শিরোনাম:

যেকোনো সময় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

মাঝারি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার কথা জানানোর পর ‘যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান’ থেকে এ ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

চীনে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জায়ে রায়ঙ সোমবার বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ হুমকি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘ উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার ইচ্ছাতে যে কোনও সময় এবং যে কোনও স্থানে আইসিবিএমএস এর পরীক্ষা চালানো হবে ‘

উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, রোববারের পরীক্ষায় ওয়ারহেডের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এটি বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে সক্ষম হবে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানবে। এটির বড় ধরনের ভারি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতাও যাচাই করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘ গাইডেন্স ও স্থিতিশীল ব্যবস্থাসহ রকেটের সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত বিশেষত্বগুলোর সঠিকতা উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পুরোপুরি প্রমাণিত হয়েছে। বাস্তবে যুদ্ধকালীন অবস্থায় নতুন রকেট ইঞ্জিনের ওপর আস্থার বিষয়টিও পুনরায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

অ্যারোস্পেস বিশেষজ্ঞ জন স্চিলিং ৩৮ নর্থ নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়া অতীতে কখনও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় এতটা সফল ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে, মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উত্তর কোরিয়া হয়ত বাস্তবেই যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম হয়ে উঠেছে। তবে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে অগ্রগতির বার্তা দিচ্ছে।’

রোববার উত্তর কোরিয়া যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে সেটি রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের কাছে সাগরে গিয়ে পড়ে। কেসিএনএ জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তায় যেন বিঘ্ন না ঘটে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের সময় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। তাই ক্ষেপণাস্ত্রটি সবচেয়ে বড় অ্যাঙ্গেলে নিক্ষেপ করা হয়েছে; এটি উপরের দিকে দুই হাজার ১১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে ৭৮৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে।