বেগম রোকেয়া দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী প্রদান করেছেন।

বেগম রোকেয়া দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে আমি মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘বেগম রোকেয়া দিবস ২০২০’ উদযাপন ও ‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২০’ প্রদানের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন, পশ্চাদপদ ও রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে শিক্ষাবঞ্চিত, অবহেলিত ও প্রতিবন্ধকতার আবর্তে নিপতিত নারী সমাজকে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করতে বেগম রোকেয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক, নারী গবেষক, প্রগতিশীল চিন্তা ও উদার মানবতাবোধের অধিকারী। নারীর ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা তিনি দূরদর্শিতার সাথে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। সমাজের বিরূপ ও বিরুদ্ধ চিন্তার প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে নারীশিক্ষা ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তিনি সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর প্রদর্শিত পথেই উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ প্রত্যয়দীপ্ত নারীরা বিস্ময়কর উত্থান ঘটিয়েছেন।
নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার নারী সমাজকে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিচক্ষণ, গতিশীল ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইন প্রণয়ন, প্রশাসন, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, শিল্প-সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ পেশাভিত্তিক সকল ক্ষেত্রে নারীদের আজ গর্বিত পদচারণা। নারীরা এভারেস্ট বিজয় থেকে শুরু করে শান্তি মিশনের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বও সম-দক্ষতায় সম্পাদন করছেন। ফলে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সমাজের সকল স্তরে নারীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম করতে সকলের বিশেষত পুরুষদের সহযোগিতা খুবই জরুরি। বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বছর নারী ও সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখার জন্য যাঁরা ‘বেগম রোকেয়া পদক – ২০২০’ পেয়েছেন আমি তাঁদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। বেগম রোকেয়ার কর্ম ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করে আমাদের নারী সমাজ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে, বেগম রোকেয়া দিবসে আমি-এ প্রত্যাশা করি।
জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

বেগম রোকেয়া দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাঙালি নারীশিক্ষার অগ্রদূত, সমাজসংস্কারক ও সাহিত্যিক বেগম রোকেয়ার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ‘বেগম রোকেয়া দিবস-২০২০’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সকল নারীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। নারী উন্নয়নে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যাঁরা এবছর ‘রোকেয়া পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন, তাঁদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

‘বেগম রোকেয়া’ শুধু একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন নারী শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান। ‍ঊনবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন রক্ষণশীল সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে তিনি নারী জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দেন শিক্ষার আলো। ক্ষুরধার লেখার মাধ্যমে নারীর প্রতি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের মূলে আঘাত হানেন তিনি। বেগম রোকেয়া তাঁর প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের কথা উচ্চকণ্ঠে তুলে ধরেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘নারীদেরও পুরুষদের মতো সমান অধিকার এবং তা রাজনীতির ক্ষেত্রেও। আওয়ামী লীগ যেমন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে তেমনি নর-নারীর সমান অধিকারেও বিশ্বাস করে।’ তিনি ১৯৭২ সালে সংবিধানের ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা করেন। নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করেন। মেয়েদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালের মন্ত্রিসভায় দুইজন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের প্রায় সকল ক্ষেত্রে নারীকে সম্পৃক্ত করেছে। আমরা নারীবান্ধব বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে কর্মক্ষত্রে নারীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছি। নারীর প্রতি সকল ধরনের নির্যাতন প্রতিরোধে রয়েছে কঠোর আইন এবং আইনের প্রয়োগ। রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনীতি, কূটনীতি, আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন, আইন-শৃংখলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, তথ্য-প্রযুক্তি, শিল্প ও সাহিত্য, খেলাধুলাসহ সকল ক্ষেত্রে এদেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নারীবান্ধব নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অর্জিত হয়েছে স্বীকৃতি ও সম্মাননা। পূরণ হয়েছে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন।

বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারী-পুরুষ উভয়কেই একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।

আমি ‘রোকেয়া দিবস ২০২০’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

তথ্যবিবরণী



মন্তব্য চালু নেই