মেইন ম্যেনু

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় খুশি ইয়াবাকারবারীরা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে। এ খবর শুনে ইয়াবা সিন্ডিকেটগুলো সাময়িকভাবে মাদকপাচার বন্ধ রাখে। যে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে চোখে পড়ার মত ইয়াবা উদ্ধার হয়নি। কিন্তু ২২ আগস্টের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ইয়াবা পাচারকারীরা অতি উৎসাহী হয়ে ইয়াবা পাচারে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অজানা-অচেনা লোকজন ক্যাম্প ঢুকতে দেখা যাচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয় ইয়াবা পাচার দ্বিগুণ বাড়তে পারে।

বালুখালী ইউপি সদস্য নুরুল আবছার মেম্বার জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন করতে হলে রোহিঙ্গাদের আর্থিকভাবে দুর্বল করতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্পের ভেতর-বাইরে ইয়াবা লেনদেন করতে না পারে সে ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যাবাসন না হওয়াতে ওরা (ইয়াবাকারবারী) খুশি। ক্যাম্পের ঘরে ঘরে ইয়াবা কারবার চলছে। স্বর্ণ ব্যবসা থেকে শুরু করে এমন কোন ব্যবসা নাই যাতে রোহিঙ্গাদের হাত পরেনি। এমনকি ক্যাম্পের আনাচে-কানাচে ওষুধের দোকান ও চিকিৎসা কেন্দ্রে খোদ রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিরুনি অভিযান চালালে ইয়াবা পাচার অবশ্যই বন্ধ হবে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজাপালং ইউনিয়নের সিকদারবিল গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী আলী হোছন, নুরুল কবীর, শামসুল আলম জানান, শনিবার গভীর রাতে ১৮/২০ জন রোহিঙ্গার একটি দল মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছিল। আগে থেকে উৎ পেতে থাকা আইন প্রয়োগকারীর সংস্থার লোকজন ধাওয়া করলে রোহিঙ্গারা নির্ভয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তারা আরো জানান, এভাবে প্রতিনিয়ত শত শত রোহিঙ্গা মিয়ানমারের আসা যাওয়া করে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে।

সীমান্ত এলাকা রাজাপালং ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহম্মদ জানান, দিনের বেলায় শত শত রোহিঙ্গা বিনা বাধায় রাখাইনে চলে যায়। গভীর রাতে তারা ইয়াবাসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে অনায়াসে ক্যাম্পে ফিরে যায়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে ইয়াবা পাচার বন্ধ সম্ভব হবে না।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের মংডু এলাকায় যেসব শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা বসবাস করত তারা বর্তমানে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে বসে কল-কাঠি নাড়ছে। তারা সীমান্ত বাণিজ্যের সিএনএফ ব্যবসায়ীদের ম্যানেজ করে বাণিজ্য চুক্তির মালামালের সঙ্গে বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। পরে এসব ইয়াবা বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত শীর্ষ ইয়াবা কারবারির নিয়ন্ত্রণে মজুদ হয়। আবার রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে এসব ইয়াবা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

মিয়ানমারের বিজেপি, সামরিক জান্তাসহ উগ্রপন্থী রাখাইন জনগোষ্ঠী এখন ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত বিধায় সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ক্যাম্পে ঢুকছে। যে কারণে উখিয়ার ক্যাম্পগুলো এখন ইয়াবার আড়তে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন উখিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক তৌহিদুল আলম তৌহিদ। যেখানে ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে রোহিঙ্গা নর-নারী।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজামান বলেন, ইয়াবা প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর জানান, তিনি এ থানায় যোগদান করার পর থেকে ইয়াবা পাচার অনেকটা কমেছে।



মন্তব্য চালু নেই