বৈরুতে বিস্ফোরণ: কেমন আছেন বাংলাদেশিরা?

লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরের একটি ওয়্যারহাউজে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশিসহ নিহত হয়েছেন ১৩৫ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে রাজধানীজুড়ে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। খবর আল জাজিরা।

এদিকে এ ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহতসহ প্রায় ১০০ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ২১ জন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য। আহতদের মধ্যে একজন নৌ সেনার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।

অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার শিকার প্রবাসীসহ সবার খোঁজ রাখছে দূতাবাস।

একজন প্রবাসী জানান, সেই এলাকায় আমার একজন বন্ধু রয়েছে, সে আহত হয়েছে। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।

আরেকজন বলেন, লেবাননে আমরা প্রায় দেড় লাখ প্রবাসী আছি, সবার মধ্যেই আতংক কাজ করছে।

লেবাননে বর্তমানে দেড় লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আবদুল্লাহ আল মামুন ওয়াটস আপ বার্তায় জানান, এ পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১০০ জনের মত। এদের মধ্যে ৭৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ২১ জন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য।

তিনি বলেন, নিহতরা হচ্ছে ব্রাম্মণবাড়িয়ার মেহেদী হাসান ও রাসেল, মাদারিপুরের মিজান এবং কুমিল্লার রেজাউল।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আহতদের মধ্যে একজন নৌ সেনার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত মেডিকেল সেন্টারে (এইউবিএমসি) ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্যান্যদেরকে ইউনিফিলের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হেলিকপ্টার বা এম্বুলেন্সযোগে হামুদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত। শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আহত নৌসদস্যদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, বিস্ফোরণ স্থলের ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হলেও বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় নৌবাহিনী জাহাজ বিজয়-এর বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নৌবাহিনী জাহাজ, ইউনিফিল সদর দপ্তর ও বৈরুতস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসের সাথে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইউনিফিল হেড অব মিশন এবং ফোর্স কমান্ডার ও মেরিটাইম টাস্কফোর্স কমান্ডার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার অব্যবহিত পরই বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমান সরেজমিনে বানৌজা বিজয় পরিদর্শন করেন এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদানে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সাল হতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। ভূ-মধ্যসাগরে মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে বর্তমানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বিজয়’ ইউনিফিলে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছে। জাহাজটি লেবাননের ভূ-খন্ডে অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি লেবানীজ জলসীমায় এই জাহাজ মেরিটাইম ইন্টারডিকশন অপারেশন, সন্দেহজনক জাহাজ ও এয়ারক্রাফটের উপর গোয়েন্দা নজরদারী, দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজে উদ্ধার তৎপরতা এবং লেবানীজ নৌসদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে।



মন্তব্য চালু নেই