শিরোনাম:

লিবিয়ার সংসদ ভবনে ঢুকে ভাংচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা

শুক্রবার (১ জুলাই) বিক্ষোভকারীরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের শহর তবরুকে অবস্থিত সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে। লিবিয়ার সংবাদ মাধ্যম বলছে , বিক্ষোভকারীরা দেশটির জীবনযাত্রার ক্রমহ্রাসমান মান ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এ উদ্যোগ নেয়।

একাধিক টিভি চ্যানেলের সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ভবনের ভেতর ঢুকে ভাংচুর করে। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সংবাদ মাধ্যিমের ছবিতে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। সংবাদ মাধ্যমের অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হয় যে ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।লিবিয়ায় শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় সংসদ ভবন জনশূণ্য ছিল।

অন্যদিকে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা বুলডোজার দিয়ে গেট ভেঙ্গে ফেলছে।

লিবিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। রাজনৈতিক কোন্দলের মাঝে কিছু তেল পরিশোধনাগারের বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘আমরা আলো জ্বলতে দেখতে চাই।’ এই অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

দেশের দুটি সরকার বেশ কয়েক মাস ধরে ক্ষমতা দখলের জন্য লড়ছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দেইবাহ’র ত্রিপোলি ভিত্তিক সরকার এবং অপরটি পার্লামেন্টের কাছ থেকে নিয়োগ পাওয়া ও পূর্বাঞ্চলের ‘শক্তিশালী মানব’ খলিফা হিফতারের সমর্থনপুষ্ট সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাথি বাশাগার নেতৃত্বাধীন সরকার। ।

জাতিসংঘ বৃহস্পতিবার জানায়, রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের জন্য দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে পার্লামেন্টের স্পিকার আগিলা সালেহ ও হাই কাউন্সিল অব স্টেটের সভাপতি খালেদ আল-মিশরি ৩ দিনের এক বৈঠকে বসেন। তারা নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি খসড়া সাংবিধানিক নীতিমালা তৈরির জন্য এ বৈঠকে বসেছিলেন।

জাতিসংঘের লিবিয়া বিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি স্টেফানি উইলিয়ামস জানান, কারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো মতৈক্য আসেনি।

কিছু অগ্রগতি হলেও, তা নির্বাচন আয়োজনের জন্য যথেষ্ট হয়নি। জাতিসংঘের লিবিয়া বিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি স্টেফানি উইলিয়ামস জানান, কারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো মতৈক্য আসেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ত্রিপোলিতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের সংখ্যা বেশ বেড়েছে, ফলে পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র হামলার আশংকা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার লিবিয়ার অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেইবাহ ও বাশাগা, দুই নেতার ছবিতে ক্রস চিহ্ন দিয়ে মিছিল করেন।

এপ্রিল থেকে ২টি মূল তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও বেশ কিছু তেলখনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

ফলে গ্যাসের উৎপাদন কমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দিনে মাত্র ১২ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকে।