মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের হেড কোচ কে এই রাসেল ডোমিঙ্গো?

নাটকীয়তার অবসান ঘটলো। অবশেষে হেড কোচ পেলেন সাকিব-মাশরাফিরা। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে দুই বছরের চুক্তিতে হেড কোচ নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি।

চলতি মাসের শুরুতে (৭ আগস্ট) বাংলাদেশে এসে ভাইবা দিয়ে গিয়েছিলেন রাসেল ডোমিঙ্গো। তার সঙ্গে কথাবার্তা পোক্ত হওয়ায় বিসিবির তরফ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় ৪৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচকে। সে মোতাবেক ২১ আগস্ট থেকে টাইগারদের সঙ্গে কাজ শুরু করবেন ডোমিঙ্গো।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সবার মনে প্রশ্নের দাঁনা বাধতে শুরু করেছে কে এই ডোমিঙ্গো। সবারই ইচ্ছুক মন জানতে চাইছে তার ক্যারিযার কিংবা সফলতা ব্যর্থতার গল্প। তাদের জন্যই তুলে ধরা হলো ডোমিঙ্গোর টুকিটাকি জীবন কাহিনি।

ডোমিঙ্গোর পুরো নাম রাসেল ক্রেইগ ডোমিঙ্গো। দক্ষিণ আফ্রিকার ফোর্থ এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী এই কোচের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা শূন্যের কোঠায়। কারণ, ক্রিকেটের যে পর্যায়ে এসে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার শুরু হয় সেখানেই ইতি ঘটে তার। মূলত, ডোমিঙ্গোর স্বপ্ন ছিল ভালো মানের কোচ হওয়া। আর ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরই ডোমিঙ্গো অর্জন করেন স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মার্কেটিংয়ের ওপর ডিগ্রি। এরপর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রভিন্স যুব দলের কোচের দায়িত্ব পান।

পরের ১ যুগ দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৩, ১৯ , বি দল ও এ দলের দায়িত্ব পালন করেন ডোমিঙ্গো। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল ওয়ারিয়র্সের দায়িত্ব নেন তিনি। আর সেখানেই যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ নেন। পিছিয়ে পড়া ব্যাটসম্যানদের উন্নতির লক্ষ্যে তিনি বিশেষজ্ঞ কোচ গ্যারি কারস্টেইনকে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন তিনি। সেখান থেকে কারস্টেইনকে নিয়ে যায় ভারত। তাতেই তিনি দেখান চমক। ভারতকে জেতান বিশ্বকাপ। অন্যদিকে ডোমিঙ্গেও জাতীয় দলকে ভালোমানের খেলোয়াড় সাপ্লাই দিয়ে সাহায্য করেন। প্রায় ৬ জন ক্রিকেটার সুযোগ করে দেন জাতীয় দলে।

২০১১ বিশ্বকাপ জিতিয়ে ভারত থেকে বিদায় নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হন গ্যারি কারস্টেন। কোচ হয়েই নিজের সহকারী হিসেবে বেছে নিলেন ডোমিঙ্গোকে। এক বছরের মাথায় সহকারী কোচ থেকে টি-টোয়েন্টি দলের হেড কোচে উন্নীত হলেন তিনি। ২০১৩ সালে গ্যারি কারস্টেনের বিদায়ের পর তিন সংস্করণেই প্রধান কোচের দায়িত্ব পান ডোমিঙ্গো। তার অধীনে ১৩ টেস্ট সিরিজের ৮টিতে জয়ী হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান থেকে সাতে নেমে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি টেনে তোলেন দুইয়ে।

ডোমিঙ্গোর সময়ে ২২ ওয়ানডে সিরিজের ১৪টিতে জয়ী হয়ে ওয়ানডেতে শীর্ষ দল হিসেবে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র জয়টি আসে তাঁর সময়েই। টি-টোয়েন্টিতে ৪২ ম্যাচের মধ্যে ২৩ জয় এসেছে এ সময়। তার অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৭ সালে ওটিস গিবসনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ছাড়েন ডোমিঙ্গো।

প্রসঙ্গত, জাতীয় দলের কোচ হওয়ার তিনজনের শর্ট লিস্টে ছিলেন ডোমিঙ্গো। তার সঙ্গে প্রতিযোগীতায় ছিলেন মিকি আর্থার ও মাইক হেসন। এই দুই প্রতিযোগীকে টপকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্ত সম্পন্ন করেন ডোমিঙ্গো।



মন্তব্য চালু নেই