মেইন ম্যেনু

পীরগঞ্জে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে আহত ২৫

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে শামসুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে রাতভর আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে দায়ী পুলিশদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। জনতাকে ছত্র ভঙ্গ করার জন্য বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও লাঠি চার্জ করেছে পুলিশ। এতে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে গুরতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম শামসুল ইসলাম বাড়ি মিঠাপুকুরি উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেশ চন্দ্র জানান, শামসুল ইসলাম একজন মাদক ব্যবসায়ী। ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ তাকে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক করেছে। সে ফাঁড়িতে আজ বুধবার সকালে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব চন্দ্র রায় জানান, ৩০ লিটার চোলাই মদসহ তাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালেও সে সুস্থ ছিল কিন্তু সকাল ৯ টার পর তার পড়নের জামা দিয়ে ফাঁড়ির ভেতরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এদিকে, গলায় ফাঁস লাগানোর কথা পুলিশ জানালেও তাকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার আগে কেন তার মৃতদেহ নীচে নামাল তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিহত শামসুলের মেয়ে সান্তনা অভিযোগ করেছেন, তিনি জন্মের পর তার জ্ঞান হওয়া পর্যন্ত দেখে আসছেন তার বাবা শামসুল ছাগল কেনা বেচা করেন। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, জীবনে কোনও দিন তিনি চোলাই মদের ব্যবসা করেনি, করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। মূলত ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আমিনুল ও পুলিশের সোর্স জিয়া তার বাবাকে আটক করে এক লাখ টাকা দাবি করেছে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে চোলাই মদের ব্যবসায়ী বানিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করেছে। ঘটনাটিকে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথা বলছে পুলিশ।

এ ঘটনা জানাজানি হলে শত শত জনতা ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা ভেণ্ডাবাড়ি বড়দরগা সড়ক অবরোধ করায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে পুলিশ জনতাকে লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করলে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে দুজনের শরীরে গুলির ছোড়া লেগে গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহাম্মেদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুপুর একটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।



মন্তব্য চালু নেই