মেইন ম্যেনু

সেনা সরিয়েছে মিয়ানমার, সতর্ক বিজিবি

বান্দরবানের তমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখায় মিয়ানমারের মোতায়েন করা সেনারা সরে গেছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খান।

ওই সীমান্তের নিরাপত্তায় কাজ করা ব্যাটালিয়ানের প্রধান জানান, মিয়ানমারের এই পদক্ষেপে উত্তেজনা আপাতত কমেছে। তবে সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদশে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া যখন শুরুর অপেক্ষা তখন বৃহস্পতিবার দেশটির সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি করে। শূন্য রেখায় ভারী অস্ত্রসহ অবস্থান নেয় কয়েকশ সেনা।

এই সীমান্তের শূন্য রেখাতেই অবস্থান করছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এবং তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা।

এর মধ্যে মিয়ানমারের এই পদক্ষেপে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তবে তবে বাংলাদেশ সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আলাপা-আলোচনা চালিয়ে যায়। শুক্রবার পতাকা বৈঠক করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

সীমান্তের বর্তমান অবস্থা কী?-জানতে চাইলে বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়ানের কমান্ডার শনিবার দুপুর বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নেই। পরিস্থিতি এখন খুবই স্বাভাবিক।’

‘অবস্থা এখন শান্ত। কোনা ধরনের অস্বাভাবিকতা নেই সীমান্তে।’

-পতাকা বৈঠক বিজিবির পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছিল?

-‘আমরা মিয়ানমারকে জানিয়েছি যে, তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে তারা যেন সতর্ক হয়।’

-মিয়ানমার কী বলেছে?

-‘তারা ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক হবে। কোনো কিছু করতে হলে আমাদের জানাবে।’

-তারা হঠাৎ করে কেন শূন্য রেখায় সৈন্য মোতায়েন করল?

-‘আসলে তারা অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। সে কারণে তারা বাড়তি সৈন্য মোতায়েন করেছে। তারা এমনটা আমাদের জানিয়েছে।’

-ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে না হয় সে বিষয়ে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

-‘আমরা মিয়ানমারকে বলেছি আন্তর্জাতিক আইন যেন লঙ্ঘন না হয়। তারাও আমাদের আশ্বস্ত করেছে। ভবিষ্যতে শূন্য রেখায় সৈন্য পাঠাতে হলে তারা আমাদের জানাবে।’

-সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের প্রস্তুতি কী?

-‘আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও আমরা সতর্ক। আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। সব সময়ই আমরা সীমাস্ত সুরক্ষায় প্রস্তুত আছি।’

-বর্তমান প্রেক্ষাপটে সীমান্ত যারা বসবাস করছেন তারা তো একটু ভীতসন্ত্রস্ত।

-‘বর্তমানে ভীতসন্ত্রাস্ত হওয়ার কোনো বিষয় নেই। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত। উদ্বিগ্ন এবং প্যানিকড হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এখন নেই। সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে।’

এদিকে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, মিয়ানমার ভুল তথ্যে সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছিল। তবে এখন তারা ভারী অস্ত্র সরিয়ে নিয়েছে।

আগামী ২৭ মার্চ সীমান্তে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ টহল শুরু হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে দ্রুত।



মন্তব্য চালু নেই