প্রধান ম্যেনু

পদযাত্রা থামিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সকে জায়গা করে দিলেন মমতা

ভারতীয় জনতা পার্টি’র (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিজের সভা বিঘ্নিত হবে বলে সংকটাপন্ন রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সকে জায়গা না দিলেও মমতা দিয়েছেন।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) বিরোধী এক পথযাত্রার মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য জায়গা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে মমতা এমন কাজে প্রশংসার বান ছুটলেও অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের কাজে বইছে নিন্দার ঝড়।

উত্তরবঙ্গের পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে ছিল মমতার মিছিল। এনআরসি ও সিএএ’র প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসত পদযাত্রায় হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় একটি অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়ে রাস্তায়। ঘটনার খবর কানে পৌঁছতেই মমতা নিজে উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। প্রত্যেককে জায়গা করে দিতে বলেন, শেষে অ্যাম্বুল্যান্সটি ঠিকঠাক বেরিয়ে গেলে ফের পদযাত্রা শুরু হয়। খবর এই সময়’র।

জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি কৃষ্ণনগরে পথ আটকে সভা করছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমন অবস্থায় ঐ রাস্তায় আটকে পড়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স। ভিতরে রোগী থাকা সত্ত্বেও যাওয়ার জায়গা দিল না কেউ। অ্যাম্বুল্যান্সের চালককে নির্দেশ দেওয়া হল অন্য অনেক পথ ফাঁকা রয়েছে সেখান থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক অ্যাম্বুল্যান্সকে।

অ্যাম্বুলেন্স চালককে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এখান দিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। লোকে রাস্তায় বসে রয়েছে। ডিসটার্ব হয়ে যাবে। ঘুরিয়ে অন্য দিক দিয়ে নিয়ে যান।’ এই মন্তব্যের পরই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। দিলীপবাবু জানান, তিনি তাঁর উক্তি নিয়ে একটুও অনুতপ্ত নন। তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুল্যান্স আটকেছি, আবার আটকাব।’

রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘এসব বাজে বিষয়ে তাঁর কথা বলার সময় নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ রাজ্যে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নেশার দ্রব্য পাচার করা হয়। সভা বানচাল করতে ঐ এলাকায় ফাঁকা অ্যাম্বুল্যান্সটি পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও এখন পর্যন্ত ঐ প্রসূতির কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

তবে বৃহস্পতিবার মমতার পদযাত্রার চিত্র দেখে অনেকেই বলেছেন, রাজনীতি আলাদা হওয়ার পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও যে তাঁরা অনেকখানিই আলাদা। অ্যাম্বুল্যান্স ক্ষেত্রেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই