প্রধান ম্যেনু

ধর্ষণে ‘অন্তঃসত্ত্বা’ কিশোরীর সন্তান প্রসব

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর ‘অন্তঃসত্ত্বা’ এক স্কুলছাত্রী সন্তান প্রসব করেছে। রোববার রাত ৮টার দিকে গুরুতর অবস্থায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে তার ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক করেন রাজু আহম্মেদ (২০) নামের এক তরুণ। বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের এই ছাত্রের বাড়ি উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবার নাম আবদুল জলিল।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী আমাদের সময়কে বলেন, ‘স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে রাজু আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। একপর্যায়ে আমি তার ডাকে সাড়া দেই এবং আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে রাজু।’

এ অবস্থায় কয়েক মাস যাওয়ার পর ওই স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরিবর্তন হলে পরিবারের চাপে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি তার বড় বোনকে জানায় সে।

স্কুলছাত্রীর বড়বোন বলেন, ‘বোনের শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে জানতে পারি সে (ভুক্তভোগী) ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে জানায়, কলেজছাত্র রাজুর সঙ্গে ওর শারীরিক সম্পর্কের কথাও। এরপর রাজুকে ফোন দিলে সে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলে, “ভুল হয়ে গেছে আপা, বাচ্চা নষ্ট করে দেন সব খরচ আমি দিবো”।’

ওই ছাত্রীর বোন আরও বলেন, ‘এ নিয়ে প্রথমে এলাকার চেয়ারম্যানের-মেম্বারের কাছে অভিযোগ দিলে অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বাচ্চা নষ্ট করে দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে দেড় লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তারা। এতে আমরা রাজি না হয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীনের কাছে জানালে তিনি আমাদের আইনি সহায়তা পেতে থানায় নিয়ে যান। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পাথরঘাটা থানা পুলিশ অভিযুক্ত রাজুর বাবা আব্দুল জলিলকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজুকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।’

এদিকে, ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে বিচারিক হাকিম সুব্রত মল্লিক, পাথরঘাটা সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি এম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের ও পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন নবজাতকের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে মা ও সন্তানের খোঁজ-খবর নেন তারা। এ ছাড়া বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন নগদ পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন। এ সময়ে তারা শিশু পুত্রকে ‘জয়’ নামে নামকরণ করেন।

বরগুনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি এম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, ‘নিষ্পাপ শিশুটি যাতে তার পিতৃ পরিচয় পায় সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাথরঘাটা পুলিশ তদন্ত করে যাচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করে দেখা হবে অভিযুক্তের।’



মন্তব্য চালু নেই