শিরোনাম:

রংপুরের পীরগঞ্জে আড়াই সহস্রাধীক শিক্ষক- কর্মচারীর মানবেতর জীবন

রংপুরের পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় দেড় শতাধিক কোচিং সেন্টার ও কিন্টার গার্ডেন স্কুলের আড়াই সহস্রাধীক শিক্ষক- শিক্ষিকা ও কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি দ্বারা পরিচালিত হয়। গত বছরের মার্চ মাস থেকে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ১ বছরের অধিক সময় ধরে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎস বন্ধ হওয়ায় শিক্ষক- শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের বেতনও বন্ধ। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত অর্থায়নে ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হয়। আর এ জন্য প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ মোটা অংকের টাকাও গচ্ছা দিতে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় ভাড়ার টাকা পরিশোধে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা। অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়ীওয়ালার মাসিক ভাড়ার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বাড়ি খালি করতে বাধ্য হয়েছেন। মানুষ গড়া কারিগর হিসেবে খ্যাত শিক্ষকেরা জাতির বিবেগ। আর আজ সেই জাতির বিবেগরা অর্থাভাবে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন।

সরেজমিনে ভেন্ডাবাড়ী মডেল কিন্টার গার্টেন স্কুল, প্যারাগন প্রি-ক্যাডেট কিন্টার গার্টেন স্কুল, সানরাইজ কোচিং সেন্টার, রসুলপুর মুহিত পাবলিক স্কুল, গোল্ডেন ফিউচার কিন্টার গার্টেন স্কুল, খালাশপীর শিশু নিকেতন কিন্টার গার্টেন স্কুল, ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল কিন্টার গার্টেন স্কুল, ভেন্ডাবাড়ী এ্যাডভান্স কোচিং সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে তালা ঝুলছে।

খোঁজ মিললো, ভেন্ডাবাড়ী মডেল কিন্টার গার্টেন স্কুলের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম ও রসুলপুর মুহিত পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুনজুর হোসেন মিঠু মিয়ার। তারা এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪/১৫ জন করে শিক্ষক- শিক্ষিকা ও কর্মচারী রয়েছে। তারা কেহই সরকারী সুযোগ সুবিধা পায়না। ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশন ফি দিয়েই কোন রকম প্রতিষ্ঠানগুলো চলে। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় তাদের রোজীতে হাত পড়েছে। ফলে অনেকে শিক্ষিত বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেউ কেউ সংসারের প্রয়োজনে ঋণে জর্জরিত হয়ে নানা পেশায় সম্পৃক্ত হয়েছেন।

উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিপন (এমএসসি) চাকুরী খোজার পাশাপাশি পরিবার ও নিজের পকেট খরচ মেটানোর জন্য ভেন্ডাবাড়ী মডেল কিন্টার গার্টেনে শিক্ষকতা শুরু করেন। বেশ ভালই কাটছিল দিনকাল। কিন্তু ভয়াবহ করোনা’র কারণে কিন্টার গার্টেন বন্ধ থাকায় আয়- রোজগার একেবারেই বন্ধ। ফলে কর্জ-ধার করে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

অভিন্ন কথা জানালেন একই প্রতিষ্ঠানের বিশলা গ্রামের ডালিম কুমার (এমএসসি)।

রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চূড়ান্ত পর্বের ছাত্র শুলুঙ্গা গ্রামের সাকিব। তার বাবা আমজাদ হোসেন পেশায় একজন দর্জি। অসচ্ছল পরিবারের হাল ধরার জন্য লেখা-পড়ার পাশাপাশি সাকিব স্থানীয় কিন্টার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু কোভিট ১৯’এর জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েন। বর্তমান সে তার বাবার দর্জির দোকানে সেলাইয়ের কাজে সহয়তা করে কোন রকম সংসার চালাচ্ছেন।

ভূক্তভোগী শিক্ষক- শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।



মন্তব্য চালু নেই