‘সমন্বিত সময়োপযোগি ব্যবস্থা বদলে দিতে পারে বর্তমান দৃশ্যপট’

সমন্বিত সময়োপযোগি ব্যবস্থা বদলে দিতে পারে বর্তমান দৃশ্যপটঃ Next 6 weeks is high time..

১. Dr. Anthony Fauci এর মত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন একজন নেতৃত্বের অধীনে যোগ্য, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, ডাইনামিক একটি ন্যাশনাল টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে হবে যেখানে থাকবেন দেশসেরা এপিডেমিওলজিস্ট, ক্লিনিশিয়ানস, ভাইরোলজিস্ট, মলিকুলার বায়োলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট। মহামারী কালীন সকল কার্যক্রম তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

২. সব জেলাগুলিকে সংক্রমনের মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করতে হবে। রেড, ইয়েলো, গ্রীন।

৩. আন্তঃ জেলার সব যাতায়াত বন্ধ করতে হবে, জরুরি ও খাদ্য পরিবহন আওতামুক্ত। তবে রেড জোন এলাকা ভুক্ত জেলা গুলি তে অতিরিক্ত নজরদারিতে রাখতে হবে।

৪. রুট লেভেল পর্যন্ত সার্ভিলেন্স টিম থাকবে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তার নেতৃত্বে থাকবে।

৫. সার্ভিলেন্স টিম এর অন্যতম কাজ হবে প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের যদি কারো করেনার যেকোন একটি সিম্পটম থাকে তখন তাকে দ্রুত পরীক্ষার আওতাধীন আনতে হবে।

৬. পরীক্ষার জন্য সরকারীর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে পিসিআর ল্যাব এর সংখ্যা বাড়াতে হবে, ইউনিভার্সিটির মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব গুলো ব্যবহার করতে হবে।

এ্যাডভ্যান্স টেকনোলজি ব্যবহার করে মলিকুলার বায়োলজি ও জেনেটিক ল্যাবে আমাদের দেশে যে ধরনের কোভিড সংক্রমিত হয়েছে তার জেনোম সিকিউয়েন্সিং সহজে করতে পারি।

জিন এক্সপার্ট মেশিন গুলিও ব্যবহার করতে হবে এবং গণস্বাস্থ্যের কিট গুলি ইফেকটিভ প্রমানিত হলে সেগুলির ব্যবহার ও বাড়াতে হবে। রুট লেভেল পর্যন্ত পরীক্ষার সুবিধা করতে হবে।

৭. যে সকল রোগির টেস্ট পজিটিভ আসবে অথবা ক্লিনিক্যালি সাসপেক্টেড কিন্তু টেস্ট নেগেটিভ তাদের সবাইকে আইসোলেশন এবং চিকিৎসার অধীনে আনতে হবে।।

৮. প্রতিটি জেলায় একটি করে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল থাকতে হবে। কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় আলাদা প্রশিক্ষিত টিম থাকবে, ডাক্তার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন, যাদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষন দিতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. মাইল্ড সিম্পটম এর রোগীদের বাসায় আইসোলেশন এর সুবিধা থাকলে বাসাতেই চিকিৎসা দিতে হবে তবে সার্বক্ষনিক কোভিড টিম এর তত্ত্বাবধানে থাকবেন।

১০. মডারেট সিম্পটম এর রোগীগুলোকে এবং যাদের বাড়িতে আইসোলেশন এর সুবিধা নেই তাদেরকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এ ভর্তি করতে হবে।

১১. প্রতিটি বিভাগীয় শহরে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এ আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত আইসিইউ থাকতে হবে এবং প্রতিটি জেলা থেকে রেফার্ডকৃত ক্রিটিকাল রোগিদের চিকিৎসা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের আপটুডেটটড চিকিৎসার জ্ঞান রাখতে হবে এবং নিয়মিত ডিজিটাল ওয়েতে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

কোভিড চিকিৎসা প্রটোকল দেশের সব হাসপাতালে একই রকম হতে হবে। সকল বিষয় ন্যাশনাল কমিটির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে এবং তথ্যের সঠিক প্রবাহ থাকতে হবে।

১২. প্রতিটি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অন্যান্য টেস্টের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে যেমন Portable XRay, CBC, RBS, ALT, S. Creatinine, Ddimer, LDH, ECG.

১৩. ঢাকার ক্ষেত্রে আগামী ২/৩ মাসের জন্য ৪/৫ টি ভালোমানের বেসরকারি হাসপাতালকে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রেষনে নিয়োজিত করতে হবে।
কিছু আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সরকারি হাসপাতাল কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।

১৪. প্রতিটি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে কনফার্মড ও সাসপেক্টেড দুই ধরনের রোগীদের আলাদাভাবে রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

১৫. প্রতিটি ননকোভিড হাসপাতালেও ট্রায়েজ সিস্টেম থাকতে হবে। ইমার্জেন্সি Chest Xray, CBC পরীক্ষা করে রোগীদের ভাগ করে ফেলতে হবে, তিনি কোথায় চিকিৎসা পাবেন। এতে রোগীদের ভোগান্তি কম হবে এবং রাস্তায় বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে হবে না।

১৬. কোভিড রোগীদের ৫% ক্রিটিকাল পর্যায়ে যেতে পারে। সুতরাং ভেন্টিলেটর এর সংখ্যা বাড়ানোর দিকে আমাদের মনোযোগ না দিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সাপ্লাই এর ব্যবস্থা করতে হবে। ম্যান বিহাইন্ড দ্যা মেশিন ইজ ইমপোর্টেন্ট। ভেন্টিলেটর চালানোর মত যথেষ্ট ম্যানপাওয়ার আমাদের নাই এবং অল্প সময়ে সে-ধরনের কোন প্রশিক্ষন দেওয়াও সম্ভব নয়।

১৭. জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মিডিয়া, শিল্পীদের এগিয়ে আসতে হবে। সকলকে বোঝাতে হবে করোনা কোন স্টিগমা না। এটা একটি সংক্রামক রোগ, ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে এটি থেকে দুরে থাকা সম্ভব। এই কঠিন সময়ে দূরে দূরে থেকেও সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

১৮. যুদ্ধ ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা যেমন খুব সহজে পরাজয় ডেকে আনতে পারে। করোনার এই মহামারীতেও সকল সমন্বিত প্রয়াস একান্ত জরুরি।

১৯. সর্বোপরি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা যেটা শারীরিক,মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

২০. উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ জেলাগুলো রেড থেকে ইয়োলো এবং গ্রীন জোনে পরিনত হবে এবং আমি আশা করি আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব জেলাগুলো গ্রীন জোনে পরিনত হবে এবং উহানের মতো আমরাও করোনা মুক্তির আনন্দ উৎযাপন করতে পারবো।

ডাঃ মোঃ রোকন-উজ-জামান
এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন),
এমডি (নিউরোলজি)
মেডিসিন ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস এন্ড হসপিটাল, ঢাকা



মন্তব্য চালু নেই