প্রধান ম্যেনু

ধর্মের কল || এইচ. এম নুর আলম

ধর্মের কল
এইচ. এম নুর আলম


ধর্মের কল বাতাসে নড়ে এ কথা সবাই জানে-,
সবারই তা থাকলেও জানা কিন্তু ক’জন মানে?
ধর্মের নামে অধর্মের গ্লানি বাড়িতেছে দিন দিন-
সত্যের বাণী কাঁদিছে নিভৃতে বাজিছে মিথ্যার বীণ!
দিনে দিনে আজ প্রগতি স্পর্শে অসীম আকাঙ্ক্ষায়,
কেউ ছুটেছে চন্দ্রের দেশে কেউবা মঙ্গল গাঁয়—।
কেউ ছুটেছে উল্কার বেগে দেশ-মহাদেশ ছাড়ি,
কেউবা আবার গাঁজার নেশায় যাচ্ছে মাতালপুরী।

তাহারে মানুষ কয়—-?
যার হাত রাঙে মানবের খুনে খুনী সে নাহি হয়।
যে করে যত খুন-খারাবী আর ধর্ষন- সেঞ্চুরী–
তার গলে পড়ে সেঞ্চুরীমালা, মুখে ঝরে মঞ্জুরী।
যার জালিমের সীমা গেছে ছিঁড়ে, তারে মজলুম কয়!
মজলুম আজ জালিম বটে, জালিম রেহাই পায়।
নির্দোষিরা আজ দোষিদের চাপে পঁচে কারাগারে রয়,
ভীম-চন্ডাল বাহু-বীর বলে বেকসুর খালাস পায়—-।
বিচারের বাণী কাঁদে নিভৃতে জুলুমাত- আগমনে—-
সত্য-যাজক কাঠের পুতুল; নাহি দৃষ্টি, নাহি শোনে কানে।

ঐ যে দেখ, বহুত সুরত ভদ্রলোকী বেশ——-
ডাবের পানি দিয়ে গোসল আঁচড়ে তাদের কেশ।
হাজার টাকার দামি শাড়ি- লক্ষ টাকার বাড়ি-গাড়ি-
গয়না-শাড়ি-স্বর্ণ-ভরি-যাদের মুখে মিছার ঝুরি–,
পান ঠেসেছেন গালে–,
জনগণের উপোস থাকা অর্জিত সেই মালে।

আসছে ‘বাবু’ আজ শহরে রাজ-মহারাজ সাজ-
কোটি টাকার বাজে খরচ, বন্ধ সকল কাজ।
বললো এসে, শোনো সবাই আমরা সফল দল,
হেন করেছি তেন করেছি দেশেরই মঙ্গল—-।
আসছে উনি প্লেনে চড়ে-মানুষ তখন খিদেয় মরে,
নাই পেটে ভাত, বাবুরা সব-দেশের সম্পদ করছে লোপাট
দেশকে পূঁজি করে—-
ঘুরছে তারা ফূর্তি করে আকাশ-পাতাল ফেঁড়ে।

যারা যেভাবে ঠকায়ে মানুষ রথী-মহারথী হয়-
একদিন নিচয় হবে সে ভিখারী, নাহি রবে ধন-সহায়।
যে যেমন তার ললাটে তেমন, পড়বে গলে হার–,
থাকিবে না কেহ উদ্ধার তরে, সবাই সবার পর।
একদিন তার জারিজুরি সব হবে শেষ, হবে ফাঁস,
সর্বনাশে ছুঁড়বে হাত-পা, করবে সে হাসপাশ।
কিন্তু সেদিন খাঁটবে না আর জুলুমের বাহাদুরী,
ধর্মের কল নড়িবে বাতাসে ফাঁস হবে জারিজুরি।

ভন্ডরা সব প্রহর গোনো, সে দিনের অপেক্ষায়—-
যে দিন তোমার আশেপাশে কেহ রহিবে না রক্ষায়।
ধর্মের মালা পড়ে তুমি আজ গাহো অধর্মের বাণী-
দরবেশ সাজিয়া ধর্ম-বর্মে গাহিছো সত্যের গ্লানি।
মুখে গাহো সাম্যের বাণী, ‘আমি মানুষ, সব মানুষেরা ভাই,
কাহারো মাঝে আমি তো কভু ভেদাভেদ করি নাই—–।’
কিন্তু তুমি সে মানুষ হইয়া খোঁজো জাত-সাত-পাত-
খোঁজো কে মুসলিম-হিন্দু-ক্রীশ্চান, কে পাক? কে নাপাক?

তোমরা কি মানো ধর্মের বাণী?- ধর্ম কি অধর্ম-পাপ?-
ধর্মের নামে তোমরাই বহিছো যত পঁচা-মরা-গন্ধ-শাপ।
মানুষে মানুষে তোমরাই খোঁজো, মানুষের অকল্যাণ-
তোমরাই ফের দাবি করো, মোরা দেশের করিবো ত্রাণ।
মানুষ আজ পথে পথে ঘুরে, আশ্রয়-খাদ্য খোঁজে—
মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তুমি রহিছো চক্ষু বুজে।
আজ নাই মানুষের কোনো দাবি, মানুষ প্রাণির কাছে-
মানুষ হইয়া মারিছে মানুষ, মানুষের দাবি মিছে।
দেশে দেশে, জাতে জাতে আজ বাড়িছে শত্রু দিন-
মানুষ হইয়াও খুন-পিপাসু, ক্ষমতার বাজে বীণ।

আজ যাহাদের পাই যে দেখিতে হোটেল-পতিতালয়-
মানুষের চোখে-সমাজের চোখে তাহারে ‘বেশ্যা’ কয়।
কিন্তু যে পতিতার মালিক, সে ‘সাধু-ঋষি-বাবা’ হয়-
পতিতা- সেও তো মানুষ, তারও জীবন বিচিত্রময়।
যাহারা স্বেচ্ছায় করে এ বৃত্তি, সে জঘন্য পাপী-তাপী-
খেলিছে যাদের কিন্তু ক্রিয়া-কল, সে সাজে সাধু-সন্নাসী।

ভন্ডরা আজ শোনো-
আসিতেছে দিন, নাই আর বাকী, রহিবে না ছল কোনো।
বাড়িতেছে ঋণ, দিনে দিনে তার, শুধিতে হইবে জানো-
সকল মুখোশ পড়িয়া রহিবে, কপোট-প্রাণেরা শোনো।
মানব ধর্ম, খোদার ধর্ম, স্রষ্টার মহাদান———
স্রষ্টারে পুঁজো, হইবে মানুষ, গাহো তার গুণগান।



মন্তব্য চালু নেই