বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫ বছরে সিঙ্গাপুর-হংকংকে ছাড়াবে

পাঁচ বছরের মধ্যেই অর্থাৎ ২০২৪ সাল নাগাদ বিশ্বের শীর্ষ ৩০ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ। ছাড়িয়ে যাবে মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দেশকেও। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল (ডব্লিউইএলটি)-২০২০ এমন পূর্বাভাসই দিচ্ছে। গত ২৬ ডিসেম্বর সমীক্ষা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর)। বর্তমানে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে ৪০তম অবস্থানে রয়েছে, আগের বছর ছিল ৪১তম।

২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন করা হয়েছে ১৯৩টি দেশের বার্ষিক অবস্থান। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্যতা বিচার করে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত দেশগুলোর অবস্থানের পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউইএলটি। তালিকায় শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির দেশ হিসেবে নাম রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি ও ভারতের। আর ২০২৯ ও ২০৩৪ সালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ঠাঁই করে নেবে যথাক্রমে- ২৬তম ও ২৫তম স্থানে। আর আগামী ১৫ বছরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল সূত্র দিয়ে সিইবিআর তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ২০১৯ সালের পিপিপি সমন্বিত জিডিপি ৫ হাজার ২৮ ডলারের সমন্বয়ে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। গত বছরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশটির অর্থনীতি দুর্দান্ত করেছে। যদিও ২০১৮ সালে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রতিবছর এক শতাংশ হারে বাড়ছে। এর মানে হলো- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাথাপিছু আয় যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

জিডিপির অংশ হিসাবে সরকারি ঋণ গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৩৪ শতাংশ। তবে ঋণ বাড়া সত্ত্বেও, সরকারি আর্থিক খাত ভালো অবস্থানে রয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম ঋণের বোঝা ২০১৯ সালে সরকারকে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঘাটতি বাজেট দিতে সহায়ক হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির বার্ষিক হার ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। পরবর্তী ৯ বছরে অর্থনীতি বৃদ্ধির এ হার বজায় থাকলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ তালিকায় বাংলাদেশ ৪০তম স্থান থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ২৫তম স্থানে উঠে আসবে। আর ৩৫তম স্থানে থাকা হংকং এবং ৩৭তম অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর পিছিয়ে যথাক্রমে- তালিকার ৩৭তম ও ৩৯তমতে অবস্থান করবে।

অন্যদিকে প্রযুক্তির বর্ধিত প্রবৃদ্ধির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ২০৩৩ সালে চীন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। আর ভারত ২০২৬ সালে জার্মানিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে এবং ২০৩৪ সালে জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই