শিরোনাম:

বাগেরহাটের চিতলমারীতে মাকে হারিয়ে নির্বাক চার শিশু

ক্যানসারে মৃত্যুর ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। তবে এমন কিছু মৃত্যু নাড়া দিয়ে যায় হৃদয়কে। এমনই একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাটে। ১১ মাসের দুধের শিশুকে রেখে মা চলে গেলেন পরপারে। সাথে রেখে গেছেন আরো তিনটি শিশুকে। এমন মৃত্যুতে শিশুদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। শঙ্কায় পড়েছে শিশুদের জীবন। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে চিতলমারী উপজেলার রুইয়েরকুল গ্রামে।

জানা গেছে, রুইয়েরকুল গ্রামের দিনমজুর সুদাস ব্রক্ষের স্ত্রী ঝর্ণা রাণী দেড় মাস আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দুই পুত্র ও দুই কন্যাসহ রেখে গেছেন চার সন্তান। দিনমজুর সুদাস ব্রক্ষ সন্তানদের রেখে সকাল হলেই চলে যান কাজে। সন্তানদের দেখাশুনার জন্য বাড়িতেও কেউ নেই।

স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির চারপাশে রয়েছে জলাশয়। যে কোনো মূহুর্তে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। রুইয়েরকুল গ্রামের গৃহবধূ তুলি বিশ্বাস বলেন, সুদাস ব্রক্ষ একেবারেই দরিদ্র লোক। ধার-দেনা করে স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেনি। কাজ না করলে সংসার চলে না। যে কারণে শিশুদের একা রেখে কাজে যেতে হয়। এই মুহূর্তে তার সরকারি সহায়তার খুবই দরকার।

স্থানীয় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য তারা রাণী ব্রক্ষ জানান, মৃত ঝর্ণা রাণীর বড় সন্তান সজলের বয়স ১১ বছর। পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে সে। ছোট ভাই-বোনদের রান্না করে খাবার তুলে দেয়। ভাই-বোনদের দেখাশুনা করতে গিয়ে তার পড়াশুনা বন্ধ হতে বসেছে। ওই পরিবারটির পাশে আমাদের দাঁড়ানো দরকার।

এ বিষয়ে সুদাস ব্রক্ষ হতাশা ব্যক্ত করে জানান, স্ত্রীর মৃত্যুতে পুরো পরিবারটা এখন অচল হয়ে পড়েছে। তার বাড়ির ৩ শতক জায়গা ছাড়া কোন সম্পত্তি নেই। এ পরিস্থিতে কিভাবে সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকবেন সে চিন্তায় দিশেহারা। এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন বলেন, মৃত ঝর্ণা রাণীর পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

চিতলমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছে কোন খবর আসেনি। তবে অসহায় ও এতিম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমাদের অনেক ধরনের সেবা রয়েছে। পরিবারটি আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে অবশ্যই তাদের জন্য সর্বাত্মক সেবা প্রদান করবো।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদা ফয়জুন্নেসা বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। আমাদের উপজেলা সমাজসেবা ও ইউপিতে বিধবাভাতা, দুস্থ কার্ডসহ অন্যান্য সেবা রয়েছে। পরিবারটিকে উপজেলা থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক সকল ধরনের সহায়তা করা হবে।