প্রধান ম্যেনু

নাজমীন মর্তুজা’র ৫টি প্রতিবাদী কবিতা

আমিবাদ তুমিবাদ
নাজমীন মর্তুজা

রোজ দৃকপাতহীনভাবে চলে যাই
পাশ কাটিয়ে,
এ এক বীভৎস রচিত বাস্তবতা,
যা কিছু দেখা
অতি কঠিনের চেয়েও সত্য।

যতই নারীবাদ পুরুষবাদ
সমবাদ অসমবাদ করে
আগুনের চিৎকার উড়ে ফেসবুকে
মুখ তো নয় যেন বিষন্ন কাঠ
চলমান অস্থির মিছিল।

যারা প্রকৃত বাতাবরন রচনা
করে,
একটু জল চায় তাও তোমারই হাতে
তবুও তারা কান্নাগুলো
আলাদা করে।

টেনে নিয়ে যায়
তারা দীর্ঘ আহাজারি হুংকারের
দীর্ঘ কবিতায় ফেসবুকের
গুটি কতক চরিত্র রচনা করে
তারা বহন করে
প্রেম আঘাত অবিশ্বাস।

তাড়িত নারীর বুকের ধুকপুকানি
পেটিকোটের ভোরের গিঁট ছাড়ার
হিসাব?

কিন্তু রাত হলে বিষন্ন ছাদ
কিংবা বিছানায় নেড়েচেড়ে
পাশবালিশকে পুরুষ বানিয়ে
জড়িয়ে ঘুমায়।

তবে কি করে উটের চামড়া
চিনলো,
তোমরা যারা মানুষের অস্তিত্বকে
নিয়ে ভাষার প্রগাঢ় মায়া রচনা করছ
কেউ কি বিষন্নতাকে আত্মসাৎ করে
টইটুম্বুর হতে পেরেছো কখনো?

গায়ক, কবি, লেখক, চারুকলার
উন্মেষকে নেতি করে।

তৃতীয় বিশ্বের মানুষের স্বপ্নগুলো
এখনো আদুল শরীর
একচিলতে সবুজ ভ‚খন্ড কাঁচালংকা
জানি জানি তোমাদের মজবুত
পাহাড়েও হাওয়া দেয়
নতুন প্রত্যাশা জাগায়!

অন্ধ স্কুলের ঘণ্টা যতই বাজাও
কুলুঙ্গিতে আগুন তো তোমাকেই
দিতে হবে উজল করতে
সময়কে।
আমি তো সেই গান্ধীবাদে
পড়ে আছি
‘অহিংসা ও প্রীতির মধ্যে
যে বীরত্ব নিহিত
তা হিংসায় নেই’।
তাই আমিও গান্ধীর সাথে
‘বলি , আই এম ইন এভরিবডি
এন্ড এভরিবডি ইজ ইন মি’
‘ম্যান ফর ম্যান, দা স্ট্রেন্থ
অফ নন ভায়লেন্স ইজ ইন
এগেইন্সড প্রপরশন টু
দি এবিলিটি নোট দা উইল
অফ দা নন ভায়লেন্ট
পার্সন টু ইনফ্লিক্ট
ভায়লেন্স।’

