প্রধান ম্যেনু

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি, পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে ভোলায় বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের একটি সমাবেশে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।

রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বোরহানউদ্দিন হাই স্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত ‘তৌহিদি জনতা’র একটি সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-মাহফুজুর রহমান পাটোয়ারী (২৩), মিজান (৩০), মাহবুর রহমান (৩০) ও শাহিন (২৫)। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পুরো পরিচয় জানা যায়নি। তবে আহতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)–কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ‌বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক ব্যক্তির বিচারের দাবিতে আজ ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ‘তৌহিদী জনতা’। এ সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগেই তারা মাইকিং করে। পরে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল নয়টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান শুরু করেন আয়োজকেরা। পরে পুলিশ ‘বাটামারা পীর সাহেব’ মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং তাকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যান। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন।

পুলিশের দাবি, উত্তেজিত লোকজন পুলিশের ওপর হামলা শুরু করলে তারা গুলি করতে বাধ্য হয়।

অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার বিকেলে বিপ্লব চন্দ্র শুভর নিজের ছবি সংবলিত ফেসবুক আইডি থেকে আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ)–কে গালাগাল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ পাঠানো হয়। যাদের ম্যাসেজে পাঠানো হয় তারা ম্যাসেজটি স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দিলে লোকজন প্রতিবাদ জানানো শুরু করে। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এ নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র শুভ বোরহানউদ্দিন থানায় তার আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন। এ সময় থানা-পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার কথা ধরে পটুয়াখালী থেকে আরেকজনকে গতকাল শনিবার আটক করে।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছোড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে। এতে সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার বলেন, ‘অনুমতি ছাড়াই তারা সমাবেশ করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের দ্রুত শেষ করতে বলি। কিন্তু তারা কথা না শুনে উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছুড়তে বাধ্য হই আমরা।’

প্রসঙ্গত, উপজেলার কাচিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু যুবক বিপ্লব চন্দ্র শুভ শুক্রবার তার নিজস্ব ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে। পুলিশ বিপ্লব চন্দ্র শুভকে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ ঘটনায় বিপ্লবের ফাঁসি দাবি করে মুসলমানরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। রোববার বেলা ১১টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন তারা।



মন্তব্য চালু নেই