প্রধান ম্যেনু

মৃধা আলাউদ্দিন : কবিতার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

হারুন আল রাশিদ : বিকেল চারটা বাজলেই উত্তেজনা আরম্ভ হয়ে যায়। কখন শহরে যাবো। উদ্দেশ্য সাহিত্য আড্ডা। প্রথমে দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল অফিসে যাই। বসে থাকি বেশ কিছুক্ষণ। ঢাকা থেকে আসা কয়েকটা দৈনিক রাখা হতো নিয়মিত। দুই সপ্তাহ ধরে জনকণ্ঠ, সমকালের সাথে যোগ হয়েছে নতুন আরেকটি দৈনিক আল মুজাদ্দেদ। যথেষ্ট মানসম্মত মনে হতো সেসময়ে। ভেতরের রঙিন সাহিত্য পাতাটা শুরুতেই নজর কেড়েছে সবার।

প্রতিদিনের মতো আজও ব্যতিক্রম হয়নি রুটিনের। দিনটা ছিলো শুক্রবার। মনোযোগ দিয়ে মুজাদ্দেদের সাময়িকীটা পড়ছি। হঠাৎ চোখ আটকে গেলো একটা কবিতায়। শিরোনাম ‘ আমরা উদ্বেলিত উজ্জ্বল চাঁদ।’ কবির নাম মৃধা সালাউদ্দিন। তালগোল পেকে গেলো আমার মধ্যে। গত সপ্তাহে দেখলাম ‘মৃধা আলাউদ্দিন’। এই সপ্তাহে মৃধা সালাউদ্দিন। ব্যাপারটা কি?

কবি নয়ন আহমেদের সাথে প্রবেশ করলেন কবি আল হাফিজ, কামাল আহসান। বসা মাত্রই নয়ন ভাইকে খুলে বললাম বিষয়টা। কামাল আহসান বলিষ্ঠভাব নিয়ে কথা বলেন সবসময়। নয়ন ভাই বলার আগেই নিজ¯^ বিশ্লেষণ আরম্ভ করলেন কবি কামাল আহসান। ‘সম্ভবত মৃধা সালাউদ্দিন ও মৃধা আলাউদ্দিন দুই ভাই। আল মুজাদ্দেদ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক নজরুল গবেষক সাহাবুদ্দীন আহমেদ। তার সাথে দুই ভাইয়ের দারুণ সম্পর্ক। এই সুবাদেই এক সপ্তাহে এক ভাই, পরের সপ্তাহে অন্য ভাইয়ের কবিতা ছাপা হয়। নয়ন ভাই হেসে দিয়ে বললেন, ‘দুই ভাই সাহিত্য পাতাটা নিজেদের দখলে রেখেছেন।’ আল হাফিজও হাসতে হাসতে বললেন, ‘ঢাকার কবিরা বড় কবি। আর মৃধা এমনিতেই বেশ ভালো লেখেন। তার লেখা নিয়মিত ছাপা হবে এ দোষের কিছু না।’

চলমান জীবনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনায় ছাড়লাম বরিশাল শহর। অপ্রত্যাশতিভাবে। অবশ্য কয়েক মাসের জন্য। এমন বৈরী পরস্থিতিতেই ঢাকা গেলাম। জরুরি প্রয়োজনে। কষ্ট মোড়ানো কংক্রটিরে পথে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে হেঁটেছি মাইলের পর পর মাইল। কষ্টাঘাতে রক্তক্ষরণ হয়েছে বহুবার। তথাপি দুঃসময়ের ভেংচিকাটা মুহ‚র্তেও সাহিত্যের সাথে হৃদ্যতার দূরত্ব তৈরি হয়নি কোনোদিন। যখনই সুযোগের জানালার ছিটকিনি খুলতে পেরেছি, বুক ভরে টেনে নিয়েছি কাব্যের সুরভিত সুবাতাস।

পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা শেষ হলেই সিদ্ধান্ত নিলাম কবি আবদুল কুদ্দুস ফরিদী ভাইয়ের সাথে দেখা করবো। তিনি কাজ করেন মাসিক মদীনায়। বেশে কয়েকটা লেখা সাথে করে এনেছি। এই সুযোগে দেখোনো যাবে ফরিদী ভাইকে।
বেলা ১১টায় ঢুকলাম বাংলাবাজার মদীনা ভবনে। ফরিদী ভাইয়ের নির্দিষ্ট চেয়ারটা খালি পড়ে আছে। পাশের চেয়ারে একজন ভদ্রলোক মাথা নিচু করে মনোযোগ দিয়ে তার কাজ করছেন। অনেকটা সামনে গিয়ে সালাম দিলাম। মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে চোখ তুলে তাকালেন আমার দিকে।

বললাম- ফরিদী সাহেবের কাছে এসেছি। উনি কি আছেন? ভদ্রলোক মৃদু¯^রে শুদ্ধ, আবার অনেকটা ঢাকাইয়া উচ্চারণে বললনে-
‘একটু আগে বাইরে গেছেন।’
‘আপনি কোত্থেকে এসেছেন?’
বরিশাল থেকে।
‘কি করেন বরিশালে?’
বাংলায় অনার্স করছি। বিএম কলেজ থেকে।
‘কবি নয়ন আহমদে, আল হাফিজ, কামাল আহসান এদের চেনেন আপনি?’

