মেইন ম্যেনু

নাদিয়া || ওমর ফাইয়ায

যমুনা ফিউচারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নাদিয়া, একটা সপ এ জব হওয়ার কথা আছে, জবটা খুবই প্রয়োজন, আব্বু মারা যাওয়ার পর বড় মেয়ে হিসেবে তার উপর দায়িত্ব এসে পড়েছে ছোট ভাই বোনের দেখাশোনা পড়ালেখা করানোর।ছোট দুই ভাই এক বোন, ছোট বোনের নাম ফাতেমা ক্লাস টেন এ আর ছোট দুই ভাইয়ের এক ভাইয়ের নাম আরিফ ক্লাস ফোরে আরেক ভাই ফাইভে পড়ে, ঢাকার শহরে অনেক খরচ, সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে পড়েছে তা না হলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে তাকে জবের জন্য দৌড়ানো লাগতোনা। বয়স হয়েছে তবুও বিবাহের ব্যাপারে তার আম্মু কিছু বলেন না; কারণ তার আয়ের উপর প্রায় পুরাটা পরিবার নির্ভর করছে, তার একার কষ্টে যদি চারজন মানুষ হাসি খুশি থাকতে পারে তাহলে খারাপ কী? আম্মু ঘরে বসে কিছু কাপড় চোপড় সেলাই করেন তাতে সামান্যকিছু আয় হয়

– তোমার নাম কি?
– নাদিয়া।
– আগে জব করেছো কোন?
– হুম, করেছি।
– এখানে জব করতে হলে খুব চটপটে হতে হবে পারবে?
– হুম, হয়তোবা।
– মাথা নিচে দিকে কেন? আমার দিকে ভালোভাবে তাকাতে না পারলে কিভাবে জব করবে? এই জব করতে হলে মানুষের সাথে ভালোভাবে মিশতে হয়!
– পড়াশোনা কেমন করেছো?
– ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলাম বাধ্য হয়ে জবের সন্ধানে ঘুরপাক খাচ্ছি।
– তাহলে তো জবটা খুবই জরুরী?
– জ্বি অনেক অনেক জরুরি, জবটা হলে আমি খুবই উপকৃত হবো।
– ঠিকাছে আগামি মাসের প্রথম তারিখে চলে এসো। ওহ আরেকটু কথা, এখানে জব করতে হলে আমাকে কিছুটা খুশি রাখতে হবে বুঝলে?
– জ্বি স্যার আপনি যেভাবে বলবেন আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো কাজটি ভালোভাবে আঞ্জাম দেওয়ার।
– তুমি বোধহয় বুঝো নাই আমি বলতে চাচ্ছি যদি তোমাকে আমি কখনো একান্তে ডাকি কিছুক্ষণ কাছে রাখি তাহলে আমার কথার গুরুত্ব দিতে হবে বুঝছো?
নাদিয়া চুপ করে আছে, মাথা নিচে নেমে গেছে, এসি আছে মাথার উপরে ফ্যান ঘুরছে তবুও গাল বেয়ে ঘাম পরছে, চোখে পানি এসে জমছে।
– স্যার আজ আসি পরে কথা হবে।

– আম্মু আপু কোথায় গেছে? ফাতেমা জিজ্ঞস করলো!
– আগের জবটাই নাকি প্রবলেম হইছে নতুন একটা জবের কথা আছে সেখানে গেছে! কেন কি হয়েছে?
– না আরিফ তো বেশি অসুস্থ, তিনদিন হয়ে গেছে এখনো পেট ব্যথা সারছে না একটু ডাক্তার দেখালে ভালো হতোনা?
– হুম দেখানো তো দরকার তোর আপু আসুক।
– আম্মু আর দশ তারিখে আমার পরিক্ষা, ফি-টা তো দেওয়া হয়নাই।
– তোর ফি কি আমি দেই? আমার কাছে কেন বলিস!
– না আপু আসলে একটু বলবা!

