মেইন ম্যেনু

ফেসবুকে যা বললেন নুসরাত হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মণির স্বামী

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ১৬ আসামির একজন তার সহপাঠী কামরুন নাহার মণি। গত বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

কারাবন্দী মণি গত ২১ সেপ্টেম্বর একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। রায় ঘোষণার সময় এক মাসের সেই কন্যা সন্তানকে নিয়েই তিনি আদালতে আসেন। মণির স্বামী রাশেদ খান রাজু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাসে রাশেদ খান রাজু লেখেন, ‘আমার আমানত, আমার কলিজার টুকরা মেয়েটাকে বাঁচাতে গিয়ে পিবিআইয়ের বানানো মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে আজ ফাঁসির আসামি তুমি। তোমার কাছে আমার আমানত এতই বড় ছিল যে যাকে তুচ্ছ করে তুমি সত্যের সাথে থাকতে পারোনি। যেদিন রিমান্ডে তোমার পেটে আমার বাচ্চাটাকে ড্রিল মেশিন দিয়ে ফুটো করে দিবে বলেছিল সেদিন নিশ্চয়ই ভেবেছ তোমার জীবনের চেয়েও তোমার বাচ্ছার জীবন অনেক মূল্যবান।’

তিনি লেখেন, ‘হ্যাঁ, মা হিসেবে তোমার দায়িত্ববোধকে আমি সম্মান করি শ্রদ্ধা করি, পৃথিবীর সকল মা-ই জীবন দিয়ে হলেও তাদের সন্তানকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। কিন্তু যে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তুমি মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে আসামি হয়েছো আজ সেই মেয়ে কোলে নিয়েই তোমাকে ফাঁসির রায় শুনতে হলো। তোমার মেয়ের কথা কি আজ এই দেশ চিন্তা করেছে?’

মণির স্বামী লেখেন, ‘তোমাকে যে পরিমাণ নির্যাতন করে, পিটিয়ে, পেটে তারের আঘাত করে, হাতের ও পায়ের তালুতে পিটিয়ে, জামা কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করে ও সর্বশেষ বাচ্চা নষ্ট করার ভয় দেখিয়ে আসামি করল তা কি এই দেশের কেউ জানে?’

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘তোমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরেও যে তোমাকে ফাঁসি দেওয়া হলো তা কি এই দেশের কেউ জানে? এই সন্তানকে নিয়ে যে এদেশের মানুষ ট্রল করে, সন্তানের বাবা ও পিতৃ পরিচয় নিয়ে ট্রল করে না জেনে তা কি জানো?’

রাজু লেখেন, ‘তুমি যে ঘটনার পরে তিনটাসহ মোট ছয়টা পরীক্ষা দিয়েছো আর ঘটনার দিনের পরীক্ষাসহ সবগুলাতেই এ+ পেয়েছ সেই খবর কেউ রেখেছে? তুমি খুন করে কীভাবে স্বাভাবিক ছিলা বা ঘটনার দিন ও তার পরের তিনটা পরীক্ষাসহ মোট ছয়টাতেই এ+ পেতে পারো সেটা কি কেউ চিন্তা করেছে? কেউ কি জানে যে অন্য আরও একটি মণি ছিল যে কি না সিরাজের পক্ষ নিয়ে নুসরাতের বিরুদ্ধে ভিডিও বার্তা দিয়েছিল। তাকে যে পিবিআই গ্রেপ্তার করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে তা কি দেশের কেউ জানে?’

তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘অবশেষে বলব আমার কলিজার সন্তান একদিন এই দেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ তাকেই করতে হবে। তোমার মৃত মুক্তিযোদ্ধা বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো জিজ্ঞেস করতে দেশ কি এই জন্য স্বাধীন করেছিলে কি না যেখানে তোমরাই আজ পরাধীন। আজ জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম এই মা-মেয়ে যদি নির্দোষ হয় আপনাদের কি আল্লাহ এর আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না? আবার বলছি, বুক ফুলিয়ে বলছি মণি ১০০ ভাগ নির্দোষ।’

রাজু আরও লেখেন, ‘আমি আমার ভালোবাসাকে অন্যায়ের কাছে হেরে যেতে দিবো না। লড়ব এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই, আমি লড়ব ইনশাআল্লাহ। মুবাশশিরা খানম “রাথী” এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে দেশের ইতিহাসে। দেশের আর কোনো নারী যেন এমন বর্বরতা আর নিষ্ঠুরতার শিকার না হয় সেটাই কামনা করি।’



মন্তব্য চালু নেই