মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময় : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে গ্রাজুয়েশন পেয়েছি, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের গত অর্থবছরে জিডিপি ৮ দশমিক ১৩ ভাগ অর্জন করেছি, আগামী এই এখন চলতি অর্থবছরে আমরা প্রাক্কলন করেছি ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমরা আশা করি, এর থেকেও বেশি আমরা করবো। বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময়।

বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে লেদার গুডস সোর্সিং শো- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ, ব্যবসা ও রফতানি বাণিজ্যকে সহজ এবং গতিশীল করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সারাদেশে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সুবিধা সম্বলিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা প্রতিষ্ঠা করছি। এরমধ্যে ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমাদের রফতানি বাণিজ্যের আকার, পণ্যের সমাহার ও বিপণন সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ অর্জনের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত চারটি খাতের উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। যার মধ্যে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্প অন্যতম। চামড়াজাত দ্রব্য পাদুকা রফতানিকারকদের সঙ্গে বিশ্বের আমদানিকারকদের যোগাযোগ ঘটানোর জন্য আমরা ইকোনমিক ডিপলম্যাসির ওপর জোর দিয়েছি।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আমাদের বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। জিডিপির সর্বশেষ র‌্যাংকিং অনুযায়ী পিপিপি’র ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বে ২৯তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার। প্রকৃতপক্ষে তা বেড়ে দুই হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে ইশতেহারে আমরা রফতানি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির বিয়য়ে গুরত্বারোপ করেছি। এ লক্ষে রফতানি নীতি ২০১৮-২০২১ বাস্তবায়ন করছি। পূর্বে এক বছর মেয়াদী করা হত। এখন আমরা একটা লং টার্ম প্রোগ্রাম নিয়েছি। যে প্রবৃদ্ধি আমরা অর্জন করেছি, সেটা আরও বৃদ্ধি করতে পারবো। রফতানির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমাদের ঘোষিত লক্ষমাত্রা ২০২১ সালে রফতানি থেকে আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যে কৃষি জমি, সেটাকে আমরা সুরক্ষিত করতে চাই। আর শিল্পায়নের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেই এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। আর এর কার্যক্রম যখন পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে, তখন আমাদের প্রবৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রাখবে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তৃতীয় বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৯ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।

আয়োজকরা বলছেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতেই এমন আয়োজন। ফিউচার প্রুফ সোর্সিং এই থিম্যাটিক ট্যাগলাইনে এবারের শো-তে ৩০টির বেশি দেশের ক্রেতা ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। থাকবে ১০টি প্যাভেলিয়ন ও ৩০টি স্ট্যান্ডস। যেখানে বিদেশি ক্রেতাদের আকর্ষণে বাংলাদেশে তৈরিকৃত নানা ধরনের চামড়া ও চামড়াজাতীয় পণ্য প্রদর্শন করা হবে।



মন্তব্য চালু নেই