ময়লার ট্রাকে ত্রাণ দিলো বরিশাল সিটি করপোরেশন

বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। এই ভাইরাসের তাণ্ডবে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। দেশে দেশে চলছে লকডাউন। রেহাই নেই বাংলাদেশও। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশ কার্যত বন্ধ। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষরা। এজন্য সরকারও বাড়িয়েছে সহোযোগিতার হাত। এই সহযোগিতা দিতে গিয়েই তীব্র সমালোচনার মুখে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।

বরিশালের কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। সোমবার কর্মহীন অসহায়, দুস্থ ও সুবিধা বঞ্চিত পরিবারগুলোকে খাদ্যসামগ্রী দিতে মাঠে নামে সিটি করপোরেশন। খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে তারা ব্যবহার করেছেন সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনের ডাম্পিং ট্রাক।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যেখানে নগরবাসীকে সুরক্ষার জন্য ঘরে থাকতে বলা হয়েছে সেখানে ময়লার গাড়িতে করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নগরবাসী।

তারা শংকা প্রকাশ করে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা ঘরে আছি। সংক্রমণ এড়াতে সরকারের দিকনির্দেশনা মেনে চলছি। অথচ সিটি করপোরেশন থেকে যে সহায়তা দিতে এসেছে তা তাদের ময়লা বহনের ডাম্পিং ট্রাকে এনেছেন।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রথমদিন সোমবার নগরীর ১০নং ওয়ার্ডে কর্মহীন ১ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি করে মসুর ডালের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়। চলমান করোনা মহামারির সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও অস্বচ্ছল ৪০ হাজার দুস্থ পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন।

ত্রাণসামগ্রী নিতে আসা ১০নং ওয়ার্ডের কেডিসি বস্তির বাসিন্দা রিক্সা চালক আব্দুল লতিফ বলেন, গত ৮/১০দিন যাবত ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ৫ সদস্যের পরিবারের উপার্জনক্ষম কেবলমাত্র আমি। রিক্সা চলাচল বন্ধ থাকায় ঘরে খাবার বলতে কিছুই নেই। সিটি করপোরেশন থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসা হয়েছে ময়লার গাড়িতে। ঘেন্না লাগলেও ত্রাণ নিতে হয়েছে।

নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে জমিয়ে রাখা নানা ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ডাম্পিং ট্রাকগুলো। ফলে এসব ময়লার গাড়ি কতটা জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নগরবাসী।

ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও বিসিসির প্যানেল মেয়র আয়শা তৌহিদ লুনা বলেন, ‘বিষয়টি আমি খেয়াল করিনি। কীভাবে কী হয়েছে সেটা জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি বলে এড়িয়ে যান তিনি।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ডাম্পিং ট্রাকগুলো পুরোপুরিভাবে জীবাণুমুক্ত। কেননা ত্রাণ সামগ্রী উঠানোর আগে ট্রাকগুলো জীবাণুনাশক ব্লিচিং দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। তাই এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বরিশালের আহ্বায়ক মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠান যদি এমন দুর্যোগ মুহূর্তে ময়লার গাড়িতে করে খাবার সরবরাহ করে তা মেনে নেওয়া যায় না।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনিবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, ‘জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জনগণের সুরক্ষার পরিবর্তে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে না। ময়লা বহনের গাড়িতে খাবারসামগ্রী বিতরণ অযোগ্যতা প্রমাণ করে।’



মন্তব্য চালু নেই