বিকেলটা একসাথেই পার করি আমরা।
আমাকে বসতে বলে পিওন ডেকে চায়ের অর্ডার দিলেন। চা খেতে খেতে বাংলা সাহিত্য পরিষদ, মগবাজারের ঠিকানা দিলেন। বললেন, ‘বিকেলে সাহিত্য সভায় আসবেন। এটা সাপ্তাহিক সাহিত্য সভা। প্রতি মাসের দশ তারিখে হয়ে থাকে। আসবেন। অনুষ্ঠান শেষে কথা হবে ইনশাআল্লাহ।’ আমি সম্মতি দিয়ে মাসিক মদীনা ও মুসলিম জাহানের কয়েকটা কপি হাতে নিয়ে বের হয়ে আসলাম।

২.
আকর্ষিক দুর্যোগ নেমে এলো জীবনে। একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত। কাছ থেকে দেখেছি জীবনের বীভৎসতা। ভালোবাসার সুরভিত ফুলগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে চোখরে সামনে। দর্শক গ্যালারিতে বসে অবলোকন করছি বৈরী পরিস্থিতির তাণ্ডবতা।
জীবনরে এমন ভয়াবহতায় সিদ্ধান্ত নেই কিছুটা হলওে হাল ধরতে হবে সংসারের। চাকরির চেষ্টা করছি ইতিউতি। জোগাড় হচ্ছে না কোনোভাবেই। শেষমেশ কবি মৃধা আলাউদ্দিনের সহযোগিতায় ¯^ল্প বেতেনের চাকরি জোটে ‘নুসরা’ নামক একটা এনজিওতে। পোস্টিং দেয়া হয় হবিগঞ্জ।

কম বেতনের চাকরি হলেও প্রকৃতিকে কাছ থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার দারুণ সুযোগ এসে যায় জীবনে। সারাদিন ফিল্ডে কাজ করে পুরো বিকেলটা পার করে দিতাম সবুজের মাঝখানে। লতা, ফুল, পাতা, গাছগাছালিতে তী² দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করি চারপাশের সবুজকে। সুন্দরকে। সমৃদ্ধ করি নিজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার।

এগিয়ে যাচ্ছে জীবন ভবিষ্যতের দিকে। চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে চলতে থাকি আগামীর অচেনা-অজানা রাস্তায়। প্রতিদিন রেললাইনের পাশের চিকন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই দূর গ্রামে। সমিতির কিস্তি আদায় করার জন্য। নিন্মবিত্তরে জীবনযাত্রা অভিজ্ঞতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। প্রায়ই পকেটে থাকে কবি মৃধা আলাউদ্দিনের ‘রৌদ্দুরে যায় মন’Ñ যাকে বাংলায় বলে উর্দু কাপলেট-

১. শুঁড়িখানায় সবই আছে
এখান থেকে আর যাব না নারী কিংবা নরম তুলো নদীর কাছে
শীৎকার এবং ষড়ৈশ্বর্য শুঁড়িখানায় জোছনা-তারা সবই আছে।
২. বিষ প্রয়োজন
শুঁড়িখানার নরম দেহ, কাবাব ভুনা, আদিরসের নিষ্প্রয়োজন
কান্নাভেজা জীবনে আজ আমার দেখি সবার আগে বিষ প্রয়োজন।

৩. শুঁড়িখানায়
মধ্য রাতে শুঁড়িখানায় এমন করে দিলে যখন হাত ছেড়ে
নীল ব্যথাতে বুকের ভেতর শব্দ হলো যেমন করে কাঠ চেড়ে…

এখনকার মতো তথন সবার হাতে হাতে মোবাইল ছিলো না। মনতলা বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী টিপু সুলতান ভাইয়ের সাথে ভারি খাতির জমে যায় আমার। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে বসে থাকি ঘণ্টাখানকি তার দোকানে। টিপু ভাইয়ের ব্যবসায়ী মোবাইল দিয়ে বাড়িতে ফোন দিতাম। আমার কাছে কেউ ফোন দিলে ওই নাম্ব^ারইে দিতো। আমি না থাকলে অফিসে খবর দিয়ে ডেকে আনতেন তিনি।

