মেইন ম্যেনু

বাগেরহাটে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে এতিমখানা!

দুই যুগ আগে বাগেরহাটে একটি এতিমখানা করা হয়েছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে এই এতিমখানাটি অবশ্য করেছিলেন সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলছে যে তহবিল তসরুফের সঙ্গে, তার সঙ্গে এই এতিমখানার সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন এর অধ্যক্ষ।

১৯৯৪ সালের ২৩ জুন বাগেরহাট শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে ৩.৯২ একর জমির উপর এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন সেই সময় বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম টাকা পয়সা দিচ্ছেন।

এই এতিমখানায় দুইজন এতিম আছেন বলে জানিয়েছেন এর অধ্যক্ষ। আর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

ট্রাস্টের ভেতরে একতলা ও দ্বিতলসহ মোট পাঁচটি ভবন রয়েছে। এসব ভবনে প্রশাসনিক কার্যালয়, পাঠদান কক্ষ, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও রান্নাঘর রয়েছে। এরমধ্যে একটি ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাস্টের অধ্যক্ষ আফতাব আলম জানান, বর্তমানে এখানে আমিসহ মোট আটজন কর্মচারী রয়েছে। বাবাহারা দুই শিশু ছাড়া বর্তমানে এখানে কেউ থাকে না।

দুই যুগে এখান থেকে ২৬২ জনকে বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান অধ্যক্ষ। বলেন, চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী ২২ জন শিশু প্রাক প্রাথমিক এবং আরবি শিক্ষা নিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া ১৫ জন নারীকে দর্জি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবে চললেও এখন একটু খারাপ। মোস্তাফিজুর রহমান মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম এই প্রতিষ্ঠানটি এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। মাস গেলে আমরা সবাই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো টাকায় বেতন ভাতা পেয়ে থাকি।’

জিয়া মেমোরিয়াল অরফারেজ ট্রাস্টে জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে স্মরণ রাখতে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান একটি ট্রাস্ট গড়ার উদ্যোগ নেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মা-বাবাহারা এতিম অসহায়দের সংগ্রহ করে তাদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। তার আহ্বানে স্থানীয় ২৮ জন জমিদাতা বিনামূল্যে ট্রাস্টে জমিদান করেন। সেই ট্রাস্টের টাকায় এই প্রতিষ্ঠানটি চলছে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন টগর বলেছেন, যে উদ্দেশ্যে সমাজের অসহায় দুঃস্থদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল তার সাথে স্থানীয় জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এখানে এতিমদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও তারা কেউ এখানে প্রশিক্ষণ নেয় না।

বাগেরহাট সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক কানিজ ফাতেমা মোস্তফা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই।’

১৯৯৩ সালে বিদেশ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুই কোটি ১০ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

দুদক আদালতে তথ্য প্রমাণ দিয়ে জানিয়েছে, এতিমখানার নামে আসা টাকা খরচ না করে আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। আর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি, ব্যাংকে রাখা আছে এবং এই টাকা সুদে আসলে বেড়েছে। সৌজন্যে : ঢাকাটাইমস



মন্তব্য চালু নেই