শিরোনাম:

বইমেলা এখন গলার কাঁটা প্রকাশকদের : অলিদ সিদ্দিকী

অমর একুশে বইমেলা ২০২১ আজ ২১তম দিন শেষ হয়েছে। উক্ত মেলায় চ্যানেল একুশে টিভিতে সাক্ষাৎ ও লাইভে উপস্থিত থেকে মেলার সার্বিক বিষয়ে গণমাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত কথা বলেন জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এর প্রকাশক, লেখক ও ডিইউজে সদস্য মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার।

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার বলেন বৈশ্বিক দূর্যোগ করানোর কারণে বাংলা একাডেমি যখন এবারের একুশে বইমেলার পরিকল্পনা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন প্রকাশকদের প্রতিবাদের মুখেই এর আয়োজন করতে বাধ্য হয় বাংলা একাডেমি।

যে কারণে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির মেলা গড়ায় স্বাধীনতার মাস মার্চে। প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে পাওয়া সে বইমেলা ২০২১ এখন প্রকাশকদের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে । সময়সূচির পরিবর্তন এনে চলমান লকডাউনে দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মেলা সচল রাখাতে বইপ্রেমীশূন্য হয়ে পড়েছে মেলাপ্রাঙ্গণ । নিজেদের আর্থিক ক্ষতির কথা ভেবে প্রতিবাদী প্রকাশকরাই এখন মেলা বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বলছেন একদিকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জনমনে শঙ্কা, অন্যদিকে লকডাউনে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন । এত প্রতিকুলতা নিয়ে মানুষ মেলায় আসবে না এটা স্বাভাবিক। মানুষই যদি না আসে তাহলে মেলা চালু রেখে লাভ কী। স্টল ও প্যাভিলিয়ন বসে বসে মাছি মারা ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই।

ক্ষতি যা হওয়ার তাই হয়েছে, আরও বড় ধরনের ক্ষতির কবল রক্ষার জন্য বইমেলা বন্ধ করা এখন আমাদের বেশিরভাগ প্রকাশকদের দাবি । তারা বলেছেন, প্রকাশকরা যাতে বাংলা একাডেমির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে না পারে সেজন্য এ লকডাউনে ও বাংলা একাডেমি মেলা বন্ধ করেনি। দুপুর ১২ টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত এমনিতেই মানুষ আসে না, আর লকডাউনে তো আসবেই না। অতএব প্রকাশকরা সব দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত। মেলা বন্ধ করা এখন প্রকাশকদের প্রাণের দাবি। তাদের মতে এখনই মেলা বন্ধ হলে প্রকাশকরা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন। কিন্তু বাংলা একাডেমি বলছে সরকারি উচ্চমহলের দিকনির্দেশনা অনুযায়ীই তারা মেলার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার।

অন্যদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবসর প্রকাশনীর itমাসুদ রানা বলেন আমাদের ১২ জন স্টাপকে আমরা নিষেধ করে দিয়েছি। কারণ এ পরিস্থিতিতে তাদের আমাদের সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়। গত ২৪ বছর মেলা করছি এমন ধরনের কোনো পরিস্থিতিতে আর কখনো পড়িনি। প্রকাশকদের প্রতিবাদের মুখেই এবারের মেলা চললেও এখন আমরা প্রকাশকরাই চাচ্ছি মেলা বন্ধ হোক। কারণ মেলা যত দিন চলবে প্রকাশকদের ক্ষতিও তত বাড়বে।

পারিজাত প্রকাশনীর মালিক শওকত হোসেন লিটু বলেন- এমনিতে করোনা বাড়ছে বলে মানুষ ভয় পাচ্ছে, তারপরও আ যারা আসত লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকায় তারাও আসতে পারছে না। মানুষই যদি না আসে তাহলে আমরা কার কাছে বই বিক্রি করব? অতএব মেলা বন্ধ করে দেওয়াটাই আমাদের জন্য ভালো।

পুঁথিনিলয়ের কর্মরত আলমগীর অরণ্য বলেন – আমাদের প্যাভিলিয়নে ১৬ জন স্টাফ ছিলেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আমাদের স্টাফরাই মেলায় আসতে পারছেন না। এতে বইমেলায় সেখানে ক্রেতারা কীভাবে আসবেন। গতকাল মেলার ২০তম দিনে এমন কথাই বলেছেন বেশির ভাগ প্রকাশক ও প্রকাশনা সংস্থার কর্মকর্তারা।



মন্তব্য চালু নেই