*************

শক্তি ও ভক্তি
নারীমুক্তি
নাজমীন মর্তুজা

শহরের তরুন তরুণীরা যেখানে
খোলামেলা হতে শেখে
তার নাম হাতির ঝিল।
শহরের তরুণীরা যেখানে হালুম হয়ে যাবার হাত থেকে বাঁচে
তার নাম হচ্ছে ফেসবুক।
এ যেন কুমিড় তোর জলে নেমেছি খেলা
জলে নামবো কিন্তু জল ছোঁব না।
কত কত নারী মওকা পেয়ে
কত অধমের পিঠে চড়ে টপকে
পেড়িয়ে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর মালেশিয়া।
আহা! কাল মার্কস পণ্য হিসাবে প্রেমের
রুপান্তর সম্পর্কে কিছুই কেন লিখে গেলে না!
এখন প্রেম প্রেম আবেগের অফারে তুলকালাম বাজার গরম
যাদের মনে প্রেম নেই
দীনের দুর্দশা পিঠের ঝোলাও ফুটো তাদের।
পণ্য সর্বস্ব সমাজে বিউটিপার্লার গুলো
দেদার জমেছে
কারা সবচেয়ে প্রমাণ সাইজের ক্রেতা?
সরকারী কর্মকর্তা সম্মিলিত সংস্কৃতি জোট
রাজনৈতিক শ্রমীক ঐক্য চলচ্চিত্রের ফ্রেমের মালিক
প্রত্যেকেই নিজের পণ্যের পাবলিসিটে ওস্তাদ।
তবু মেয়ে তোমার কাছে ভিক্ষা চায়
নায়ক নয় তবু সাজে
বাঘ নয় তবু রয়েল বেঙ্গল টাইগার
কে চায় না ভিক্ষা?
পরিবেশবাদী বুদ্ধিজীবী সব্বাই কনজার্ভেশন ও ইকোলজীর আঙিনা দূষিত করে।
বলছি মেয়ে তুমি চিনাবাদামের লোভে
ফুলের মালা মাড়িয়ে যাচ্ছো
যারা পাজামা খুলে ম্যাডোনার স্থাপত্যে প্রগ্রাব করে
তারা শিল্পের আর্কিটেকচারকে
জুতা খুলে ভক্তি জানালেও
তোমার নিজের নিজেকে ইনফেরিয়র ভাবাতে বাধ্য করে।
কত রাবার ঘষে মাতৃজনিত দাগ মুছবে আলেয়া
তোমার ওজন তবুও শূন্য।
অহো! আল মাহমুদ
তোমার কবিতার লাইন খুব মনে পড়লো
‘মক্তবের মেয়ে চুল খোলা আয়েশা আক্তার’
কত আধুনিক মক্তবে চুল খুলে বসেছে তখন!
এখন মক্তব বাজার, ভার্সিটিতেও রঙ বাহারী রুমালে ঢাকছে মাথা
কোন আয়শা আক্তার আর চুল খুলে মক্তবে যায় না।
নারী নিজের প্রোণোদনায় নিজেকে চিনতে
ব্যর্থ তুমি;
মনে রেখো যারা পেটিকোট প্লাজো পড়ে না
স্কিনি প্যান্ট পরে তারা হ্যাঁচকা টান খায়না।
তোমার রঙ করা চুল দেখে
পুরুষরা লোমের মসৃনতার গল্প জুড়ে দেয় কফির কাপে
আর তুমি শুধু আমও হারাও ছালাও হারাও।
তুমি রাজী হও সারোগেট মাদার হুড
টেস্টটিউব হ্যাচামল, ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন।
মানুষ পয়দা হয় জননেন্দ্রিয় থেকে নয়
কারখানা থেকে
তুমি মাদার মেশিন
তুমিই তো মস্ত প্রহসন
কি নাম দেবে এর
নারী মুক্তি শক্তি ও ভক্তি।

********

পাল্টে যাচ্ছে অনুভুতি
নাজমীন মর্তুজা

থরহরি শরীরে কতো শত বাস্তব জ্ঞানের
সঞ্চার হয়েছে, সাত ঘাটের জল খেয়ে
বড় হতে হয়েছে।
এ জীবন স্পষ্ট,
সমগ্র জগৎএকই
একটা ঠাট্টা মাত্র?
এসব কিছুর মানে কি?
কেন রচিত জড়ো জগৎ, এই চৈতন্য
এই প্রাণ!
জবাব পাই না…

