মেইন ম্যেনু

ভয়কে জয় করে শোলাকিয়ায় লাখো মুসল্লির ঢল

ভয়কে জয় করে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করলেন লাখো মুসল্লি। সোমবার সকাল ১০টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে শুরু হয় ঈদের জামাত। শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের ১৯০তম জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তিু ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা হয়।

শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণগত বছরের জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে এবার শোলাকিয়ায় নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তাকে প্রাধন্য দিয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিশ্চিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোশাকে নজরদারি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়াও শহরসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ আবারও তল্লাশি করা হয়। শোলাকিয়া মাঠ ও শহরের যত অলিগলি আছে, সবখানে বসানো হবে নিরাপত্তা চৌকি। এ উপলক্ষে শহরের মোড়ে মোড়ে নির্মাণ করা হয় শুভেচ্ছা তোড়ণ। রাস্তার দু’পাশে টাঙানো হয় রঙ-বেরঙের পতাকা ও ব্যানার। সব মিলিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ।

মোনাজাতের আগে ফরিদ উদ্দীন মাসউদ তার বক্তৃতায় বলেন, ‘এদেশের মানুষ কোনোদিন চরমপন্থা গ্রহণ করেননি। এক সময় দেশে বামপন্থার নামে এদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে। এখন ধর্মের নামে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ এগুলো গ্রহণ করেননি। কোনোদিনও গ্রহণ করবেন না।’

সব ভয়কে জয় করে ভোর থেকেই মুসল্লিরা শোলাকিয়া মাঠে যেতে থাকেন। কেউ গাড়িতে চড়ে কেউবা পায়ে হেঁটে জামাতে অংশ নিতে আসেন। সকাল নয়টার দিকেই পুরো মাঠ ভরে যায়। তবে কড়াকড়ি নিরাপত্তা ও মোবাইল ফোন নিয়ে মাঠে প্রবেশে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক মুসল্লিকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

সকালে দুটি বিশেষ ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে কিশোরগঞ্জে আসে। রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়।

জনশ্রতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত। সাধারণ মুসল্লিদের বিশ্বাস বেশি লোক একসঙ্গে নামাজ পড়ে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। সে কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করতে আসেন।



মন্তব্য চালু নেই