মেইন ম্যেনু

বালিশ, পর্দা দুর্নীতিতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই : তথ্যমন্ত্রী

বালিশ কিংবা পর্দা দুর্নীতি ঘটেছে কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে। এখানে কোন রাজনৈতিক বা জনপ্রতিনিধির সংশ্লিষ্টতা নেই।– বললেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সঙ্গে যোগ করেন, “এই দুটি দুর্নীতির ব্যাপারেই সরকার অত্যন্ত কঠোর। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন। বালিশ দুর্নীতির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্দা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তারা পাবে।”

চট্টগ্রামে রবি-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে শনিবার দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এই সব কথা বলেন।

দেশে উন্নতি নয় বরং দুর্নীতির মহোৎসব চলছে- বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “যারা দুর্নীতিতে দেশকে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে লজ্জিত করেছিলেন। দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সেই বিএনপির নেই। দুর্নীতিকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকার কাজ করছে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে কালো টাকা সাদা করেছেন। তাদের অর্থমন্ত্রীও কালো টাকা সাদা করেছিলেন। তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এফবিআই এসে বাংলাদেশে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। যে কারণে তার ১০ বছর সাজা হয়েছে। আরাফাত রহমানের দুর্নীতি সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে। তাদের পুরো রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেখানে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিল, সেটির সঙ্গে বালিশ আর পর্দা দুর্নীতির কোন তুলনা হয় না।”

সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না- বিএনপির এই অভিযোগের বিষয়ে ড. হাছান বলেন, “সৌদি আরবে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আছে যারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশি পরিচয়ে সেখানে বসবাস করছে। সেখানে তারা সমস্ত অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জন্য বাঙালিদের বদনাম হচ্ছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সৌদি আরব গিয়েছিল তখন বিএনপিই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়েছিল।”

তিনি বলেন, “সরকার কূটনৈতিকভাবেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করছে। সহসাই এই সমস্যার সমাধান হবে। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গাদের প্রচেষ্টা আছে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য। তাদের পাসপোর্ট তৈরিসহ নানাভাবে যারা সহযোগিতা করছে তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে অস্থিরতাকে দলটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। সহসাই ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় পার্টি কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে তথ্যমন্ত্রী রবি-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজে অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে বিতর্ক। বিতর্ক ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই সমাজ এগিয়ে যেতে পারে সে কারণে বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিতর্ক ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ ঠিকতে পারে না।”

দৃষ্টির সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির সদস্য সাফিয়া গাজী রহমান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, কর্ণফুলি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দিন তাবরীজ প্রমুখ।



মন্তব্য চালু নেই