মেইন ম্যেনু

পাহাড় ধসে আরও ২ জনের মৃত্যু

রাঙ্গামাটিতে গত মঙ্গলবার পাহাড় ধসের ঘটনায় আরও দুই জনের মৃ্ত্যু হয়েছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় করা প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান।

ওই দিনের পাহাড় ধসের ঘটনায় এ নিয়ে সদরসহ রাঙ্গামাটি জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে।

জেলা প্রশাসক জানান, পাহাড়ের মাটির চাপায় রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদীর পশ্চিম মুসলিমপাড়ার রুবি আক্তার (৩৭) ও ৯ বছরের শিশু শাহজাহান নিখোঁজ ছিল।

স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যে ওই দুই জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেজন্য মৃতের তালিকায় তাদের নাম যোগ করে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে মৃতের তালিকায় ১১৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে সর্বশেষ ১২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দুর্যোগ প্রায় কেটে যাচ্ছে। পাহাড় ধসের ঘটনায় দুর্যোগ মোকাবেলা করা হয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার থেকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে সাময়িকভাবে হালকা যান চলাচল শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদেরকে খাদ্য সহায়তা ও পানি সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

সরকারের বরাদ্দ দেয়া ত্রাণ ও নগদ অর্থ পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যা দিয়ে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।

তাই এখন নজর দেয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে। তবে বিধ্বস্ত ভিটায় কাউকে যেতে দেয়া হবে না। এজন্য তাদেরকে পরিকল্পিত আবাসনে পুনর্বাসনের চিন্তা রয়েছে সরকারের।

সেজন্য পাহাড় ধসের ঘটনায় পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত অথবা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা বিধ্বস্ত ভিটায় এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যে কোনো বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

ভবিষ্যৎ জানমাল রক্ষায় সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে। যাচাই বাছাই ছাড়া কাউকে আর মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। শহরে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজারের বেশি লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন।

তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, লুঙ্গি, শাড়ি, কাপড়, সাবানসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্যনির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ছাদেক আহমদ, পরিষদের সদস্য মো. মুছা মাতব্বর, স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, রেমলিয়ানা পাংখোয়া, মনোয়ারা জাহান আক্তার, জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য চালু নেই