বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সাংবাদিক সায়মন ড্রিং আর নেই

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন প্রযোজক ও উপস্থাপক সায়মন ড্রিং মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে সারাবিশ্বেই তিনি কাজ করেছেন।
তার এক কাজিন জানিয়েছেন, রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে গত শুক্রবার হৃদরোগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি কাজ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাজধানী ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিকের মধ্যে তিনিও ছিলেন।
সায়মন ড্রিং ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতায় আসার আগে তিনি ফিচার লিখতেন। ভিযেতনাম যুদ্ধে প্রতিবেদন লেখার মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতায় আসেন। তিনি রয়টার্স, বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফের মতো মিডিয়ায় কাজ করেছেন। তার কাজের তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
১৯৯৭ সালে তিনি একুশে টেলিভিশন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অংশীদার হয়েছিলেন।
এদিকে সায়মন ড্রিং-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
মঙ্গলবার (২০ জুলাই) এক শোক বার্তায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার চিত্র সাইমন ড্রিং প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন।
ফলে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র বাঙালিদের গণহত্যার প্রকৃত ঘটনা বিশ্ববাসী জানতে পেরেছিল।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ইতিহাসে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সাইমন ড্রিংয়ের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার সাইমন ড্রিংকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।



মন্তব্য চালু নেই