ফাতেমার ব্যপারে কিছু কথা না বললেই নয়, ফাতেমা তার আপুর মতই অসম্ভব সুন্দর, ফাতেমা যখন ক্লাস সেভেনে পরে তখন থেকেই বিভিন্ন ছেলেরা প্রপোজ করতে থাকে, ফাতেমা কখনোই কোন প্রপোজে কান দেইনা; কারণ সে গরীব, তার আপু খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে গরীব মানুষকে সাধারণ মন থেকে কেউ ভালোবাসেনা এর বড় প্রমাণ হলো বিয়া করতে চাইলে কেউ রাজি হয়না সবাই চাই সাময়িক বিনোদন! সাময়িক কিছুদিনের জন্য খুব ভালোবাসবে কিন্তু উদ্দেশ্য অর্জন হলেই দৌড়ে পালাবে, সো কখনোই কারো প্রলোভনে পরবিনা যা হয় আমাকে আগে বলবি আমি দেখবো কী করা যায়!

আপুর উপদেশ উপেক্ষা করে নাইনে থাকতে রিলেশনে জড়িয়ে পরে এক ধনীর দুলালের সঙ্গে। দুএকবার দেখাও হয়, তৃতীয়বার দেখা করার কথা থাকে মিরপুর-১ কেএফসিতে কিন্তু কেএফসিতে না গিয়ে চলে যায় ধানমন্ডির দিকে। কোন কথার উত্তর দেইনা ছেলেটি, এক পর্যায়ে এক বন্ধুর বাসায় উঠে বাসায় গিয়ে দেখে আরো দুটি ছেলে, বুঝতে পারে জঘন্য কিছু ঘটবে খুবই জঘন্য!
তখন ফাতেমা বললো, অনেক সময় গাড়িতে ছিলাম তো আমার বমি আসতেছে। প্লীজ একটু ওয়েট করো আমি বাথরুম থেকে আসতেছি!
এই কথা বলেই দৌড়ে রুম থেকে নিচে নেমে যায়।
পরবর্তীতে ফাতেমা একটা এসএমএস করে যে আমি তোমাকে তো মন থেকে ভালোবেসেছিলাম অনেক ভালোবেসেছিলাম; কেন চিটিং করলে আমার সাথে?
ফাহিম বললো, আমি দুই বছর ধরে তোমার পিছনে ঘুরেছি।
আমার অনেক কষ্ট হয়েছিলো একপর্যায়ে জেদ ধরলাম তোমার সাথে রিলেশন করবোই এবং তোমার ক্ষতি করবোই সে জন্য এমন করেছি।
ফাতেমা এরপর থেকেই দৃঢপ্রতিজ্ঞবদ্ধ হলো আর কখনো আপুর কথা অমান্য করবোনা।

– ফাতেমা দেখতো আরিফ কী বলে!
– ঠিকাছে আম্মু!
– আরিফ কি হয়েছে?
– আপু খুব পেট ব্যথা করতেছে,
– সকালে কিছু খেয়েছিস?
– বিস্কুট খেয়েছি!
– দাঁড়া লেবুর পানি এনে দিচ্ছি।
– নাদিয়া আপু আসলে তোরে নিয়া ডাক্তারের কাছে যাবো।

আরিফ এক সময় ছিলো খুবই চটপটে সব সময় ফ্রিজের আশ পাশে থাকতো মাঝে মাঝে ফ্রিজের উপর উঠে বসে থাকতো। সারাদিন খায় খায়!

এক সময় ওর আম্মু রাগ করে বলেই ফেললেন আল্লাহ যেন তোর খাওয়া দাওয়া জনমের মত বন্ধ করে দেন।
বাস্তবেই এখন বন্ধ হয়ে গেলো! সারাদিন শুয়ে থাকা আর পেট ব্যথায় চিৎকার করাই এখন তার নিত্যদিনের কর্ম।
মায়েরা অনেক সময়ই রাগ করে ছেলেমেয়েদের উপর অভিশাপ করে বসে এটা মন থেকে তারা বলেনা কিন্তু অনেক সময়ই মায়ের এই কথা গৃহীত হয়ে যায়, তখন হাউমাউ করে কেঁদেও আর ফেরাতে পারেনা। এজন্য মায়েদের রাগ মাথায় ও সতর্ক থাকা উচিৎ কারণ তার কথাই এক সময় তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
পিতামাতা তার সন্তানকে অনেক ভালোবাসে তাদের সুখের জন্য অনেক কষ্ট করে কিন্তু এই পিতামাতারই সামান্য ভুলের কারণে তার সন্তানের লাইফটা ডেস্ট্রয় হয়ে যায়।

– এতক্ষণ লাগলো তোর আসতে?
– জ্বি আম্মু, জ্যাম ছিলো তো অনেক তাই!
– ঐযে আরিফ কাঁদতেছে দ্যাখ তো কি বলে!

ফাতেমা বললো যে তুই আসলে ও নাকি আরিফকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবে! ওহ তোর জবের কি হলো?
মাথা নিচু করে নাদিয়া বললো বলেছে এক তারিখে যেতে!
– ওহ তাহলে যা, ওটার তো স্যালারি ভালো।
– শুনো আম্মু আমি কাল আবার একটু ধানমন্ডি যাবো আমার ফ্রেন্ড সুমি বলেছিলো ওখানে নাকি একটা জব হতে পারে!
ক্যান আবার ওখানে যাবি? এটাই ভালো করে ট্রাই কর।
– ঠিকাছে আম্মু ভেবে দেখতেছি!

কিছু কথা খুব কাছের মানুষকেও বলা সম্ভব না, নাদিয়া তার আম্মুকে অনেক ভালোবাসে কারণ তাদের প্রতি তার আম্মুর অনেক ত্যাগ রয়েছে; যেটা নাদিয়া সচক্ষে দেখেছে। রাতের পর রাতে না ঘুমিয়ে কাপড় সেলাই করেছেন, সেই সেলাইয়ের কিছু টাকা দিয়েই তিনি পরিবারকে টিকিয়ে রেখেছেন। কখনো খেয়েছেন আবার কখনো লাগাতার কয়েক বেলা না খেয়ে থেকেছেন। নিজের ক্ষুধার্ত অবস্থা গোপন রেখে ঠিকই আমাদেরকে পেট ভরে খাবার দিয়েছেন। কঠিন অসুস্থতার মধ্যেও ডাক্তার দেখাননি বরং অসুস্থতা পাত্তা না দিয়ে কাজের চেষ্টা করেছেন এই মায়ের কথা কিভাবে অমান্য করা যায়! এই মাকে কিভাবে কষ্ট দেওয়া যায়!! এই মায়ের চোখ থেকে কিভাবে পানি ঝরানো যায়!! লাভ ইউ আম্মু!

নাদিয়া আরিফের কাছে বসে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে আরিফ? খুব বেশি অসুস্থ?
– জ্বি আপু অনেক পেট ব্যথা!
– কি খেয়েছিস?
– বিস্কুট আর ফাতেমা আপু লেবুর সরবত দিয়েছেন ওটা খেয়েছি।
– এখন কেমন লাগছে?
– একটু কম কিন্তু ব্যথা আছে!
– কয়েকদিন পর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো এখন আমার জবের একটু প্রবলেম হচ্ছে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালোনা।
– আপু আমার অসুস্থতা ভালো হলে তোমার সাথে ঘুরে বেড়াবো, শিশুমেলা-শিশুপার্ক যাবো। অনেকদিন হলো আমি বাহিরে বের হতে পারিনা।
– ঠিকাছে কোন সমস্যা নেই তুই যেখানে যেতে চাইবি নিয়ে যাবো।
– তোর এখন কিছু খেতে মন চাচ্ছে?
– না আপু আমি কিছু খাবোনা আমার পেট ভরা।
– ইচ্ছা না হলেও খেতে হবে তা না হলে অসুস্থতা বাড়বে। আমি বাহির থেকে কেক আর স্যান্ডউইচ নিয়ে আসছি ঐগুলা খেয়ে নে।

