মেইন ম্যেনু

বাল্যবিয়ে দিতে চাওয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, শুনে মায়ের মৃত্যু

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বাল্যবিয়েতে রাজি না হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে এক স্কুলছাত্রী। এ খবর শুনে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে মায়ের।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার উত্তর বালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার উত্তর বালিপাড়া গ্রামের জব্বার বেপারীর মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রেশমা আকতারের (১২) সঙ্গে একই গ্রামের মোতালেব চৌকিদারের ছেলে শফিকুল ইসলামের এক মাস আগে বিয়ে ঠিক হয়। রেশমা এ বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে প্রায় ঝগড়া হতো।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মা মিনারা বেগম রেশমাকে মাঠ থেকে হাঁস আনতে বললেও রেশমা মায়ের কথা না শুনে ঘরে বসে থাকে। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে রেশমার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মা রাগ করে রেশমাকে জুতাপেটা করেন। পরে রেশমা ক্ষোভে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। স্বজনরা টের পেয়ে তাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টায় রেশমা মারা যায়। রেশমার মৃত্যুর খবর শুনেই তার মা মিনারা বেগম স্ট্রোক করেন এবং শুক্রবার সকালে মারা যান।

রেশমা উপজেলার উত্তর বালিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

রেশমার ভাবি শিল্পী আক্তার জানান, এক মাস আগে রেশমার সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বিয়ের কথা ঠিক হয়। ছেলের মা রেশমাকে আংটি পরিয়ে যান। বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার শাশুড়ি রেশমাকে মাঠ থেকে হাঁস আনতে বললেও রেশমা আনেনি। তখন আমার শাশুড়ি রাগ করে তাকে জুতাপেটা করলে রেশমা ক্ষোভে কীটনাশক পান করে মারা যায়। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে শাশুড়ি স্ট্রোক করে মারা যান।

ইন্দুরকানী থানার উপপরিদর্শক হেমায়েত উদ্দিন জানান, রেশমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে রয়েছে। শুনেছি স্কুলছাত্রী রেশমার এক মাস আগে পার্শ্ববর্তী একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল।



মন্তব্য চালু নেই