মেইন ম্যেনু

বাল্যবিয়ে বন্ধ করায় ইউএনও অফিসে কনের আত্মহত্যার চেষ্টা

কনে আঁখিমণির বয়স (২৪)। আর বর আরিফের বয়স (১৮)। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরেই প্রেমের সম্পর্ক তাদের। দু’জনে সিদ্ধান্ত নেন বিয়ের।

কিন্তু ছেলেটির বয়স ২১ বছরের কম। তাই তারা নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র কাজী অফিসে বিয়ে করতে যান। কিন্তু এলাকাবাসীর সন্দেহ হওয়ায় আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।

মেয়েটিকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ভিক্সল পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে মেয়েটি।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বিকালে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অফিসের বাথরুমে।

সন্ধ্যায় আঁখিমণি (২৪) নামে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুরে। তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি।

তবে বর আরিফের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের বাররা গ্রামে। এ ঘটনায় বর আরিফুল ইসলাম, তার বাবা আয়ুব আলী, কাজী আজিজুল ইসলাম ও আরিফুলের এক চাচাকে আটক করেছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, পিরোজপুরের নাজিরপুর এলাকার আঁখিমণির সঙ্গে যশোরের বাঘারপাড়ার তরুণ আরিফের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। তারা রোববার সকালে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন কাজী অফিসে বিয়ে করতে যায়।

তিনি বলেন, দুইজন অপরিচিত লোকজন দেখে এলাকাবাসী তাদের আটকে দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তারা আমাকে ফোন করেন। এ সময় ওই দুইজন ও কাজী, ছেলের বাবাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনতে বলা হয়।

ইউএনও বলেন, বিকালে তারা আসলে, মেয়েটির কাছ থেকে পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিতে থাকে। এই ফাঁকে ওই তরুণী বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে। একপর্যায়ে অফিসের স্টাফের বাথরুমে তাকে পাঠানো হয়। অনেক সময় ধরে বাথরুম থেকে বের না হওয়া সন্দেহ হয়।

তিনি বলেন, বাথরুমের দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে মেয়েটি দরজা খুলে দেয়। বাথরুমের মধ্যে থাকা ভিক্সল (বাথরুম পরিষ্কারের তরল পদার্থ) খালি বোতলে পানি দিয়ে পান করে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউএনও মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, মেয়েটির প্রাপ্তবয়স্ক হলেও ছেলেটির বয়স ২১ বছরের কম। এ ঘটনায় ছেলেটির বাবা, কাজীসহ চারজনকে পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তারেক শামস জানান, ওই তরুণীর অবস্থা আশংকাজনক।

কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বাল্যবিয়ে দেয়ার অভিযোগে বর ও তার বাবা, চাচা এবং কাজীকে স্থানীয় চেয়ারম্যান পুলিশ হেফাজতে দিয়েছে। সার্টিফিকেট অনুযায়ী ছেলেটির বয়স ১৯ বছরের কম। তবে মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক। অসুস্থ মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।



মন্তব্য চালু নেই