প্রধান ম্যেনু

সিলেটে পানিবন্দী দেড় লাখ মানুষ

দেশের বড় অংশজুড়ে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র মতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট-মৌলভীবাজারে বিদ্যমান বন্যার মধ্যেই দেশের উত্তরাঞ্চল এবং ধীরে ধীরে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আগামী তিনদিন যমুনার পানিও বৃদ্ধি পাবে। এ মাসের শেষের দিকে পানি বাড়বে পদ্মায়ও। তবে ধীরে ধীরে সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এরই মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীতে পানি বাড়ছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলে যমুনা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। যমুনার পানি বাড়ার কারণে উত্তরের পাঁচ জেলা কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে এ মাসে বন্যা হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবারও ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবে। কোথাও কোথাও ভারি ও অতিভারি বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে ভারি বর্ষণের পাশাপাশি উজানের ঢলও আসতে শুরু করেছে বেশ কিছুদিন আগ থেকে। গত কয়েক দিনে সিলেট, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট ও শরীয়তপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে পানিবন্দি হয়েছে অনেক পরিবার। বন্যার সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারে। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তিস্তার পানি বিপত্সীমার ওপরে উঠে প্লাবিত হয়েছে লালমনিরহাটের কয়েকটি গ্রাম।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সিলেটে গতকাল নতুন করে বন্যার পানি বাড়েনি। কিন্তু কুশিয়ারা নদীর পানি না কমায় জেলার বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এর বাইরে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলারও ৪৫টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই