শিরোনাম:

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ

নাজমুল হক

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান মানবিক চেতনায় উদ্ভাসিত এক ক্ষণাজন্মা ব্যক্তিত্ব। শুধু বাংলাদেশে নয়, শুধু এই উপমহাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর সত বিশাল হৃদয়ের অধিকারি, চেতনাদীপ্ত, বজ্রকঠিণ, অগ্নিপুরুষ বার বার জন্ম গ্রহণ করে না। এমন একজন মানুষের জন্য, এমন একজন আন্তর্জাতিকতাবাদী বিশ্ব মানবতার জন্য একটি জাতিকে, বিশ্ব বাসীকে দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী অপেক্ষায় থাকতে হয়।
মানুষ বন্ধন থেকে, অন্ধ সংস্কার থেকে, দাসত্ব থেকে মুক্তি চাই। সে মাথা উঁচু করে মানুষের অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। এই মুক্তি ও বাঁচার জন্য সে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে। একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডের স্বপ্ন বাংলাদেশে বসবাসকারী অনেকে দেখেছেন। কিন্তু তার কেই বাস্তবে রূপ দিতে পারে নি। সেই স্বপ্ন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাস্তবে রূপ পেয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। তিনি বাঙালিদের জন্য নির্মান করে দিয়েছেন একটি ভৌগোলিক রাষ্ট্রের সীমানা। জন্ম নিয়েছে বাঙালি জাতির নিজস্ব জাতিরাষ্ট্র, গর্বিত আত্মপরিচয় লাল সবুজের বাংলাদেশ।
সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহাকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফুর রহমান ও শেখ সায়েরা খাতুনের চার কণ্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তার শেখ মুজিব।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়টুকু উৎযাপিত হবে মুজিব বর্ষ। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মুজিব বর্ষ উৎযাপনের নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, বেশ একটা কর্মযজ্ঞ চলছে। যদিও করোনা ভাইরাস প্রভাবে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তারপরও যদি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে পারি, তা হবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’ এই কথাটা কিন্তু গভীরভাবে ভাবার মতো। আজ যখন পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ থেকে দেখি, কুড়িগ্রামের ৩০ ভাগ মানুষ তিন বেলা পেট পুরে খেতে পায় না, তখন খুবই বিষ¤œ বোধ করি। আর আছে মর্যাদাপূর্ণ জীবনের কথা। প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু অমর অক্ষয়। বিবিসি’র বাংলা বিভাগের জরিপে শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় রয়েছে। বাঙালি হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শান্তিপ্রিয় এবং মননশীল একটি জাতি। তিনি মিশে আছেন বাংলার সাথে, বাঙালির জাতীয়তাবাদের সাথে, মিশে আছেন এদেশের সংস্কৃতি, ভাষা, কবিতা ও গানের মাঝে। তিনি বাঙালির জাতীয়তাবাদের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। দেশে সৃষ্টি হওয়া আদর্শের সংকট, সুশাসনের সংকট, রাজনৈতিক-সামাজিক, সাংস্কৃতিক বলয়ের প্রেক্ষাপটে গণগন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জাতীয়তাবাদ রাজনীতিকে সামনে রেখে নেতৃত্ব দিয়েচিলো বঙ্গবন্ধু। সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধের অর্ন্তগত চেতনায় যে মূল্যবোধগুলো বেরিয়ে এসছিলো স্বাধীনতা পরবর্তীতে সেগুলো দেশের শাসনতন্ত্রে, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ এ চার মূল্যবোধের লিখিত স্বীকৃতিও মিলেছিল।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন তাতে তিনি বলেন, আমরা ইসলামের অবমাননা চাই না। আমাদের দেশ হবে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক দেশ। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান সুমলমানের ধর্ম পালন করবে, হিন্দু হিন্দুদের ধর্ম পালন করবে, খ্রীস্টান তার, বৌদ্ধ তার ধর্ম পালন করবে। এই মাটিতে ধর্মহীনতা নেই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। এখানে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা চলবে না। সা¤প্রদায়িক রাজনীতি চলবে না। এ বক্তব্য বোঝা যায় তিনি কতটা ধর্মনিরপেক্ষতা ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একে অপারের পরিপূরক। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একখন্ড স্বাধীন মানচিত্র পেত না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচক অগ্রগতি হচ্ছে। পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন হচ্ছে। মুজিব বর্ষে ঘুষ, দুর্নীতিমুক্ত শোষণহীন স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি।

 

 

লেখক:
নাজমুল হক
আহবায়ক,
স্বপ্নসিঁড়ি, সাতক্ষীরা



মন্তব্য চালু নেই