মেইন ম্যেনু

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেদারসে চলছে সিম বিক্রি (ভিডিও)

স্থানীয়দের এনআইডি কার্ড এবং আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেদারসে মোবাইল অপারেটরদের এজেন্ট ও ডিলাররা সিম বিক্রি করেছে। এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে পুলিশের তদন্তে। জেলা প্রশাসক বলছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি বন্ধ না করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, রোহিঙ্গাদের এমন বেপরোয়া হয়ে ওঠার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দুষছেন স্থানীয়রা।

২৫ আগষ্ট নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজ দেশ মিয়ানমার ছাড়ার ২ বছর পালনের জন্য উখিয়া ক্যাম্প-থ্রি’র ইনচার্জের কাছে অনুমতি চেয়েছিলো মহিবুল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটস নামের সংগঠন। কিন্তু কোনো রকম লিখিত অনুমতি না থাকা সত্বেও তারা বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করে। আর এ নিয়ে শুরু হয় প্রশাসনে তোড়জোড়।

এ অবস্থায় সরকার রোববার সন্ধ্যায় প্রথম পর্যায়ে সাতটি ক্যাম্পের ইনচার্জকে বদলি করে। সবশেষ বদলি করা হয় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালামকে।

এরপর রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলোতে সিম বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অথচ ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গারা অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আসছে। মূলত স্থানীয়দের এনআইডি কার্ড এবং আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরদের এজেন্ট ও ডিলারদের মাধ্যমে হাজার হাজার সিম তুলে রোহিঙ্গারা ব্যবহার করছে। এমন তথ্য খোদ পুলিশের।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, মোবাইল অপারেটরের যে ডিলার রয়েছে, তারা কখনো কখনো বাঙালিদের নামে নিবন্ধিত সিমগুলি রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। বাংলাদেশের নামে যে নিবন্ধিত সিম রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হোক। নতুন করে বলে দেয়া হোক যে আর কোন সিম বিক্রি করা হবে না। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কর্তৃপক্ষ মোবাইল ও সিম বিক্রি বন্ধ করতে না পারলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট কানেকশনসহ অন্যান্য যে সুবিধা আছে সেগুলো বন্ধে জন্য টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে নির্দেশনা দিয়েছে। বিটিআরসি যথারীতি মোবাইল অপারেটদেরকে নির্দেশ দিয়েছে, যে এক সপ্তাহের মধ্যে এইগুলো কার্যকর যেনো করা হয়। আর যদি না হয়, তাহলে সরকারি আদেশ অমান্য করার কারণে এইগুলোর বিরুদ্ধে যে আইনগত ব্যবস্থা আছে, আমরা তা গ্রহণ করবো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের আচার-আচরণ প্রথম থেকেই প্রশাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে এতো বেপরোয়া হতে পারতো না তারা।

কক্সবাজার বাচাঁও আন্দোলন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, কিছু সরকারি কর্মকর্তারা তাদের অনুমতি দিয়েছে, আসলে এটা উদ্বেগজনক বিষয়। শরণার্থীদের এই ধরনের সমাবেশ করার নিয়ম আমরা কোথাও কখনো দেখিনি। এ বিষয়টি আমাদের স্থানীয় জনগণকে ভাবিয়ে তুলেছে। আশা করছি এই বিষয়ে সরকার কঠোর হবেন, এবং সজাগ থাকবেন।

পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। যারা ব্যবহার করছে বাংলাদেশি বিভিন্ন অপারেটরের ৫ লাখের বেশি সিম।



মন্তব্য চালু নেই