– ফাতেমা কই? ফাতেমা!
– জ্বি আপু!
– তুই সব সময় আরিফের পাশে থাকবি ওর একা একা খুব কষ্ট হয় বুঝিসনা?
ওর সাথে গল্প করবি দুষ্টুমি করবি। ও ভালো থাকলে তো অনেক দুষ্টুমি করতি এখন এমন ঝিমিয়ে গেছিস ক্যান?
আর আমি ওর জন্য কিছু নিয়ে আসছি ওকে দে। না খেতে চাইলেও জোর কর, অসুস্থ মানুষ কি খেতে চাই? জোর করে খাওয়াতে হয়।
ভাইয়ের জন্য একটু কষ্ট কর ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে আর আমার জবটা হলেই ও কে ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।

অনেকদিন পর্যন্ত ফাহিম আবার ফাতেমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলো বার বার মাফ চেয়েছিলো, ফাহিমের অনুরোধে বাধ্য হয়ে নাদিয়ার কাছে বলেছিলো; নাদিয়া স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে- এক ভুল লাইফে দুইবার করিস না। আল্লাহ কোনক্রমে বাচিঁয়ে দিয়েছেন আর ঐপথে যাসনা; যে মানুষ একবার ধোকা দিতে পেরেছে সে আবারো ধোকা দিবেনা এর কী নিশ্চয়তা আছে? আর ফাহিম ধনী মানুষ ওদের সাথে আমাদের কোনদিক দিয়েই মিল হয়না। যদি বেশি ভালোবাসার কারণে বিবাহ হয়ও টিকবেনা, আবেগ বেশিদিন স্থায়ী হয়না। যেমন আছিস থাক অপেক্ষা কর ইনশাআল্লাহ ভালো কোথাও তোর বিবাহের চেষ্টা করবো।
– আপু তুমি বাবাহ করবেনা?
– আমাকে নিয়ে তোর টেনশন করতে হবেনা আমারটা আমিই ভালো বুঝি।
– ঠিকাছে আপু, কিন্তু তোমার পরই আমার সিরিয়াল সেজন্য বলছি হিহি।
– যাহ তো ফাজলামো করিসনা মেজাজ ভালোনা।

তারপর থেকে ফাহিমের সমস্ত নাম্বার ব্লক করে দিয়ে এসমস্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ফাতেমা।

– সুমি কোথায় আসবো ধানমন্ডি?
– তুই সংকর আয়!
– ঠিকাছে!
মিরপুর লিংক বাসে বসে আছে নাদিয়া, ধানমন্ডি সুমির কাছে যাচ্ছে জব হতে পারে এই আশায়!
নিজের সতীত্ব টিকিয়ে রেখে ঢাকায় জব করা খুবই মুশকিল ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছে নাদিয়া! কিন্তু এমন জঘন্যতম কাজ কখনোই করবেনা যদিও না খেয়ে মারা যায়, যে কাজ জীবনে করিনাই সে কাজ কখনোই করবোনা।
– আপা ভাড়াটা দিন!
– কত?
– ত্রিশ টাকা!
– বিশ টাকা আছে? থাকলে দিন আমি পঞ্চাশটাকার নোট দিচ্ছি।
নাদিয়ার পাশে যে বসেছে একজন বয়স্ক মানুষ দাড়ি আছে, দাড়ি অনেকটাই পেকে গেছে তবুও বার বার গা ঘেসে বসতেছে। নাদিয়া সড়ে বসছে তবুও গা ঘেসার চেষ্টা করে যাচ্ছে এই মুহূর্তে কেউ একটা চড় দিলে হতো!
– আংকেল প্লীজ একটু সড়ে বসেন!
– ওহ ঠিকাছে!আপনি কোথায় যাবেন?
– জ্বি আংকেল আমি ধানমন্ডি যাচ্ছি!
– কেন যাচ্ছো?
– একটা জব হওয়ার কথা আছে তাই!
– ওহ তোমার জব লাগবে? তো আমিই তো দিতে পারি। বিশ হাজার টাকা বেতন।
– সত্যি? যদি হয় তাহলে খুব ভালো হবে আমার খুব প্রয়োজন।
– ওহ তোমার নামটা কি যেন?
নাদিয়া!
– নাদিয়া শোন, আমার বয়স বেশি না অল্প বয়সেই আমার চুল দাড়ি কেন যেন পেকে গেছে সো আমাকে আংকেল না বললেই খুশি হবো!
নাদিয়া মাথা নাড়লো, ওহ ওকে।
তুমি কবে আমার কাছে যেতে পারবে? আমি গুলিস্তান জিপিওতে থাকি আমার নাম্বারটা রাখো 0172……….!