হেমন্তের কুয়াশার মতই
সৃষ্টির সত্যগুলি অবগুণ্ঠনে ঢাকা,
স্থির নিরুত্তর,
সাত ঘাটের জল খেয়ে খেয়ে
ভিন দেশে নোঙর ফেলে বসে আছি চার সাল।
আর কোন বন্দর ডাকলো না,
কোথাও যাওয়ার নাই।
এ শহরের রাস্তায় আঁতিপাঁতি
খুঁজি প্রিয় ঋতুগুলি,
সেতাবগঞ্জ, মঙ্গলপুর, কাহারোল,
মোল্লা পাড়া, বাজনাহার বকুলতলার
সীমানায় ছিল আমার খেলা,
কোথায় তারা ?
খুঁজি আর খুঁজি,
ভাঙা চোরা উপচে পড়া বিন,
বৃক্ষহীন ফুটপাত, জনাকীর্ণ ময়দান,
পিঙ্গল আকাশ,
কোথায় তুই ?
স্মৃতির আনাচে কানাচে পদশব্দ শুনি
ত্রস্ত হরিণের মতো পালায়,
যে ঢাকা শহরে বাস করেছি
এক যুগের অধিক,
সেখানে কোটি ছাড়িয়ে মানুষ
পোকামাকড়দের জীব জন্তুর
গাছপালার জায়গা কেড়ে নিচ্ছে
লুটেরার মতো।
প্রকৃতি লক্ষ্মী পিছুতে পিছুতে
চৌকাঠের বার
ঋতু চক্র উঁকি ঝুঁকি দিয়ে ফিরে যায়,
ঢাকা শহর গভীর গভীরতর
অসুস্থ এখন
দেশের সবচেয়ে বড় বিপদ
জনগণের বাড়বাড়ন্ত।
বুদ্ধিমান কূটনীতিকরা বুঝতে পারলেন না মোটে !
মনুর সন্তানেরা চোরাপথে ¯্রােতের
মতো এসে দেশ ভাসিয়ে দিল,
সাড়া দেশ জুড়ে ধস্ত করে
দিল প্রকৃতিকে, উবে গেল
দÐক বন, দাঁতন কাঠির টান
পড়ে যায় সুন্দরবনে।
হারিকেনের মায়াবী আলোয়
শুরু হয়েছিল শৈশব
বাড়িতে প্রথম টেলিভিশন
এলো যখন, আমার মায়ের তখন
বয়স বাইশ,
গ্যাসের উন্নয়ন চুরাশিতে, এক জীবনে
মায়ের অনেকবার জন্মান্তর ঘটে গেল,
টেলিভিশন, মাইক্রোওয়েভ,
কম্পিউটার, স্মার্ট ফোনের ঘেরাটোপের
মধ্যে বসেও কেন যেন
ভ্রমবশে চমকে উঠি,
জীবনের কন্ট্রাক্টর কেউ কি চেঁচিয়ে বলছে
পিছনের দিকে বড্ড এগিয়ে গেছেন ম্যাডাম!

*************

ভূমিপুত্র
নাজমীন মর্তুজা

মোষের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াতে
দেখছিলাম আখ ও পাটক্ষেতের
এক বাক্সে রহস্য।

যে কিশোর লেদ মেশিন মুছত
তার মর্মমেঘ থেকে বৃষ্টি নয়
মাধ্বী ঝরে পড়তো।

এক জীবনে শরীর একমাত্রিকতায়
থেমে থাকে না,
প্রেমের বহু রৈখিকতায় নবীকরণ ঘটে
জঠরের অন্ধকার ভেদ করে
যেমন আলো আসে চোখ মেলতেই
আততায়ীর মত আঘাত হানে।

জলে ধুয়ে যাওয়া আগুন তো আগুনই
সময়ের বেড়াল পাড় হয়-
শৈশব কৈশোর যুবা পড়ন্ত বেলার
পথ ধরে।

জীবনের ঝাড়খÐ সীমান্তের
কাছে যোগাযোগ
এই একটা শব্দেই হ্যাজাক জ্বেলে
সুখ দু:খের পিকনিকে মাতি,
সক্রেটিসের পৃথিবী জানতে হয়।

