শিরোনাম:

বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী আছে : প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের অন্য দেশ যেখানে হিমসিম খাচ্ছে, নিজেরা অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে। সেখানে বাংলাদেশ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে বলে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে যশোর জেলা স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় এ মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা আরোও বলেন, আমাদের রেমিট্যান্স আসছে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। আমদানি-রপ্তানি আয়, ট্যাক্স কালেকশন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্য দেশ যেখানে হিমসিম খাচ্ছে, নিজেরা অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে। সেখানে বাংলাদেশ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেখি কেউ কেউ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে। রিজার্ভের কোনো সমস্যা নাই। অনেকে বলে ব্যাংকে টাকা নাই। কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তোলে। ব্যাংকের টাকা তুলে ঘরে রাখলে তো চোরে নিয়ে যাবে। চোরের জন্য সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু ব্যাংকে টাকা নেই এই কথাটা মিথ্যা।
সরকার প্রধান বলেন, তিনি বলেন, গতকালও আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরসহ তাদের সাথে মিটিং করেছি। আমাদের এ বিষয়ে কোনো সমস্যা নাই। প্রত্যেকটা ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতে আজকে অর্থনৈতিক মন্দা। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা অর্থনীতিকে এখনও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

রিজার্ভ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে। যে রিজার্ভ গেল কোথায়? রিজার্ভ কোথাও যায়নি। মানুষের কাজে লেগেছে।

প্রায় পাঁচ বছর পর যশোরে গিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তার অংশগ্রহণে উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে যশোর।

নানা রঙের পোশাকে নেতাকর্মীরা যশোরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে সমাবেশস্থল যশোর স্টেডিয়ামে আসেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের অনুসারীদের ছবি সংবলিত টি-শার্ট পরে নেতাকর্মীদের খণ্ড খণ্ড মিছিল জনসভায় জড়ো হয়েছে। তাদের অনেকের হাতে শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রহমানের প্ল্যাকার্ড রয়েছে।

যশোরের খেজুর গুড়ের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যশোর সব সময়, একদিকে যেমন খেজুর গুড়ের দেশ আবার ফুলে ফুলে শোভিত, ফুল উৎপাদনেও যশোর ১ নম্বরে আছে। আমরা কৃষকের সবরকম সুযোগ করে দিচ্ছি। ১০ টাকায় তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। কৃষি উপকরণ কার্ড দিয়েছি। দুই কোটি কৃষক সেই কার্ড পান। এক কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তাদের টাকা তাদের হাতে সরাসরি চলে যায়। ৯০ টাকায় সার কিনে মাত্র ১৬ থেকে ২২ টাকায় সেই সার আমরা কৃষককে দিচ্ছি। কৃষি উপকরণের কোনও অসুবিধা যাতে না হয় তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যশোরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, মেডিকেল কলেজ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করে দিয়েছি।

যশোরে জনসভা করতে পেরে আমি আনন্দিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানকার মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর ছিল, তখন তিনি মারা যান। ওই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা এতই খারাপ ছিল, এর কারণে এখানে আসা যায়নি। তাই আমার নানাকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এখানে আমার নানার স্মরণে আইটি পার্ক করা হবে।’

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, সম্পাদক মন্ডলী সদস্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সামছুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, ইকবাল হোসেন অপু, আনিসুর রহমান, মেরিনা জাহান কবিতা ও পারভিন জামান কল্পনা।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।