মেইন ম্যেনু

মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত দিনাজপুরের সোহেল

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্যে’ গানের এই কথাগুলো আজ বাস্তবে যেন রুপ পেয়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শহরের সোহেল আহমেদের মানবসেবার কাজের মধ্য দিয়ে। নেশার মত ছুটে বেড়ান অসুস্থ এবং অসহায় মানুষের খোঁজে। মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের এই তরুন ব্যবসায়ী।

টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ, বাল্য বিয়ে, অসুস্থরা সেবা বঞ্চিত, অভাবে সংসার চলেনা, প্রতিবন্ধি কিংবা অটিজম শিশুদের সমস্যা এধরনের যে কোন ঘটনার পাশে এসে দাড়ান সোহেল, সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতাও করেন। এমনকি রাস্তার পাগলদের নিয়ে ভাল হোটেলে একসাথে খেতেও বসেন তিনি।

সাদা মনের প্রচার বিমুখ মানুষ সোহেল আহমেদ, যার কাছে ধর্ম-বর্ণ বলে পৃথক কেউ নন। সবাই তার কাছে আপন। এখন তার নিয়মিত সাহায্য সহযোগিতার পরিমান মাসে দাড়িয়েছে ২০/২২ হাজার টাকায়। এরপরেও চলছে তার কার্যক্রম। এটাতেই যেন তার সুখ-শান্তি।

বীরগঞ্জ শহরে তার একটি বড় জুতা বিক্রয়ের দোকান রয়েছে। কর্মচারীদের হাতে ব্যবসা রেখেই ছুটছেন ব্যতিক্রমধর্মী মানব সেবায় এক নিবেদিত প্রাণ সোহেল আহমেদ।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবাসায়ী মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে সোহেল আহমেদ। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। ছোট ভাই সুমন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে শিক্ষা জীবন শেষ করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন। পরিবারে মা, স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলেকে নিয়ে সোহেল আহমেদ বীরগঞ্জে বসবাস করেন।

ছাত্রজীবনে আওয়ামী ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু দলে মূল্যায়িত না হওয়ায়, দলীয় গ্রুপিং-কোন্দলের কারণে রাজনীতি থেকে সরে আসেন সোহেল আহমেদ। স্নাতক পাশের পর ব্যবসার সাথে জড়িত হন।

শৈশব কাল থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সোহেল নিপিড়িত অসহায় গরীব দু:খী মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখতেন। তার চলার পথে যখন যেখানেই যে অবস্থায় ছিন্নমূল মানুষের খোঁজ পান তখন সেখানেই সাধ্যমত সাহায্য সহযোগীতা করার চেষ্টা করেন এবং তার নাম ঠিকানা সযত্নে সংগ্রহ করে রাখেন পরবর্তীতে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য। আনুমানিক ১৫ বছরের বেশী সময় ধরে নিভৃত পল্লীর শত শত দুস্থ, অসহায় মানুষের এ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই নিজ অর্থায়নে চালিয়ে যাচ্ছেন এই মানব সেবা। দুস্থ, এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, সুইপার, গরীব ছাত্র, পথের পাগল থেকে শুরু করে অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সোহেল।

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জের ঢেপা নদী এলাকার সুইপার কলোনীর জগলু বলেন, ভগবান আমাদের পাশে দাড়ানোর জন্য একজন মানুষকে পাঠিয়েছেন। আমরা ছোট জাত দেখে উনার মনে কোন ঘৃণা নেই। অসুস্থ হলে সোহেল ভাই নিজের টাকা দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ঔষধ কিনে দেন। প্রায় সময় এসে খোঁজ খবর নেন। বাজার না থাকলে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন।

পৌর শহরের ৯নং ওয়র্ডের সাওতাল পাড়ার বিধবা মারং মাই জানান, আমার স্বামী যেদিন মারা গেলেন সেদিন তার সৎকার করার জন্য কোন টাকা ছিল না আমার কাছে। হঠাৎ তিনি এসে সৎকারের জন্য টাকা দিয়ে বললেন চিন্তা করবেন না, যে কোন প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন।

গরীব মেধাবী বীরগঞ্জের বলরামপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী মাসুমা। পিতা ময়েজ উদ্দিন অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী। এ অবস্থায় পরিবার মাসুমার পড়াশুনা বন্ধ করে দেয়। এলাকাবাসীর পরামর্শে তারা মাসুমাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু মাসুমা বিয়ে করার অসন্মতি জানান। বিষয়টি জানতে পেরে সোহেল আহমেদ পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। পাশাপাশি মাসুমার পড়াশুনার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করছেন। এ ছাড়াও শতাধিক পরিবারকে তিনি প্রতিনিয়ত অর্থিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় সোহেল আহমেদ এর সাথে। তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি মানুষের পাশে না দাড়ায় তবে কে দাড়াবে। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ দিয়েছেন তাই দিয়ে যতদুর পারা যায় অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র মানুষের পাশে যেন দাড়াতে পারি। মানুষের সেবার করার মাঝেই তো শান্তি রয়েছে। ‘

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন



মন্তব্য চালু নেই