পাওয়া কিংবা না পাওয়ার মেলায়
হয়তো ডাকে না কেউ
জীবনের পথে পথে উত্তর খোঁজার চেষ্টা।

পার হয়ে আসা বেড়ালের
নখ আঁচড়ের সম্ভাবনা স্বতন্ত্র,
লেদ মেশিন মুছে এসে
আমার চোখে বাংলাদেশের
মানচিত্র আঁকে সেই যুবক।

আমি তার দিকে তাকিয়ে
নিঃস্বতার অভিব্যক্তি সুন্দরের
আর্তনাদ দেখি;
যন্ত্রের তর্জনী কেড়ে নিয়েছে
তার সহজ প্রকৃতির অধিকার
কে দেখাবে তাকে সরল ও
সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন…।

*************

আমরা সবাই সংস্কৃতিবান
নাজমীন মর্তুজা

কারা-বা রাষ্ট্রদ্রোহী, কারা-বা রাষ্ট্রের দুশমন?
কে ফেইসবুক বন্ধু, কে-বা ঘরের বিভীষণ?

যদি জিজ্ঞাসা করি নিজেকে
একই উৎস মুখ থেকে জবাব আসবে-
‘নিজেরই ঠিক নাই গাল ফুলিয়ে প্রশ্ন করছে!’

অরণ্যের আঁতুড়ঘরে যার জন্ম
তার লজিকবিজ্ঞান, যুক্তি কতটুকু গ্রহণীয়?
আর যে সোনার চামচ মুখে জন্মেছে
তার লজিকবিজ্ঞান কতটুকু পাণ্ডিত্যের?

স্তুতি কারা করে
আসলে কাদের করে সম্বোধন?

মানুষ বড় অদ্ভ‚ত বটে
একই মুখে উপরঠোঁটে দ্রোহ, নিচঠোঁট দুশমন!

সকল অভ্যুদয় ঘটছে একসাথে
একই উৎস মুখ হতে
তবুও যায় না বোঝা
কে প্রিয় বন্ধু, কে প্রিয় শত্রæ জন?

মাঝে মাঝে ট্রিগারে হাত দিয়ে দেখতে ইচ্ছা হয়
কতটুকু আঙুল কাঁপে থর থর
যতটুকু হাত কলম ধরলে কাঁপে ঠক্ ঠক্
খেয়াল করি খুব, কান পেতে শুনি
মেঘের উপরে মেঘের ঘর্ষণ
আর মানুষের সাথে মানুষের প্রহসন!

আমার খুব ভাষণ শিখতে ইচ্ছা হয়
রাষ্ট্রদ্রোহীকে গালাগাল দেবার জন্য
আমার খুব দুধর্ষ শাবক জন্ম দিতে হচ্ছে হয়
শেখাতে ইচ্ছা করে কেমন করে ধরতে হয়
এক হাতে বাঁশি, আরেক হাতে রণতূর্য!

মাল্টিভিটামিন গামী চোষা শাবকেরা
অস্ট্রেলিয়ান মাইলো অব কমপ্ল্যানের ডিব্বায় যারা
মগজ বৃদ্ধি করে

তারা কি জানে, কচুঘেঁচুর পুষ্টিগুণ?
তারা জানে? আর্সেনিক-কীটনাশকের বিষমাড়িয়ে
কি করে বিশ্বকাপ ক্রিকেট মাঠে নামতে হয়?

এখন তো ফঢকাবাজ আর ঋণ খেলাপিদের হাতে পুঁজি ও মূলধন
তাই দরিদ্র বিমোচনের রহস্যভেদ করতে
হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছে মোবাইল ফোন!

চব্বিশ ঘন্টার চ্যানেল খুলেছি আমরা
বিউটি কনটেস্ট, মিউজিক আইডল, দারুণ সব টক শো!
কেবল মজবুত দাঁতের ঝিলিক আর কি!
বছর বছর রজত জয়ন্তী পালন
উন্নয়ন উন্নয়ন!



মন্তব্য চালু নেই