মেইন ম্যেনু

ফরিদপুরে পুলিশ-সাংবাদিক মিলে ইলিশ লুটের মহোৎসব!

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের এক সদস্য, চারজন পুলিশ ও কয়েকজন সাংবাদিক জেলেদের কাছ থেকে ইলিশ ছিনিয়ে নিয়ে ভাগাভাগি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই দলটি রবিবার রাতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের নামে জেলেদের নৌকায় হানা দিয়ে আনুমানিক দেড় মণ ইলিশ লুট করে নেয়। পরে উপজেলার গোপালপুর ঘাটে এসে মাছগুলি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে। ওইসময় দলটি ৫ হাজার মিটার জাল ২ হাজার টাকায় বিক্রিও করে যায়।

এ দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের ক্ষেত্র সহকারী শামীম আরেফিন, চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান, তিন কনস্টেবল কুতুবউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন ও সেলিম মিয়া এবং চরভদ্রাসন উপজেলার সাংবাদিক লিয়াকত আলী লাবলু, উজ্জ্বল হোসেন ও তার সহযোগী মো. কামাল প্রমুখ।

গোপালপুর ঘাট মালিকের প্রতিনিধি মো. আলী মৃধা জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘাটে এসে মৎস্য অফিসের লোক, পুলিশ ও সাংবাদিকরা মাছ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়ে যান। এ সময় তিনি মৎস্য অফিসের কর্মচারীকে এসব কি করছেন জিজ্ঞাস করলে তাকে উল্টো হেনস্তা করা হয়। এমনকি তার কাছ থেকে নেয়া স্পিড বোটের ভাড়াও দেয়নি কেউ। স্পিড বোটের ৬০ লিটার তেল পুড়েছে যার দাম প্রায় ৬ হাজার টাকা বলে জানান তিনি। পরে বিষয়টি ঘাট মালিকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে মৎস্য কার্যালয়ের লোক, পুলিশ ও সাংবাদিকের একটি দলের মাছ চুরির খবর তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, নির্বাহী হাকিম ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হতে পারে না। অসৎ উদ্দেশ্যেই ওই ব্যক্তিরা যে গিয়েছিলেন তা বলা যায়। খবর পেয়ে বিক্রি করা ৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তে জেলা শহর থেকে চরভদ্রাসনে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনা শুনে তদন্ত করতে আসছেন। তার অফিসের কারো সংশ্লিষ্টতা বা গাফলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য চালু নেই