মেইন ম্যেনু

ফরিদপুরে সড়কে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনা, দেড় বছরে ঝরলো ৬৩ প্রাণ

ফরিদপুরে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি আর নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছোট যানবাহন চলাচলের কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া চালকদের সড়ক আইন না মানাও এসব দুর্ঘটনার অন্যতম দিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর বিআরটিএ সরকারি হিসাব মতে, গত দেড় বছরের ফরিদপুরের শুধু মহাসড়কেই প্রাণ হরিয়েছেন ৬৩ জন। এছাড়াও জেলার অন্যান্য সড়কগুলোতে ওই সময় সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমান জানান, গত দেড় বছরে জেলার মহাসড়কে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ১৯৮ জন মানুষ আহত হয়েছেন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ৬৩ জন।

গত দেড় বছরে শুধু ফরিদপুর সড়ক বিভাগে এন-সেভেন মহাসড়কের ধুলদী থেকে কোমরপুর এলাকা মাত্র দুই কিলোমিটার অংশেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০টির মতো মতো। আর এতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। এদের অনেকেই এখন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

আর জেলার অন্যান্য সড়ক-মহাসড়কেও প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনায় পড়ে অকালে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা আইন করেও ঠেকানো যাচ্ছে না এই মৃত্যুর মিছিল।

এ জেলার উপর দিয়ে যাওয়া (ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের) ১১০ কিলোমিটার অংশে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে।

ফরিদপুর কোতয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট ১৯ শনিবার মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধুলদী, কোমরপুর ও তালমার এলাকায় পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩ জন।

গত ৫ জুন ১৯ ধুলদী রেল গেট এলাকায় ঈদুল ফিতরের প্রথম প্রহরে এ কে ট্রাভেলসের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ছয়জনের প্রাণ হারায়। এসময় আহত হন কমপক্ষে ১৫ যাত্রী।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ কলকাতা থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের ধুলদী রেলগেট এলাকায় মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকসহ ছয়জন নিহত হন, আহত হন কমপক্ষে ২২ যাত্রী।

চালকরা বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারণেই প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। চালকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফরিদপুর অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘চালকদের অদক্ষতা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘মহাসড়কে ছোট যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস করা যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্প্রিডগান দিয়ে চেষ্টা করছি গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে, তবে এই ক্ষেত্রে আমাদের জনবল সংকট রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম নকিবুল বারী বলেন, ‘এ জেলার উপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-খুলনা (এন-৭) ও ঢাকা-বরিশাল (এন-০০৮) মহাসড়কের ১১০ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। এই সড়ক দুটির সবটুকু ভালমানের সড়ক। এই সড়কে চলাচলে উপযোগী যানবাহন না চলাচল করায় বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তা ভাল থাকায় চালকরা দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে, অথচ ওই গাড়ির ফিটনেস ঠিক নেই। যে কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা চালকদের জন্য কঠিন। এছাড়াও মহাসড়কগুলোতে নছিমন, করিমসহ ছোট গাড়ি বেপরোয়াভাবে চলার কারণেই এতো প্রাণহানি ঘটছে।’

সড়কের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়ক ব্যবহার প্রত্যেককেই সড়কের নিয়ম-কানুন মেনে চলার বিকল্প কিছু নেই।’

ফরিদপুর পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সড়ক-মহাসড়কের চলাচলাকারী অবৈধ ছোট যানবাহন নিয়ম-কানুন না মেনে চলাচলের জন্য দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মো. নাছির বলেন, ‘শুধু শ্রমিকরাই দুর্ঘটনার কারণ নয়। মহাসড়কে চলাচলকারী সবার সচেতন হতে হবে। শুধু আমার শ্রমিকদের দোষ দিলেই রোধ হবে না দুর্ঘটনা, এ জন্য দরকার সবার সহযোগিতা।’

ফরিদপুরের নারী নেত্রী ও ব্লাস্টের সমন্বয়ক অ্যাড. শিপ্রা গোস্বামী বলেন, ‘অপরিকল্পিত সড়ক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া মনোভাবেই বাড়ছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনারোধের আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং যানবাহন চালকদের পাশাপাশি জনগণ সচেতন হলে সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল কমে আসবে।’



মন্তব্য চালু নেই