প্রধান ম্যেনু

মহানবীকে (স.) নিয়ে কটূক্তি, যা বললেন ভোলার এসপি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবীকে (স.) নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সাধারণ তৌহীদি জনতার বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লীদের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় ১০ পুলিশসহ প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। আমরা হ্যাকের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করেছি। আমরা এ নিয়ে গত রাতে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে আজকের প্রোগ্রাম হবে না।

কিন্তু সকাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসে সেখানে মাইকিং হচ্ছে এবং স্টেজ বানানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আমরা উপস্থিত মুসল্লীদের সঙ্গে কথা বলি এবং আমি নিজে সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। তারা সবাই আমার বক্তব্য শুনেছে। যখন আমি স্টেজ থেকে নেমে আসি তখন এক দল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

এসপি বলেন, অতর্কিত হামলায় তারা আত্মরক্ষার্থে একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়। যখন তারা আমাদের রুমের জানালা ভেঙ্গে ফেলছে তখন আমরা প্রথমে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ি। পরবর্তীকালে এতে কাজ না হওয়ায় ওপরের দিকে গুলি চালায়। এতে আমার জানামতে একজন পুলিশ সদস্যের বুকে গুলি লেগে গুরুতর আহত হন।

আমরা আহত অবস্থায় যাদের হাসপাতালে পাঠিয়েছি তাদের মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে বাকি আরও থাকতে পারে সেটা আমাদের কাছে তথ্য নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে মহানবীকে (স.) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠায়। এ নিয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে সর্বস্তরের তৌহীদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

এ বিক্ষোভ মিছিলটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। সাধারণ মানুষ আসার আগে বিক্ষোভটি বন্ধ ঘোষণা করতে বলেন। তাদের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই যে সব লোক আসছে তাদের নিয়ে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি সমাপ্ত করেন।

কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ওই মসজিদের ইমামের রুমে আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তারা নিজেদের বাঁচানোর জন্য উত্তেজিত মুসল্লীদের ওপর ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

এতে সেখানে থাকা মুসল্লীরা আরও উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে মুসল্লীদের সংঘর্ষ হয়। এতে চার মুসল্লী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক মুসল্লী।



মন্তব্য চালু নেই