– সুমি কেমন আছিস?
– আমি ভালো আছি তুই?
– আমিও ভালো কিন্তু জানিসতো ছোট ভাই অসুস্থ টেনশনে আছি জব খুব দরকার!
– দোস্ত তোর জন্য কথা বলেছিলাম আজ আবার দুজন গিয়ে কথা বলবো কিন্তু একটা প্রবলেম!
– কী ?
– মানে সে একটা শর্ত দিয়েছে যেটা পূর্ণ করা কঠিন।
– কি শর্ত?
– মানে সে বলেছে তাকে খুশি করতে হবে, তারপরেও চল দুজন গিয়ে একটু কথা বলি তোর দূর্দশার কথা বলি দেখি কিছু করা যায় কিনা? দেখি শর্তটার কোন সিস্টেম করা যায় কিনা?
– সুমি কী করবো বল সবাই একই কথা বলতেছে, থাক আর ওখানে যাবোনা।
– না চল যায় কথা বলি!
– না লাগবেনা আমার ঐ জব!
– ঠিকাছে জবের ঐখানে যেতে হবেনা চল আমার বাসায় যায়!
– ঠিকাছে চল!
– ওহ সুমি আমাকে বাসে একটা লোক নাম্বার দিয়েছে তার কাছে নাকি জব আছে বিশ হাজার মত বেতন হবে যাবো ওখানে?
– ধুর এসব বাজে লোক এদের সাথে দেখা করিসনা প্রবলেম হবে।

পাঁচ তারিখ স্যারের সামনে বসে আছে নাদিয়া। যমুনা ফিউচারে জব করতে হবে!
– নাদিয়া আসছো?
– জ্বি আসছি!
– লেট হলো কেন? এক তারিখে আসার কথানা?
– আমার সব কথা শুনবে তো?
– জ্বি।
– তাহলে চলো আগে একটু ঘুরে আসি।
– জ্বি যাবো তবে আমাকে এক্ষুনি একটু হেল্প করতে হবে। আমাকে বড় অংকের টাকা দিতে হবে, আমার ছোট ভাই মেডিকেলে। অনেক টাকা লাগবে এক্ষুনি লাগবে, আপনি যা করতে বলেন করবো, আপনার টাকা বেতন পেয়ে ফিরিয়ে দিবো। এই মূহুর্তে টাকা না হলে আমার ভাইকে বাঁচানো সম্ভব হবেনা।
– ঠিকাছে আমি তোমাকে টাকা দিচ্ছি চলো আগে একটু ফূর্তি করে নেই ভাইয়ের কথা আপাতত ভুলে যাও।
– স্যার কাপড় আমিই খুলতেছি আপনাকে কষ্ট করতে হবেনা, আর আপনি মুখোশ পরেছেন কেন?
– পরেছি কারণ আছে তোমার এসব বুঝতে হবেনা।
– স্যার লাইট বন্ধ করি?
– লাইট বন্ধ করলে কেন? লাইট জ্বালাও বাহির থেকে কিছুই দেখা যাবেনা।

