শিরোনাম:

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, আহত ১০

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পথচারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ও চাকামইয়া ইউপির সংযোগ সেতু সংলগ্ন চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় দুটি চায়ের দোকানে হামলাসহ অন্তত ৯টি মোটর সাইকেলে ভাংচুর করা হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গুরুতর আহত পথচারী পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান অনিরুদ্র রায় ও সাইফুল নামের এক যুবককে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত বাকি ৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির কেরামতের পুত্র হাসিব অভিযোগ করে জানান, ‘ঘটনার সময় বাবুল মিয়ার চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে বসে চা খাচ্ছিলেন। এসময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান শিমু মীর’র লোকজন তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। পরে স্থানীদের নিয়ে আমরা তাদের ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়।’

পাল্টা অভিযোগে টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান শিমু জানান, ‘কেরামতের ছেলে অস্ত্রসহ লোকজন নিয়ে ওই এলাকায় হোন্ডা স্টান্ড দখল করতে গেলে সংঘর্ষ হয়েছে বলে আমি লোক মুখে শুনেছি। এছাড়া আমি কিছুই জানিনা।’

তিনি আরো জানান, ‘স্থানীয় একটি দোকানে সিসি ক্যামেরায় সব ফুটেজ ধারণ করা আছে। কে অপরাধী তা ফুটেজ দেখলেই আপনারা সনাক্ত করতে পারবেন।’

এদিকে গুরতর আহত পথচারী অনিরুদ্র জানান, ‘আমি ওই পথে যাচ্ছিলাম। হটাৎ করে হামলা শুরু হলে আমি গাড়ি থেকে নেমে একটি ইজিবাইকে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করি। হামলাকারীরা প্রথমে আমাকে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। আমি পরিচয় দেয়ার পরেও আমার সারা শরীরে ইট দিয়ে থেতলে দেয় এবং পায়ে কুপিয়ে জখম করে।’

এদিকে চা দোকানি বাবুলের অভিযোগ দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ তার ক্যাশ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে অস্ত্রধারীরা।

ইটের আঘাত সইতে না পেরে প্রাণ ভয়ে দোকানের আড়ার সাথে ঝুলে থাকেন বলে জানান তিনি।

একই অভিযোগ পাশের চা দোকানি খোকনের।
তিনি জানান, ‘ইট নিক্ষেপ করে তার দোকানের চায়ের দুধসহ প্রয়োজনীয় মালামাল ফেলে দিয়েছে হামলকারীরা।’

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুর রহমান জানান, ‘দুই চেয়ারম্যান গ্রুপে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।’



মন্তব্য চালু নেই