প্রধান ম্যেনু

বাংলাদেশিদের এখন সবাই সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে যারা এক সময় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ মনে করত তারাই এখন বাংলাদেশের প্রশংসা করছে। বাংলাদেশিদের এখন সবাই সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। আর এটা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে গত ১০ বছর ধরে বিরামহীন কাজ করে যাওয়ায়।

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জ্বল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহীদ এটিএম জাফর আলম (মরণোত্তর), এ কে এম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. কাজী মিসবাহুন নাহার, আব্দুল খালেক (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মোহাম্মাদ খালেদ (মরণোত্তর), শওকত আলী খান (মরণোত্তর), চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, সমাজ সেবায় ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, সংস্কৃতিতে মুর্তজা বশীর, সাহিত্যে হাসান আজিজুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অধ্যাপক ড. হাসিনা খাঁন।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারকেও (বিআইএনএ) এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়াই তার সরকারের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা রাতদিন কাজ করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, চলতি বছরে আমরা ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছি। আমাদের মাথাপিছু আয় এখন ১৯০৯ ডলার। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোলমডেল। আজ বাংলাদেশের নাম শুনলে সবাই সম্মানের চোখে দেখে। এটাই আমাদের তৃপ্তি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়েছে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে তার সততার শক্তির কারণে তিনি ভেঙে পড়েননি এবং দুর্নীতির কোনো প্রমাণ বিশ্বব্যাংক দিতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা জানান, জাতির পিতা বলেছিলেন আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। তার সরকার জাতির পিতার সেই স্বপ্নই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা ২৫ মার্চ কালরাতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে জানান, এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে সরকার কাজ করছে। দেশের এবং প্রবাসে থাকা সব নাগরিককে সেজন্য চেষ্টা চালাতে অনুরোধ করেন তিনি।

যারা এবার স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন তাদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে দেশের আর্তসামাজিক উন্নয়নে নিজ নিজ জায়গা থেকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন নিজের অনুভূতি জানিয়ে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিচারপতিবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদসবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনিতিকবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ কবি-সাহিত্যক-বুদ্ধিজীবী এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য চালু নেই