কোনো এক মঙ্গলবার জমিয়ে গল্প করছি দোকানে। হঠাৎ কল আসলো। টিপু ভাই রিসিভ করে আমার হাতে দিলেন। বললেন- আপনার ফোন।

আমি হ্যালো বলতইে অন্য প্রান্ত থেকে, ‘হারুন, আমি মৃধা বলছি ঢাকা থেকে।’ ঢাকার বংশালে মাসিক দারুস সালাম পত্রিকায় তোমার জন্য চাকরি ঠিক করেছি। চলে এসো তিন-চার দিনের মধ্যে।’

ঢাকার যেকোনো পত্রিকায় চাকরি করার জন্য দীর্ঘদিন আকুপাকু করছিলো মনটা। চেষ্টা করেও সফল হইনি। বছরখানিক আগে বলে রেখেছিলাম মৃধা ভাইকে। ভুলে যাননি ভালোবাসার টানে। সুযোগের পায়রা দুয়ারে আসার সাথে সাথে সোনালি খাঁচায় বন্দি করে খবর দিলেন আমাকে।

তখন বাংলা সাহিত্য পরষিদ ছিলো মগবাজার ডাক্তারের গলির ভেতর। গুলিস্তান থেকে রিকশা নিলাম। ওয়্যারলসে মোড় পার হয়ে বেচারা রিকশাওয়ালা কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছে না ডাক্তারের গলি। আমারও নেই চেনাজানা। জিজ্ঞেস করলে, কেউ বলে ডানে যান। কেউে বলে বামে যান। ঘুরতে ঘুরতে একসময় গন্তব্যে আসলেও ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তিনতলায় উঠে সেমিনার কক্ষে প্রবেশ করলাম। বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতি জ্বালিয়ে সভার কাজ চলছে। আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বাংলা কবিতার রাজপুত্র কবি আল মাহমুদকে। দেখা যাচ্ছে না দর্শক সারির কারো মুখ। অন্ধকারে বসে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করলাম- মৃধা ভাই কি এসেছেন? হাত ধরে কাছে টেনে হেসে দিয়ে বললেন- ‘খুব বেশি দরকার?’
বুঝে গেলাম কবি মৃধা আলাউদ্দিনের কাছেই মৃধা ভাইয়ের খোঁজ নিচ্ছি।

সাহিত্য সভা শেষ হতে হতে প্রায় নয়টা বেজে গেলো। কবি আল মাহমুদের সমাপনী ভাষণ শেষে হওয়া মাত্রই যে যার মতো উঠে নিচে নামতে লাগলো। ডাক্তারের গলি থেকে বের হয়ে মৃধা ভাইয়ের সাথে উজ্জ্বল হোটেলের সামনে চলে এলাম। অল্প সময়ে আন্তরকিতা ছড়িয়ে দিলেন। মৃধা ভাই আরো অনেক আগে থেকেই আপনি থেকে তুমিতে নেমে হৃদয়ের দূরত্ব কমিয়ে ফেলেছেন। খোঁজ নিলেন বরিশালের কবি-সাহিত্যিকদের। ভ‚য়সী প্রশংসা করলনে কবি নয়ন আহমদের ও আল হাফিজের।

আমি আগেই বলেছি, মিষ্টি ভাষায়, সুন্দর করে কখনো চলতি শুদ্ধ ও কখনো ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলনে মৃধা ভাই। নিজের লেখার চাইতে অন্যের লেখার প্রশংসা বেশি করেন। নয়ন ভাই, রহমান হেনরি, মাসুরুর আরেফিন, মুস্তাফিজ শফি, সরকার আমিন, মুজিব ইমর, কবীর হুমায়ুন, নিজাম সিদ্দিকী (যিনি এখন আর আমাদের মাঝে নেই, চলে গেছেন আকাশের ওপারে আকাশে), টোকন ঠাকুর, রফিক মুহাম্মদ, ওয়ায়েদ আকাশ, শান্তা মারিয়া ও মিলু শামস, ¯^র্ণা নাজনীনকে নিয়ে সংক্ষেপে গঠনমূলক আলোচনা করলেন কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে। এদের কবিতা পড়বে, বর্তমান সময়ের অদ্বিতীয় উজ্জ্বল কবি বলে মন্তব্য করেন তাদের।

