মেইন ম্যেনু

মধুর ক্যান্টিনে চেয়ার না পেয়ে মেঝেতে ঠাঁই ছাত্রদলের

নতুন কমিটি হওয়ার পর মধুর ক্যান্টিনে প্রায় প্রতিদিনই যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে গিয়ে প্রথমদিকে চেয়ারে বসতে পারলেও কয়েকদিন ধরে বসতে পারছেন না তারা। ছাত্রদল কর্মীদের যাওয়ার আগেই মধুর ক্যান্টিনের সব চেয়ার নিজেদের দখলে নেয় ছাত্রলীগ।

বৃহস্প‌তিবার সকালে মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে চেয়ার না পেয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানাতে মেঝেতেই বসে পড়েন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতীকী অবস্থানের সময় চেয়ার দখল করে বসেছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে যান ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। তারা যাওয়ার আগেই মধুর ক্যান্টিনের সব চেয়ার দখল করে নেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের গিয়ে কোনো চেয়ার খা‌লি না পেয়ে ছাত্রলীগের পাশেই মেঝেতে বসে পড়েন। কিছুক্ষণ সেখা‌নে অবস্থান নেওয়ার পর সাড়ে ১১টার দিকে মধুর ক্যান্টিন থেকে বে‌রিয়ে যান তারা। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার। বাংলাদেশে যখনই গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে আলোর পথ দেখিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিশ্বাস করি। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করি। কিন্তু ভিন্নমত ধারণ করার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি এবং আমার সংগঠন তার নৈতিক দাবি থেকে বঞ্চিত।

ছাত্রদল সম্পাদক বলেন, ‘আজকে আমরা মধুর ক্যান্টিনে বস‌তে পারছি না। মাথার ওপর থে‌কে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের চেয়ার টেবিল নিয়ে যাওয়া হ‌চ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে এটা বড়ই বেমানান। এরই প্রতিবাদে আজকে আমরা মধুর ক্যান্টিনের মে‌ঝে‌তে বসেছি।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশের জনগণ দেখুক এক পাশে চেয়ার নিয়ে ছাত্রলীগ দখলদারিত্ব চালাচ্ছে অন্যদিকে ছাত্রদল মা‌টি‌তে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের চিনুক এবং আমাদের সম্পর্কে একটা ধারণা আসুক যে আমরা কতটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য চালু নেই