সচিবালয়ে সক্রিয় পিয়নদের প্রতারক চক্র, তদন্তে নেমেছে সরকার

চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সচিবালয়ে কর্মরত প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করতে তদন্তে নেমেছে সরকার। এরইমধ্যে অভিযুক্ত পিয়নদের শুনানির জন্য ডেকেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি।

এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতারকচক্রে জড়িত অন্যদের ধরতে চলছে অভিযান।কর্মঘণ্টা শেষে দেশের প্রশাসনিক সদর দপ্তরে যখন নেমে আসে নীরবতা, তখনই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রতারক চক্রটি। প্রবেশ পথ থেকে চাকরি প্রত্যাশীদের সচিবালয়ের ভেতরে নিয়ে যান পিয়ন কেএম মোর্তুজা আলী রনি। কক্ষের ভেতরে কখনও উপ-সচিব বা যুগ্ম সচিব সেজে বসে থাকেন ফরাশ শাখায় কর্মরত মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। যদিও চতুর্থ শ্রেণির এই দুই কর্মচারীর আসল কাজ কর্মকর্তাদের কক্ষের তালা খোলা ও বন্ধ করা।

ধাপে ধাপে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান ও পদায়নের নির্দেশপত্র তুলে দিয়ে জনপ্রতি ১০ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরে, যোগদানের জন্য চাকরি প্রত্যাশীদের ডেকে নিয়ে সার্ভিস ও বেতন বই খোলা হয়। নেয়া হয় আঙুলের ছাপ। ১মাস পর দেয়া হয় বেতন। এরপর, আর মাইনে পান না চাকরি প্রত্যাশীরা। ধীরে ধীরে প্রতারণার জালে আটকে নাভিশ্বাস ওঠে তারা। এমনই এক ভুক্তভোগী মুসলেহ উদ্দিন।

প্রতারণার শিকার হওয়া মুসলেহ উদ্দিন বলেন, আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমার ছোট বোনের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে এই চক্রটি। এই করুণদশার জন্য সচিবালয়ে পিয়ন পদে কর্মরত প্রতারকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দায়ী।

তিনি বলেন, পিয়ন সচিব সেজে, সচিবের চেয়ারে বসে, রাষ্ট্রীয় খাম, রাষ্ট্রীয় প্যাড ব্যবহার করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমি চাই এর সুষ্ঠু বিচার হোক এবং আমরা আমাদের টাকাগুলো ফেরত পাই।

সম্প্রতি প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মুসলেহ উদ্দিন। গ্রেপ্তার হন শাহিনুল কাদির সুমন, যিনি সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের যোগাড় করে সচিবালয়ে কর্মরত প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। সুমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতারণা ও মাদকের মামলা রয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ৬-৭ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। এ পর্যন্ত পঞ্চাশ জনের বেশি ভুক্তভোগীর খোঁজ মিলেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব-৪ এর আভিযানিক কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, পিয়ন বা এমএলএসএস পদে কর্মরত আছে এমন ব্যক্তিরা বড় বড় কর্মকর্তা সেজে স্বাক্ষর জাল করে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করে। ইন্টারভিউয়ের পর, তাদের আরেক জন ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যারা এক একহাতে নিয়োগপত্র দেন আরেক হাতে টাকা লেনদেন করে।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, নিজ নিজ বিভাগ যদি তাদের কর্মচারীদের ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক প্রতারণার বিষয়টি অনেকটাই কমে যাবে।

এরইমধ্যে প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য পিয়ন শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আরেক অভিযুক্ত প্রতারক পিয়ন কেএম মোর্তুজা আলী রনি আত্মগোপনে। ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে ৩ সদস্যের সরকারি তদন্ত কমিটি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাসান ইবনে সিরাজ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শুনানির জন্য অফিসিয়ালি তলব করা হয়েছে।তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষী প্রমাণিত হলে চাকরি যাওয়ার পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধেও সাজা হতে পারে জড়িতদের। ডিবিসি নিউজ ৯:০০



মন্তব্য চালু নেই