মেইন ম্যেনু

থাই কন্যাদের উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ১৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে থাইল্যাণ্ড। শেষ পর্যন্ত থাই কন্যাদের উড়িয়ে দিয়ে ৭০ রানের বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগেই মূল পর্ব নিশ্চিত করে সালমা বাহিনী।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগ্রেস স্পিনারদের মায়াবী ঘূর্ণিতে মাত্র ১৭ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বসে থাইল্যাণ্ড। পরে বাংলাদেশি মেয়েদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ওভারে ৬০ রানে থামে থাই কন্যারা। যদিও তিনটি উইকেট হাতে থাকে তাদের।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন রতনাপর্ন পাদুংলার্ড। দুই অংকের ঘরে রান করেন আরও একজন। তিনি হলেন ওয়াংপাকা লিয়েংপ্রাসার। ১১ রান করে আউট হন তিনি। মূলত এ দুজন ছাড়া বাকি সাত জনকেই ডাবল ফিগার ছুঁতে দেয়নি টাইগ্রেসরা। এদের মধ্যে নাহিদা আক্তার ও শায়লা শারমিন নেন দুটি করে এবং খাদিজাতুল কুবরা ও অধিনায়ক সালমা খাতুন তুলে নেন একটি করে উইকেট।

তবে অনবদ্য ৭১ রানের ইনিংস ও একটি রান আউট করে টানা দ্বিতীয়বার ম্যাচ সেরা হন ওপেনার সানজিদা ইসলাম।

এর আগে ফাইনালের এ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় টাইগ্রেসরা। ব্যাট করতে নেমে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেয়ার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে ক্যারিয়ার সেরা ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন সানজিদা।

শনিবার ড্যান্ডির ফোর্টহিলে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচটিতে অনবদ্য ওই ইনিংস খেলার পথে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সানজিদা ইসলাম। একইসঙ্গে ৪৭ ম্যাচের ক্যারিয়ারে সেরা ইনিংসটিও পেয়ে যান ডানহাতি ওপেনার।

এদিন পঞ্চম ম্যাচ খেলা মুরশিদা খাতুন আউট হন ক্যারিয়ার সেরা ৩৩ রানের ইনিংস খেলে। তার আগের সেরা ইনিংসটি ছিল ৩২ রানের। থাই লেগ স্পিনার সুলিপর্ন লাওমির বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি। দলীয় ৬৮ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর দলীয় ৯৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ব্যক্তিগত ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন নিগার সুলতানা। অফস্পিনার সর্নারিন তিপ্পোচ এর শিকার হন তিনি।

এরপর শায়লা শারমিন (৩), জাহানারা আলম (৩) ও ফাহিমা খাতুন (০), দ্রুত আউট হলে রানের চাকা শ্লথ হয় টাইগ্রেসদের। তবে শুরু থেকেই একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোরকে ১৩০-এ নিয়ে যান সানজিদা। এর মাঝে ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি হাঁকিয়ে খেলেন অনবদ্য ৭১ রানের ইনিংস। তার অপরাজিত ৬০ বলের এ ইনিংসে ছিল ছয়টি বাউন্ডারি ও তিনিটি ওভার বাউন্ডারির মার।

থাই কন্যাদের হয়ে দুটি উইকেট লাভ করেন নাত্যায়া বুচাথাম। এছাড়া ক্যাপ্টেন সর্নারিন তিপ্পোচ ও সুলিপর্ন লাওমি পান ১টি করে উইকেট।

তার আগে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। একইসঙ্গে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলাও নিশ্চিত করে দলটি। অন্যদিকে, পাপুয়া নিউ গিনিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বাকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে থাইল্যাণ্ডের মেয়েরা। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে জায়গা করে নেয় ফাইনালে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ড্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের ম্যাচে মাত্র ৮৫ রানে অল আউট হয় আইরিশরা। যা ৯ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় সালমা বাহিনী।

সেদিন জয়ের জন্য ৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে রিতু মনিকে নিয়ে বিপর্যয় সামলে নেন সানজিদা ইসলাম। ৩৮ রানের জুটি গড়ে রিতু আউট হলেও বাকি পথটুকু একাই পাড়ি দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সানজিদা। তার অপরাজিত ৩২ রানের সুবাদেই ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। উঠে যায় ফাইনালে।

সানজিদার ৩৭ বলের ম্যাচ জয়ী ইনিংসে ছিল তিনটি চারের মার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন রিতু মনি। এছাড়া ১৩ রান আসে ওপেনার মুরশিদা খাতুনের ব্যাট থেকে। আর ওই জয়ের ফলে চার ম্যাচের চারটিতেই জিতলো সালমারা।

আগামী ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে মেয়েদের সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। এই নিয়ে টানা তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।



মন্তব্য চালু নেই