মেইন ম্যেনু

যা চাইলেই পাবে তার জন্য ধর্মঘট কেন, প্রশ্ন পাপনের

বাংলাদেশের ক্রিকেটে নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটে গেল সোমবার। এদিন দুপুরে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমসহ জাতীয় ক্রিকেটারদের অনেকেই উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ডাক দিয়েছেন ধর্মঘটের। বললেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দলের হয়ে মাঠে নামবেন না তারা। কোনো ক্রিকেট কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

এদিকে ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জরুরী সভা ডাকেন পাপন। প্রায় দুই ঘন্টা আলোচনার পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। যেখানে খেলোয়াড়দের ধর্মঘটে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। সেইসঙ্গে সম্প্রতি আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্টে বাংলাদেশের পরাজয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পাপন বলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের হার ছিল অপ্রত্যাশিত। বিপিএল থেকে যেকোনো ক্রিকেটে ফিক্সিং হয়েও থাকতে পারে। শিগগিরই ম্যাচ পাতানোর গোমর ফাঁস করা হবে। তবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনার পথ খোলা আছে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, দেশের ক্রিকেটের ইমেজ নষ্টের চেষ্টার লক্ষ্যে ছিল ক্রিকেটারদের। যেখানে তারা সফল হয়েছেন।

ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাই জানে না বলে মনে করেন পাপন। তিনি বলেন, ‘যে জিনিস ওরা চাইলেই পাবে তারা কেন আমাদের কাছে চাইছে না। এটা গভীর ষড়যন্ত্র। সবাই জেনে শুনে এসব করছে না। দুই-একজন থাকতে পারে। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা তাদের চিনি। তারা দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করতে চায়। আমি আপনাদের কাছে তাদের খুঁজে বের করার জন্য সময় চাই। তারা না খেললে আমি কি করতে পারি। তাতে তাদের লাভ কি?’

সবাই দেশকে ভালোবাসে বলে মনে করেন তিনি। সঙ্গে জানিয়েছেন দেশের ক্রিকেট নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। পাপন আরও বলেন, ‘আমার ধারণা যে ক্রিকেটাররা আছে তাদের সবাই দেশকে ভালবাসে। ৯৯ ভাগ ক্রিকেটকে অত্যন্ত ভালবাসে। আপনাদের মধ্যেও আছে। দেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। যাতে করে জিম্বাবুয়ের মতো ব্যান করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা দাবির জন্য আমাদের কাছে আসেনি, তারা আসবেও না, ফোন ধরে না। এটা পূর্ব পরিকল্পিত। তারা আমাদের কথা শোনার আগেই বয়কট করলো। এটা পরিকল্পনার অংশ।’

খেলা বয়কটের ঘোষণায় ‘অন্য কিছু আছে’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, দাবি-দাওয়া না দিয়ে খেলা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটাররা। সময়টা হলো যখন ভারত সফরের জন্য কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, নতুন বিদেশি কোচরা কাজে যোগ দিতে আসছেন।’

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার একটা চক্রান্ত চলছে। এটা সরকার থেকে শুরু করে সবাই জানে। আইসিসি থেকে নিষেধাজ্ঞা আনারও চেষ্টা হয়েছে। এখন দ্বিতীয় পর্যায় চলছে যাতে ভারত সফরটা বাতিল করা যায়।’

তিনি বলেছেন, ‘আমি যখন আসি তখন ওদের স্যালারি ছিল দেড় লক্ষ টাকা। আমি বাড়িয়ে করলাম চার লাখ টাকা। কোনো খেলোয়াড় বলতে পারবে যে, ওরা বলেছে কিন্তু পায়নি। ওদের ১৫ জনকে আমরা ২৪ কোটি টাকা বোনাস দিয়েছি। চিন্তা করতে পারেন? কী পরিমাণ সুযোগ সুবিধা বাড়াচ্ছি। টাকার জন্য ওরা খেলা বন্ধ করে দিবে?’

তিনি আরো বলেন, ‘ওরা কোয়াব নিয়ে কথা বলেছে। কোয়াব নিয়ে বিসিবির কিছু করার নেই। আগে আমরা এদেরকে রিকোগনাইজ করি নাই। পরে অনুমোদন দিলাম। তারপরও দেখব কী করা যায়? প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কথা বলেছে। আগে তো বেশিরভাগ ক্লাব টাকা দিত না। আমরা বিপিএল, ডিপিএলে সমস্ত পাওনা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। কিছু বাকি ছিল বিসিবি তা দিয়ে দিয়েছে। বিপিএল নিয়ে ওরা দাবি তুলেছে। আমি আগেই বলেছি, এবারের বিপিএল হবে বঙ্গবন্ধুর নামে। পরেরবার থেকে আবার আগেরবারের মতো হবে। এটা তো বলাই আছে। এটা নিয়ে কেন কথা বলতে হবে? এ তো ঠিক করাই আছে?’

চুক্তিভিত্তিক প্লেয়ারদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা রয়েছে খেলোয়াড়দের ১১ দফা দাবিতে। বিষয়টি নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমার জানা মতে, আমাদের চুক্তিভিত্তিক খেলোয়াড় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের চেয়ে বেশি। কজনকে টাকা দিব? ২০০-৩০০ খেলোয়াড়কে টাকা দিব? না খেললেও টাকা দিব? আম্পায়ারদের বেতন বাড়িয়েছি, গ্রাউন্ডসম্যানদের বেতনও বাড়িয়েছি। আমরা যা করছি তা দাবি হিসাবে আসে কীভাবে বুঝতে পারছি না। বাইরে খেলতে গেলে ফ্যাসিলিজ বাড়ানোর কথা বলেছে ওরা। চিটাগং, সিলেটে জিমনেসিয়াম করলাম। মাঠ তৈরি করতেছি। আগে যখন ছিল না তখন তো ওরা কথা বলেনি।’

ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ ফি নিয়ে পাপন বলেন, ‘ফার্স্ট ক্লাসে আগে ২৫ হাজার টাকা বেতন ছিল। আমরা ৩০ হাজার করেছি, ৪০ হাজার করেছি। এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন কিছুই করছি না। ওরা ভালো ট্রিটমেন্টের কথা বলেছে। আর কেমন ট্রিটমেন্ট চায় ওরা। প্রধামন্ত্রী নিজে খেলোয়াড়ের মেয়ের সঙ্গে খেলা করেন, হেঁটে বেড়ান। আর কেমন চায়?’



মন্তব্য চালু নেই