মেইন ম্যেনু

মাগুরায় এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা শালিখা উপজেলার হাজরাটি গ্রামে মৃত স্ত্রীর বাবার বাড়িতে এসে বিজন বকশি (৩৫) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে কামারখালি বাজার সংলগ্ন মৃত সুকুমার বকশির পুত্র। বিজন কে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে তার পরিবার। যদিও এটিকে আত্বহত্যা বলে দাবি করছেন অভিযুক্ত পরিবারসহ স্থানীয় প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।

নিহত বিজনের ভাই বাবুল বকশি জানান, আট বছর আগে মাগুরা শালিখা উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের শংকর দত্তের মেয়ে প্রিয়া দত্তের সাথে ছোট ভাই বিজনের বিবাহ হয়। বিপ্রো (৭)নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে তাদের । দেড় বছর হলো বিজনের স্ত্রী প্রিয়া সাংসারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে অভিমানে অতিরিক্ত মাত্রায় গুল পানে আত্বহত্যা করে মারা যায়। এ ঘটনায় প্রিয়ার পরিবার হত্যার অভিযোগ এনে ফরিদপুর আদালতে বিজনসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা এখনো বিচারাধিন অবস্থায় রয়েছে।

কিছুদিন আগে থেকে বিজন তার মৃত স্ত্রী বাড়িতে পুত্র বিপ্রোকে মাঝেমধ্যে তার নানা নানির সাথে সাক্ষাতের জন্য আসা যাওয়া করতে থাকে। স¤প্রতি যশোর কেশবপুরে তাদের বড় বোন পলির বাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রিয়ার পরিবার নাতিছেলেকে দেখার জন্য আসতে বলায় ২৮ নভেম্বর বুধবার সন্ধায় পুত্র বিপ্রোকে নিয়ে তাদের বাড়িতে যায় বিজন। রাত্রে ১০ টার দিকে মোবাইলে বোনের কাছে নিজের জীবন নাশের আশংকার কথা জানায় সে, কিছুক্ষন পর তার মোবাইলে আবার ফোন দিলে অন্যদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান তারা, পরে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে শালিখা থানার মধ্যমে বিজন নিহত হয়েছে বলে জানতে পারেন তারা। খবর পেয়ে সকালে এসে থানা থেকে খবর নিয়ে শালিখা সদর হাসপাতালে রাখা তার মরদেহ দেখতে পান, এ সময় বিজনের পায়ে ধারালো অস্ত্রের কাটা ক্ষতের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন তারা। পরে ঘটনাস্থল হাজরাহাটি প্রিয়াদের বাড়িতে গেলে বিজন রাত্রে গুল পান করে ও বেøড দিয়ে নিজেই পায়ের রগ কেটে আত্বহত্যা করেছে বলে জানায় ওই পরিবারসহ স্থানীয় প্রতিবেশীরা। তাদের এ কথা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে অভিযোগ করে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন নিহতের বড় ভাই বাবুল বকশি।

ঘটনার বিষয়ে প্রিয়ার মা সুপ্রিয়া দত্ত বলেন, বড় মেয়ে প্রিয়া নিহতের ঘটনায় ফরিদপুর আদালতে বিজনসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন থাকা স্বত্বেও অভিযুক্ত বিজন কিছুদিন যাবৎ এখানে আসা যাওয়া শুরু করছে যা তাদের কাছে অপছন্দনীয় হলেও নাতি ছেলে বিপ্রোর কারনে বেশি কিছু বলতে পারতেন না তারা। ঘটনার রাত্রে সন্ধার পর এসে বিপ্রোকে রেখে বাইরে যায় সে, স্বামী শংকর দত্ত একটি বেসরকারি মিলে নৈশ প্রহরীর চাকুরি করায় ছোট দুই মেয়ে ও বিপ্রোকে নিয়ে ঘরের মধ্যে থাকা অবস্থায় রাত দশটার দিকে বাইরে থেকে এসে বারান্দায় পড়ে যায় বিজন, এ সময় গোংড়ানির শব্দশুনে ঘর থেকে বেরিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা এসে তাকে উদ্ধার করে শালিখা হাসপাতালে নেবার পথে সে মারা যায় বলে জানালেন তিনি।

হাজরাহাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও তদন্ত কর্মকর্তা এস আই লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার খবরে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তসহ মরদেহ পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। শুক্রবার সকালে মাগুরা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানালেন তিনি। ময়না তদন্তকারী মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মমতাজ মজিদ জানালেন, তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করে মরদেহের ময়না তদন্তের প্রাথমিক কাজ সম্প‚র্ণ করা হয়েছে, সকল প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত রিপোর্ট জানতে কিছ‚টা সময় লাগবে।



মন্তব্য চালু নেই