‘এখন হাঁসগুলো প্রচণ্ড ইচ্ছে করছে তারা ভাজা ডিম পারবে, অথচ মানুষের ভয়ে তারা তা করতে পারছে না। মানুষরা বলবে, এ হাঁসদের জাতে ওঠার জন্য আরেকটা ভণ্ডামী’- বললাম আমি, এ কবিতাও তো কালের অক্ষরে টিকে যাবে। কিছুই বললেন না মৃধা ভাই। শুধু মিষ্টি করে হাসলেন। কারণ, এ কবিতার চরণ তারই লেখা।

বাংলা সাহিত্যের নেতৃত্ব ও সেবা দানকারী অশ্বিনী কুমার দত্ত, কবি জীবনানন্দ দাশ, আহসান হাবিব, সুফিয়া কামালের জন্ম বরিশালে। মৃধা ভাইয়ের গ্রামের বাড়িও বরিশালে। জানলাম কথা প্রসঙ্গে। বড় ভালো লাগলো। এই জেলার সাথে আমার আত্মার নীবিড় সম্পর্ক। এখানের আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছি আমি। কেটেছে-শৈশব-কৈশোর। হৃদয়রে অলি-গলিতে লেপ্টে আছে বরিশালের অনেক ভালোবাসা। এই সম্পর্কের সুতো ছিঁড়ে যাবে না আমরণ। বিদায় নিলাম মৃধা ভাইয়ের কাছ থেকে। উঠে বসলাম রিকশায়। রিকশা এগিয়ে যাচ্ছে গুলিস্তানের দিকে। মন যেনো মৎস্য হয়ে সাঁতার কাটছে, অতীত হওয়া সেইসব দিনের কথাগুলো অথৈ নদীতে।

৩.
গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে। কানের উভয় পাশে মানুষের কোলাহল। পেছেনে পড়ে থাকছে হবিগঞ্জ। আমি ঢাকা অভিমুখী। মনে পড়লো মৃধা ভাইয়ের একটি কবিতার লাইন ‘সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে।’ নেকস্ট উইনটার মেন ইউল বি দ্য সানলাইট। অর্থাৎ আগামী দিনে মানুষ মানুষের মতো হবো। রৌদ্র হবে মানুষ। আমিও মানুষ হওয়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতের দিকে। আমার স্বপ্নের দিকে।

৪. আজ আমি ইতালিতে আছি। মৃধা ভাই আছেন বাংলাদেশে। কাজ করছেন একটা জাতীয় দৈনিকে। তার ‘সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে’ বইটা এবার নিউইয়র্কের বার্ন এন্ড নোবলস প্রকাশ করেছে। জানি আমি, জানে আমার অন্তর্যামী- মৃধা ভাইয়ের এ বড় প্রাপ্তিতে আমি যে কত খুশি হয়েছি, তা ভাষায় লিখে বোঝানো যাবে না। এ অন্তর দিয়ে উপলদ্ধির বিষয়; লিখে নয়। মৃধা ভাইয়ের জন্য রইল আমার নিত্য ভালোবাসা। তার সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে কবিতাটি দিয়ে আমার এ লেখার শেষ করলাম।

সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে
মানুষ আর মানুষ থাকবে না
সামনের শীতে সে রৌদ্র হবে
ঝরনা হবে পৃথিবীর অর্ধেক।

২.
একদিন খাটাসও খর্ব হবে
থাকবে না খোয়া ওঠা খাল,
সরে যাবে ঘিচিমিছি, ঘিঞ্জি প্রতারক ঘাস
কাক, কাকের কর্কশ আওয়াজ
পুড়ে যাবে বেহায়া বাতাস, জবড়জং জীবাশ্ম
নষ্ট হওয়া নারী, ছেঁড়া নাও
নৌফেল

৩.
নায়েগ্রার উত্তাল জলরাশি থেকে উঠে আসবে
আমাদের বারান্দায় রোদ…
সুউচ্চ মিনার থেকে আমরা শুনব আজান
এবং আলো আসবে আমাদের জরাজীর্ণ প্রাসাদে
যেনো পুড়ে যায় বেহায়া বাতাস
জবড়জং জড়ি ও জীবাশ্ম।

৪.
হে নদী! অশ্বারোহী আপেল
গাছের রৌদ্র ছেড়ে দেবো
এবঙ অভিন্ন ভ্রণ, খুলে যাবে খাল
খালের খোল,
খৈয়াম
যেনো সামনের শীতে, শীত মানুষ রৌদ্র হয়
ঝরনা হয় পৃথিবীর অর্ধেক।

৫.
নায়েগ্রার উত্তাল জলরাশি থেকে উঠে আসবে
আমাদের বারান্দায় রোদ,
আমরা শুনব সুউচ্চ মিনার থেকে আলোর আজান…।



মন্তব্য চালু নেই