মুহূর্তেই নাদিয়ার জীবনে শুরু হয়ে গেল কালবৈশাখী গর্জন। নিরুপায় নাদিয়া আজ বড় অসহায়। দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে অঝরে তবুও থামে না পাষাণ্ডটা।

– নাদিয়া আসছিস?
– জ্বি আম্মু!
– টাকা পাবো কোথায়? আরিফকে কিভাবে বাঁচাবো।
– আম্মু আমি টাকা এনেছি জোগাড় করে যেখাবে জব হয়েছে সেখান থেকে এডভ্যানস এনেছি।
– ওহ ঠিকাছে।

– ফাতেমা শোন আরিফের পাশেই থাক দূরে যাসনা কিন্তু। আমার অনুপস্থিতিতে তোকেই তো সব দেখাশোনা করতে হবে। তুই বড় হয়েছিস একটু বুঝতে শিখেছিস, সো অনেক সচেতন হতে হবে। ফ্যামিলির ব্যাপার স্যাপার মাথায় আনতে হবে।
– জ্বি আপু।

বারো তারিখে নাদিয়ার কাছে কল আসে আফজাল সাহেবের অর্থাৎ যার আন্ডারে নাদিয়া জব করার কথা
– হ্যালো নাদিয়া?
– জ্বি স্যার।
– তুমি আসোনা কেন?
– ভাই অসুস্থ ছিলো তো তাই, গতকাল বাড়িতে এনেছি এখন মোটামুটি সুস্থ।
– তাহলে আজই আসো।
– না স্যার আমি আপনার ওখানে আর জব করতে পারবোনা আমি আপনার টাকা পরিশোধ করে দিবো অল্পদিনের ভিতরেই।
– হা হা হা।
– হাসছেন কেন?
– আমি জানতাম যে তুমি এমন করবে তাইতো সিসি ক্যামেরায় সব রেকর্ড করেছি।
– কি বললেন আপনি?
– হুম, এজন্যই তো আমি মুখোশ পরেছিলাম মনে আছে? একটু উল্টাপাল্টা করবা লাইফ শেষ হয়ে যাবে।
– স্যার প্লীজ রেকর্ডটা নষ্ট করে দিন।
– আমি পাগল তাইনা? রেকর্ড নষ্ট করি আর তুমি হাতছাড়া হয়ে যাও!!
– এক্ষুনি আসো আমার কাছে এক্ষুনি।

১৪ তারিখের ইনকিলাব পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

– নাদিয়া নামের একটি মেয়ে সাংসারিক যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে আত্নহত্যা। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিলো আটাশ।মেয়েটি নিতান্ত ভালো ছিলো বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন কিন্তু কেন হঠাৎ এই আত্নহত্যা কেউ সুস্পষ্ট জওয়াব দিতে পারেননি।

মাগুরার ইছাখাদা এলাকায় এক বাসঝাড়ের নিচে নাদিয়া থাকে এখন। ওখানে নাদিয়াদের গ্রামের বাড়ি। ফাতেমা তার দুইভাইকে নিয়ে কবরের সামনে প্রত্যেকদিন বিকালে গিয়ে দাঁড়ায়, নাদিয়ার আম্মু আসেনা সে সহ্য করতে পারবেনা তাই, সবার চোখ ভিজে যায় ভেজা চোখ মুছতে মুছতে সন্ধ্যায় সবাই নাদিয়াকে রেখে চলে যায়, নাদিয়া একাকি থাকে ভাইবোন আর কেউ টাকা চাইনা, আর তাকে কারো জন্য কেক স্যান্ডউইচ আনতে হয়না।



মন্তব্য চালু নেই