মেইন ম্যেনু

‘বুয়েট আন্দোলনে আলুপোড়া খাওয়ার দল ঢুকে পড়েছে’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আলুপোড়া খাওয়ার দল ঢুকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আশরাফুল আলম বলেন, বুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটা যৌক্তিক। তারা ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যকর আন্দোলন করছেন। কিন্তু এই আন্দোলনের মধ্যে বসে কেউ কেউ আলুপোড়া খাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই গ্রুপটিই যত নষ্টের মূল।

গত রবিবার রাতে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে তার হলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠে। ভিন্নমতের কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব এর সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকার যদি ভিন্নমতের টুঁটি চেপে ধরতোই তাহলে কি অকথ্য ভাষায় আপনারা এইসব গালিগালাজ করতে পারতেন?’

আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সরকার ছাড় দেয়নি জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর আশরাফুল লেখেন, হত্যাকারীরা নিজ দলের হলেও সরকার কিংবা ছাত্রলীগ কেউই বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।

আশরাফুল আলম খোকনের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো-

একটা তরতাজা মেধাবি ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এখনো একজনকেও পাইনি যারা এই হত্যাকাণ্ডের পক্ষে কথা বলেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সবাই ব্যথিত। দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটাই সবার দাবি। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। আসামিরা অধিকাংশ গ্রেপ্তার হয়েছে। রিমান্ডেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

হত্যাকারীরা নিজ দলের হলেও সরকার কিংবা ছাত্রলীগ কেউই বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।

২০০২ সালে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে নিহত বুয়েট ছাত্রী সনি হত্যা মামলার আসামিরা এখন দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। খুনিদের একজন ছাত্রদলের গত কমিটিতেও সহসভাপতি ছিলেন।

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল এই বুয়েট ক্যাম্পাসে আরিফ রায়হান দ্বীপকে কুপিয়ে যারা হত্যা করেছিল তারা এই বুয়েটেরই ছাত্র। কারণ দ্বীপ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়েছিল। তখন কিন্তু আমাদের বিবেক জাগ্রত হয়নি, এখন হয়েছে। তখন হয়নি বলে এখন হবে না এমন কোনো কথা নেই। ‘বেটার লেট দ্যান নেভার।’ তবে তখন আমাদের বিবেক জাগ্রত হলে হয়তো মৃত্যুর মিছিলটা বড় হতো না।

বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটা যৌক্তিক। তারা ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যকর আন্দোলন করছেন। তারা হত্যার বিচার চাইছেন এবং এই রকম ঘটনা যাতে না ঘটে এর জন্য ছয় দফা দাবি দিয়ে স্থায়ী সমাধান খুঁজছেন। কিন্তু এই আন্দোলনের মধ্যে বসে কেউ কেউ আলুপোড়া খাওয়ার চেষ্টা করছেন। ওই যে কথায় আছেনা, ‘কারো ঘর পোড়ে, আর কেউ কেউ সেই আগুনে আলু পুড়ে খায়’। এই গ্রুপটিই হচ্ছে যত নষ্টের মূল।

তারা সবসময় সুযোগই খুঁজে আন্দোলনের মধ্যে তাদের দলীয় ও নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। এইভাবে এজেন্ডা নিয়ে ঢুকে তারা সার্বজনীন কোটা আন্দোলন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবহন আন্দোলন নষ্ট করেছে। কালও দেখলাম ব্যানারে লেখা, ‘আবরারদের মৃত্যু নাই- খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।’

আন্দোলনগুলোর প্রথম সারিতে এনজিও- এম্বাসিপন্থী ও শিবিরের পরিচিত মুখগুলোও দেখা যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলা। এই কুচক্রী মহলের উপস্থিতি দেখে আন্দোলনের অনেক পরিচিতমুখ ইতিমধ্যে এই আন্দোলন থেকে বেরিয়ে এসেছে।

তারা কিন্তু হত্যার বিচার চাচ্ছেন না। তারা বারবার বলার চেষ্টা করছেন যে ‘ভিন্নমত’র কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। এদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিডিয়ার কিছু লোকজনও টকশোতে সমস্বরে বলছেন ভিন্নমতের কথা। হিসাবটা খুব সহজ। শুধু ভিন্নমতের কারণেই যদি হত্যাকাণ্ড ঘটে, তাহলে আপনারা দিনের পর দিন ষাঁড়ের মত চিৎকার করছেন কিভাবে? এখনই’বা মিডিয়াতে এইসব বলছেন কিভাবে? সরকার যদি ভিন্নমতের টুঁটি চেপে ধরতোই তাহলে কি অকথ্য ভাষায় আপনারা এইসব গালিগালাজ করতে পারতেন?

একটা নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আপনাদের এজেন্ডা না ঢুকিয়ে বিচার চান। নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এলে এই আন্দোলনটিও অন্যগুলোর মতো নষ্ট হয়ে যাবে।



মন্তব্য চালু নেই