শিরোনাম:

মরুর বুকে সবুজ বন

অনেকটা ম্যাজিকের মতো কাজ করেছেন তিনি। ছিল বিরান মরুভূমি, হয়ে গেল সবুজ অরণ্য। এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে তুলেছে তুরস্কের হিকমেত কায়া।

সারা বিশ্বে যেভাবে বন ও অরণ্যের পরিমাণ কমে যাচ্ছে সেখানে একার প্রচেষ্টায় এমন মহান কাজ আসলেই অতুলনীয় এবং প্রশংসার যোগ্য।

তুরস্কের নাগরিক হিকমেত কায়া বন দফতরের প্রাক্তন অধিকর্তা ছিলেন। তাই তিনি প্রতিনিয়তই দেখেছেন কীভাবে বন আর অরণ্য পৃথিবীর বুক থেকে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার আহ্বান অনেককেই করেছেন। তবে উপায় না দেখে শেষমেশ নিজেই এই গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

ভালো ও মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে বয়স কোনো বাধা নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। এখন তিনি সাধারণ মানুষের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।

স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেক আগেই। তবে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ৪১ বছর আগে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে নিজেই চারাগাছ লাগানো শুরু করেন হিকমেত।

কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৭৮ সালে। এই কর্মজীবনের ফাঁকেই করেছেন বৃক্ষরোপণের কাজ। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরেও ১৯ বছর ধরে বিরতিহীনভাবে বৃক্ষরোপণ করেছেন।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি গাছ লাগিয়েছেন তিনি। ব্যর্থ হয়নি তার অধ্যবসায়। ৪১ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আজ সেই বিরান মরুভূমির জমি বদলে গেছে ঘন সবুজ অরণ্যে।

স্বপ্ন সফল করতে পেরে হিকমেত আজ খুশি। পৃথিবকে সবুজের সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিতে গোটা বিশ্বেই তার মতো মানুষের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আনন্দবাজার