। তাছাড়া আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় নতুন আশাবাদের সৃষ্টি করে।

কিন্তু আমেরিকার তিন শীর্ষ ধনী এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীদের যে আশংকা তাকেও অর্থনীতিবিদরা ফেলে দিতে পারছেন না। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে।